সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি: ড. বদিউল আলম মজুমদার
- আপডেট সময় : ১২:৩১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১৫ বার পড়া হয়েছে

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি: ড. বদিউল আলম মজুমদার
নির্বাচন কমিশনের মৌলিক সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র রক্ষা সম্ভব নয়—রাজশাহীতে সুজনের সংলাপে মন্তব্য
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ ভয়াবহভাবে কলুষিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী নগরীর হোটেল ওয়ারিশানে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী অঙ্গন ও রাজনৈতিক দলগুলোতে কালো টাকার প্রভাব এবং পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও বিপুল অর্থ দিতে না পারায় প্রার্থীরা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট করে।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে জরুরি হলো নির্বাচন কমিশনের সংস্কার। অতীতে নির্বাচন কমিশনের অনেক সদস্য নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে শাসক দলের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায়ন করতেই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অসীম ক্ষমতার অধিকারী হন। সেই পুরোনো ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে হতে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, যার ফলে প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হয়। এর প্রভাবেই দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার স্মরণ করেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত।
সংলাপে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।























