বাগাতিপাড়ায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে দেশি-অতিথি পাখি শিকার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৪১৮ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে দেশি-অতিথি পাখি শিকার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা
ধোপার বিল এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা, জালে আটক পেঁচা-শালিক-বাবুই উদ্ধার
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে দেশি ও অতিথি পাখি শিকারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ এ কর্মকাণ্ডে জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়লেও কার্যকর নজরদারির অভাবে শিকার বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত অভিযান দাবি করেছেন।
উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের শালইপাড়া এলাকার ধোপার বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাখি শিকার চলার অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতাও পাওয়া যায়। বিলের দুই প্রান্তে লাঠির সঙ্গে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বেঁধে টানটান করে পেতে রাখা হয়েছে, যেখানে উড়ে যাওয়ার সময় পাখিগুলো আটকা পড়ছে। পরে শিকারিরা এসব পাখি সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পাঁকা ইউনিয়নের ধোপার বিলের কৃষক সাখওয়াত হোসেনের জমিতে কারেন্ট জালে আটকানো অবস্থায় দুটি পেঁচা, একটি শালিক ও একটি বাবুই পাখি পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি পেঁচা ও একটি বাবুই পাখি মৃত অবস্থায় ছিল। জীবিত একটি শালিক ও একটি পেঁচার শরীরজুড়ে জাল পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর প্রতিনিধি রাশেদুল আলম রুপক এবং স্থানীয় ইউটিউব চ্যানেল চ্যানেল এ-এর নির্বাহী পরিচালক আল-আফতাব খান সুইট স্থানীয় কৃষকদের সহযোগিতায় জালে আটকানো পাখিগুলো উদ্ধার করেন। পরে একটি শালিক ও একটি পেঁচাকে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
জমির মালিক সাখওয়াত হোসেন বলেন, “ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে এসে এসব ফাঁদ চোখে পড়ে। লোকচক্ষুর আড়ালে শিকারিরা জালে ধরা পাখি নিয়ে যায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ অপরাধ বন্ধ হবে না।”
এ জমিতে কাজ করা কৃষক রনি জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি এখানে কাজ করছেন এবং প্রায় প্রতিদিন রাতেই কেউ না কেউ এসে এভাবে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে নিয়ে যায়।
শালইপাড়া এলাকার কৃষক কালাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।”
এ বিষয়ে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ‘সবুজ বাংলা’-র সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, “পাখি শিকার একটি মারাত্মক অপরাধ। এটি জীববৈচিত্র ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “পাখি শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”




















