বড়াইগ্রামে ছয় মাসে হাফ ডজন মোটরসাইকেল চুরি, উদ্ধার হয়নি একটিও
- আপডেট সময় : ০৩:০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪ ২২৭ বার পড়া হয়েছে

বড়াইগ্রামে ছয় মাসে হাফ ডজন মোটরসাইকেল চুরি, উদ্ধার হয়নি একটিও
নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রায় প্রতিদিন মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। আতঙ্ক ও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় মোটরসাইকেল মালিকেরা। চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) লিখিত অভিযোগ করলেও কোন কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের। গত ২৮ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে খাকসা রাহমানিয়া মসজিদে ঈশার নামাজ পড়তে গেলে উপজেলার রোলভা লক্ষীকোল গ্রামের জয়নাল আবেদীন দুলু হাজীর ছেলে মোঃ ফখরুল আবেদীন ফিরোজ’র মসজিদের গেটের সামনে রাখা ১৩৫ সিসির মোটরসাইকেলটি কে বা কাহারা চুরি করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানায় অভিযোগ করলেও তেমন কোন অগ্রগতি দেখছেন না বলে জানান তিনি। পরে গত ২ জুলাই নাটোর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত ছয় মাসে বড়াইগ্রাম থানার বিভিন্ন স্থান হতে প্রায় হাফ ডজন খানেক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। যাহা বড়াইগ্রামের খাকসা -খোকসা, জোনাইল, রাজ্জাক মোর, লক্ষীকোল বাজারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ৫-৬ টি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ চুরির ঘটনাই ঘটেছে দিনের বেলায় ও সন্ধার পরে। চুরি যাওয়া এসব মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চোরদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এর আগে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে উপজেলার বাগডোব গ্রামের আব্দুল আউয়াল মুন্সীর ছেলে আবুল কাশেম মুন্সী রাজ্জাক মোড়ের মসজিদে শুক্রবারে জুম্মার নামাজ পড়তে ঢুকলে মসজিদের সামনে রাখা ডিসকভার ১১০ সিসির মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। এই চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কেউ ধরা পড়েনি।
কুশমাইল ভরট গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে মোঃ আবু সাঈদ গত ১৬ মে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার দিকে রয়না মারর্কাজ মসজিদে সামনে রেখে নামাজ পড়াতে গেলে তার ডিসকভার ১১০ সিসি মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। তার আগের দিন ১৫ মে রয়না গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলের মাহাদী হাসান মিরাজ’র নিজ বাড়ির গেটের সামনে থেকে ওই একই মডেল এর মোটরসাইকেল চুরি যায়। মিরাজ আফসোস করে বলেন বড়াইগ্রামে যেন মোটরসাইকেল চুরির স্বর্গরাজ্য চলছে, যাহা অকল্পনীয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো: রবিউল ইসলাম কিরন বলেন , আমরা সাধারণ বাইকার যারা আছি, তারা দৈনন্দিন কাজের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করি। মোটরসাইকেল কোথাও পার্ক করে রেখে গেলে ও শান্তি পাই না। আতঙ্কে থাকি যে, কখন কে যে, নিয়ে যায়। প্রশাসন এই জায়গায় কেন ব্যর্থ হয় বুঝতে পারছি না। কেন এদের ধরতে পারছে না?’ তা আমাদের জানা নেই। তবে আমার দাবী চোরদের সনাক্তকরণ করে দ্রুতই গ্রেফতার করা উচিত তাহলেই কমতে পারে মোটরসাইকেল চুরি।
এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আজম খানের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগ আমলে নিয়ে চোরদের ধরার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোটরসাইকেল চোর চক্রকে ধরার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ছাড়াও বিশেষ অভিযান চলমান আছে বলে জানান তিনি।




















