ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিংড়ায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সালিশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ নাটোরে ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের ওপর হামলার অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, ইয়াবাসহ ভ্যানচালক আটক পঞ্চগড়ে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় রংপুরে আটক ২ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গু/লি/তে বিজিবি সদস্য আহত রাজশাহীতে অ/স্ত্রসহ আটক কিশোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরু/দ্ধ রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার পুকুরে বি/ষ, ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ রাজশাহীতে সড়ক দু’র্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃ’ত্যু বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান, আ/ত্ম/হ/ত্যার হু’মকি গোদাগাড়ীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, শিশুসহ আহত ৫

রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ, ঝরে পড়ছে আমের গুটি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

তাপদাহে ঝরে পড়ছে আমের গুটি

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ, ঝরে পড়ছে আমের গুটি!

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ, ঝরে পড়ছে আমের গুটি! রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তাপ প্রবাহ। তীব্র গরমে ও তাপদাহে অতিষ্ঠ ও স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেখা নেই বৃষ্টর। বৃষ্টির অভাবে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর মকুল আসে। সেই তুলনায় গুটিও এসেছে প্রচুর, কিন্তু বৃষ্টির অভাবে ঝরে যাচ্ছে এসব গুটি। আম বাগানে গাছের নিচে গেলে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য গুটি ঝরে পড়ে আছে। কোনোভাবে রোধ করতে পারছে না আম চাষিরা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, তাপপ্রবাহের আগে রাজশাহীতে কয়েক দফা বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাই গুটি ঝরার আশঙ্কা একটু কম। যেটুকু ঝরছে সেটা স্বাভাবিক বলেই ধরা হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগ আম চাষিদের গাছ ও গুটির পরিচর্যায় পরামর্শ দিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজশাহীতে আমের চাষাবাদ বেড়েছে। এবার রাজশাহীতে আমের চাষ হয়েছে ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে। গত বছর ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। ২০২২ সালে আম উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৬ হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২ লাখ ২৫ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার হরিয়ানে ১৮টি গাছ নিয়ে আম বাগান রয়েছে মোয়াজ্জেম হোসেনের। তিনি বলেন, এ বছর আমের মুকুল দেরিতে এসেছে। ছয়টি গাছ ছাড়া সব গাছেই ৮০ শতাংশের বেশি আমের গুটি রয়েছে। তবে, বাগানের দক্ষিণের গাছ গুলোর গুটি ঝরেছে। কারণ দক্ষিণের দিকে সূর্যের তাপ বেশি লাগে। আর উত্তরের গাছগুলোতে সূর্যের তাপ কিছুটা লাগলেও ছায়া থাকে বেশি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কৃষি কর্মকতার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিচ্ছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি। এছাড়া গুটির ঝরে পড়া রোধে আমের গাছের গোড়া খুঁড়ে পানি দিচ্ছি। দেখা যাক কতটুকু কাজে লাগে। তবে বৃষ্টির সঙ্গে আবহাওয়াগত একটা ব্যাপার থাকে। বৃষ্টি হলে পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায়। এমন অবস্থায় বৃষ্টির কোনো বিকল্প নাই।
আব্দুস সালাম নামের এক আম ব্যবসায়ী জানান, এ বছর তিনটি বাগানের ৪৫টি গাছ কিনেছেন। তিনি বলেন, মার্চ মাসে বেশ কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এই বৃষ্টি মুকুলের জন্য ভিটামিনের মতো কাজ করেছে। সেই বৃষ্টিতে মুকুলের গায়ে লেগে থাকা মরা ও শুকনা ফুলগুলো ঝরে যায়। একই সঙ্গে আমের পাতা ও মুকুলগুলো বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়। ফলে মুকুল বা গুটিতে এ সময়ে যে বিষ ও পানি স্প্রে করতে হয় সেটি করার প্রয়োজন হয়নি। এ বছর প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছিল। আমের গুটিও ভালো আছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা বাড়ায় আমের গুটি ঝরা শুরু হয়েছে। এখন যে গুটি ঝরছে সেটা বন্ধ না করা গেলে ক্ষতি হয়ে যাবে। কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে আমের বোটার আঠা আরও শুকিয়ে যাবে। এতে করে আরও বেশি আমের গুটি ঝরে যাবে।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম বলেন, মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সোমবার তাপমাত্রা ছিল একই ( ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি) সেলসিয়াস। তার আগের দিন রোববার ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি, শনিবার ৩৮ ডিগ্রি, শুক্রবার ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি ও বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, খরা হলে আমের গুটি ঝরবে এটাই স্বাভাবিক। আমের গুটি ঝরা রোধে আমরা গাছের গোড়ায় পানি দিতে পারি। তাহলে গুটি ঝরা অনেকটাই কমে যাবে। তবে বর্তমানে গাছে প্রচুর আমের গুটি রয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মেই এখান থেকে আরও গুটি ঝরে যাবে। সব গুটি টিকলে আমের গাছ নিতে পারবে না। তবে আমের গুটি ঝরা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, রাজশাহীতে গাছে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। মৌসুমের প্রথমে হওয়া বৃষ্টিতে আমের অনেক উপকার হয়েছে। রাজশাহীতে তাপমাত্রা বাড়ার পরেও আমের গুটি যেটুকু ঝরছে সেটা স্বাভাবিক। কৃষক বা চাষিদের হতাশার কিছু নেই। বেশি গুটি ঝরছে মনে হলে সেচ দিতে হবে। এছাড়া আম চাষিদের গুটি ঝরা রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ, ঝরে পড়ছে আমের গুটি!

আপডেট সময় : ০৬:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩

রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ, ঝরে পড়ছে আমের গুটি!

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ, ঝরে পড়ছে আমের গুটি! রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তাপ প্রবাহ। তীব্র গরমে ও তাপদাহে অতিষ্ঠ ও স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেখা নেই বৃষ্টর। বৃষ্টির অভাবে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর মকুল আসে। সেই তুলনায় গুটিও এসেছে প্রচুর, কিন্তু বৃষ্টির অভাবে ঝরে যাচ্ছে এসব গুটি। আম বাগানে গাছের নিচে গেলে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য গুটি ঝরে পড়ে আছে। কোনোভাবে রোধ করতে পারছে না আম চাষিরা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, তাপপ্রবাহের আগে রাজশাহীতে কয়েক দফা বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাই গুটি ঝরার আশঙ্কা একটু কম। যেটুকু ঝরছে সেটা স্বাভাবিক বলেই ধরা হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগ আম চাষিদের গাছ ও গুটির পরিচর্যায় পরামর্শ দিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজশাহীতে আমের চাষাবাদ বেড়েছে। এবার রাজশাহীতে আমের চাষ হয়েছে ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে। গত বছর ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। ২০২২ সালে আম উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৬ হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২ লাখ ২৫ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার হরিয়ানে ১৮টি গাছ নিয়ে আম বাগান রয়েছে মোয়াজ্জেম হোসেনের। তিনি বলেন, এ বছর আমের মুকুল দেরিতে এসেছে। ছয়টি গাছ ছাড়া সব গাছেই ৮০ শতাংশের বেশি আমের গুটি রয়েছে। তবে, বাগানের দক্ষিণের গাছ গুলোর গুটি ঝরেছে। কারণ দক্ষিণের দিকে সূর্যের তাপ বেশি লাগে। আর উত্তরের গাছগুলোতে সূর্যের তাপ কিছুটা লাগলেও ছায়া থাকে বেশি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কৃষি কর্মকতার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিচ্ছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি। এছাড়া গুটির ঝরে পড়া রোধে আমের গাছের গোড়া খুঁড়ে পানি দিচ্ছি। দেখা যাক কতটুকু কাজে লাগে। তবে বৃষ্টির সঙ্গে আবহাওয়াগত একটা ব্যাপার থাকে। বৃষ্টি হলে পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায়। এমন অবস্থায় বৃষ্টির কোনো বিকল্প নাই।
আব্দুস সালাম নামের এক আম ব্যবসায়ী জানান, এ বছর তিনটি বাগানের ৪৫টি গাছ কিনেছেন। তিনি বলেন, মার্চ মাসে বেশ কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এই বৃষ্টি মুকুলের জন্য ভিটামিনের মতো কাজ করেছে। সেই বৃষ্টিতে মুকুলের গায়ে লেগে থাকা মরা ও শুকনা ফুলগুলো ঝরে যায়। একই সঙ্গে আমের পাতা ও মুকুলগুলো বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়। ফলে মুকুল বা গুটিতে এ সময়ে যে বিষ ও পানি স্প্রে করতে হয় সেটি করার প্রয়োজন হয়নি। এ বছর প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছিল। আমের গুটিও ভালো আছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা বাড়ায় আমের গুটি ঝরা শুরু হয়েছে। এখন যে গুটি ঝরছে সেটা বন্ধ না করা গেলে ক্ষতি হয়ে যাবে। কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে আমের বোটার আঠা আরও শুকিয়ে যাবে। এতে করে আরও বেশি আমের গুটি ঝরে যাবে।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম বলেন, মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সোমবার তাপমাত্রা ছিল একই ( ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি) সেলসিয়াস। তার আগের দিন রোববার ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি, শনিবার ৩৮ ডিগ্রি, শুক্রবার ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি ও বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, খরা হলে আমের গুটি ঝরবে এটাই স্বাভাবিক। আমের গুটি ঝরা রোধে আমরা গাছের গোড়ায় পানি দিতে পারি। তাহলে গুটি ঝরা অনেকটাই কমে যাবে। তবে বর্তমানে গাছে প্রচুর আমের গুটি রয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মেই এখান থেকে আরও গুটি ঝরে যাবে। সব গুটি টিকলে আমের গাছ নিতে পারবে না। তবে আমের গুটি ঝরা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, রাজশাহীতে গাছে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। মৌসুমের প্রথমে হওয়া বৃষ্টিতে আমের অনেক উপকার হয়েছে। রাজশাহীতে তাপমাত্রা বাড়ার পরেও আমের গুটি যেটুকু ঝরছে সেটা স্বাভাবিক। কৃষক বা চাষিদের হতাশার কিছু নেই। বেশি গুটি ঝরছে মনে হলে সেচ দিতে হবে। এছাড়া আম চাষিদের গুটি ঝরা রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।