ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুযোগ এসেছে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ে তোলার: আলী রীয়াজ

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুযোগ এসেছে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ে তোলার: আলী রীয়াজ

গণভোট শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়-তরুণদের সম্পৃক্ত হয়ে জনগণকে বোঝানোর আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারীর

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দেশ। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা হেলায় হারানো যাবে না। এবার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত গণভোট–২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা হয়েছে। তারপরও গণভোট কেন প্রয়োজন-এর কারণ হলো সবাই রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত নন। রাজনৈতিক দলের বাইরেও বিপুল জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মতামত জানার জন্যই গণভোট জরুরি।”

তিনি বলেন, আগামী সাত দিনে কী করা দরকার-সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরবঙ্গে ১০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। “এই দেড় লাখ শিক্ষার্থী যদি পাঁচজন করে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে গণভোট সম্পর্কে জানায়, তাহলে বিষয়টি মোটেও কঠিন নয়। যারা বলেন এসি রুমে বসে গণভোট নিয়ে কিছু করা যাবে না-তাদের সঙ্গে আমি একমত। আপনারাও উদ্যোগ নিন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে জনগণকে বোঝান, যেন তারা গণভোটের পক্ষে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, ১৩ নভেম্বর গণভোট নিয়ে আদেশ জারির পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রচার শুরু করা হয়েছে। “গণভোটকে শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেখবেন না। বাংলাদেশের মানুষ কী পরিমাণ অন্যায় ও অত্যাচার সহ্য করেছে, তা আমরা সবাই জানি। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এর মূল কারণ ছিল-শেখ হাসিনা চাননি আপনি-আমি ভোট দিই।”

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে-পরবর্তী কোনো নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী দলগুলো একত্র হয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে।
“আজও পিএসসি স্বাধীন নয়। একজন বাবা হালের গরু বিক্রি করে সন্তানকে পড়াশোনা করান, কিন্তু ছাত্রলীগের কারণে সে সরকারি চাকরির মুখ দেখতে পায় না। দুর্নীতি দমন কমিশনকে একসময় বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত করা হয়েছিল।”

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা করে নির্বাচনের পথ তৈরি করেছে। “এখন বাকিটা আপনাদের-জনগণের ইচ্ছাতেই আগামীর সরকার গঠিত হবে। সংবিধানকে ছেলেখেলা বানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ পরিবর্তন হতে চায়-এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ জুলাইয়ে তরুণদের মাঠে নামা।”

তিনি বলেন, “যদি আমরা জুলাই শহীদদের প্রতি কোনো দায় অনুভব করি, তাহলে গণভোটের বিষয়টি সবাইকে জানানো আমাদের দায়িত্ব।”

সভায় রাবির উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুযোগ এসেছে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ে তোলার: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুযোগ এসেছে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ে তোলার: আলী রীয়াজ

গণভোট শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়-তরুণদের সম্পৃক্ত হয়ে জনগণকে বোঝানোর আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারীর

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দেশ। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা হেলায় হারানো যাবে না। এবার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত গণভোট–২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা হয়েছে। তারপরও গণভোট কেন প্রয়োজন-এর কারণ হলো সবাই রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত নন। রাজনৈতিক দলের বাইরেও বিপুল জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মতামত জানার জন্যই গণভোট জরুরি।”

তিনি বলেন, আগামী সাত দিনে কী করা দরকার-সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরবঙ্গে ১০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। “এই দেড় লাখ শিক্ষার্থী যদি পাঁচজন করে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে গণভোট সম্পর্কে জানায়, তাহলে বিষয়টি মোটেও কঠিন নয়। যারা বলেন এসি রুমে বসে গণভোট নিয়ে কিছু করা যাবে না-তাদের সঙ্গে আমি একমত। আপনারাও উদ্যোগ নিন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে জনগণকে বোঝান, যেন তারা গণভোটের পক্ষে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, ১৩ নভেম্বর গণভোট নিয়ে আদেশ জারির পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রচার শুরু করা হয়েছে। “গণভোটকে শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেখবেন না। বাংলাদেশের মানুষ কী পরিমাণ অন্যায় ও অত্যাচার সহ্য করেছে, তা আমরা সবাই জানি। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এর মূল কারণ ছিল-শেখ হাসিনা চাননি আপনি-আমি ভোট দিই।”

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে-পরবর্তী কোনো নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী দলগুলো একত্র হয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে।
“আজও পিএসসি স্বাধীন নয়। একজন বাবা হালের গরু বিক্রি করে সন্তানকে পড়াশোনা করান, কিন্তু ছাত্রলীগের কারণে সে সরকারি চাকরির মুখ দেখতে পায় না। দুর্নীতি দমন কমিশনকে একসময় বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত করা হয়েছিল।”

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা করে নির্বাচনের পথ তৈরি করেছে। “এখন বাকিটা আপনাদের-জনগণের ইচ্ছাতেই আগামীর সরকার গঠিত হবে। সংবিধানকে ছেলেখেলা বানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ পরিবর্তন হতে চায়-এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ জুলাইয়ে তরুণদের মাঠে নামা।”

তিনি বলেন, “যদি আমরা জুলাই শহীদদের প্রতি কোনো দায় অনুভব করি, তাহলে গণভোটের বিষয়টি সবাইকে জানানো আমাদের দায়িত্ব।”

সভায় রাবির উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।