বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিরো লাইনে মানবেতর জীবন
- আপডেট সময় : ০৮:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিরো লাইনে মানবেতর জীবন
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যবর্তী জিরো লাইনে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে তারা সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান নেয়।
এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক দফায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ফলে দুই পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন খোলা আকাশের নিচে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতভর বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও তারা কাদা-পানির মধ্যে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তাদের জন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকেই খাবার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। বিজিবির নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে স্থানীয়রাও তাদের কাছে গিয়ে খাবার বা পানি পৌঁছে দিতে পারেননি।
পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম জানান, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তারা চরম কষ্টে রয়েছেন। শিশুদের নিয়ে খোলা মাঠে অবস্থান করতে হচ্ছে এবং অনেক সময় জমে থাকা কাদামিশ্রিত পানি পান করেই দিন পার করতে হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সুরুজ মিয়া এবং নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম। সংকট নিরসনে শনিবার দুপুরে আবারও বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে নারী-পুরুষসহ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে তারা দাবি করেছে, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক। তবে আমরা জানিয়েছি, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হস্তান্তর করতে হবে। রাতের অন্ধকারে এভাবে কাউকে ঠেলে দিলে আমরা তা গ্রহণ করব না।”
তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও মানুষগুলো খোলা মাঠে অবস্থান করছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। বিএসএফ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।”


















