দুই মাস ধরে ভাঙা কালভার্ট, চরম দুর্ভোগে বাগাতিপাড়া পৌরসভার হাজারো মানুষ
- আপডেট সময় : ০৪:০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

দুই মাস ধরে ভাঙা কালভার্ট, চরম দুর্ভোগে বাগাতিপাড়া পৌরসভার হাজারো মানুষ

নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার টুনিপাড়া মহল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কালভার্ট দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো পর্যন্ত সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুনিপাড়া মহল্লার কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার ফলে সড়কটিতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সড়ক ব্যবহার করে পৌরসভার বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এছাড়া কাদিরাবাদ সেনানিবাস, বনপাড়া বিশ্বরোড এবং বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদেরও এই সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টটি সম্পূর্ণ ভেঙে নিচে পড়ে আছে। ফলে অনেক যানবাহন মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ভ্যান ও ছোট যানবাহন কয়েকজন মিলে ঠেলে পার করা হচ্ছে। অনেক সময় কালভার্টের দুই পাশে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। বড় যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে।
স্থানীয়রা জানান, এখনো বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় কোনোভাবে চলাচল করা যাচ্ছে। তবে বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টুনিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “দুই মাসের বেশি সময় ধরে কালভার্টটি ভেঙে পড়ে আছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কেউ এসে খোঁজও নেয়নি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে বাঁশের একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছিলাম, সেটিও ভেঙে গেছে। রাতে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ আলী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ মোটরসাইকেল চলাচল করে। বর্তমানে আম-লিচুর মৌসুম হওয়ায় পণ্যবাহী যানবাহনের চাপও বেড়েছে। দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
ভ্যানচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করতে এই পথ ব্যবহার করি। কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার কারণে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। দ্রুত মেরামত প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাগাতিপাড়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”















