সমাজসেবার আইকন তরুণ সাদী মুহাম্মাদ তামিম পেয়েছেন কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ নানা সম্মাননা
- আপডেট সময় : ১০:০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

সমাজসেবার আইকন তরুণ সাদী মুহাম্মাদ তামিম পেয়েছেন কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ নানা সম্মাননা
ব্যস্ততা ও আত্মকেন্দ্রিক জীবনের এই যুগে অধিকাংশ মানুষ যেখানে শুধুমাত্র নিজের চিন্তায় ব্যস্ত, সেখানে নাটোরের সিংড়া উপজেলার তরুণ সমাজসেবক সাদী মুহাম্মাদ তামিম সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নিঃস্বার্থ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইতোমধ্যে তিনি পেয়েছেন একাধিক দেশি-বিদেশি সম্মাননা ও পুরস্কার।
সর্বশেষ তিনি সমাজসেবায় তার নিরলস অবদান এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন ‘স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’। এই সম্মাননা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২২টি ক্যাটাগরিতে ৫০ জন গুণী ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়।
এর আগে তিনি পেয়েছেন- সোশ্যাল সার্ভিস অনার অ্যাওয়ার্ড ২০২১, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ইনস্পিরেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২১, হিউম্যানিটি অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২২, এবং গ্লোবাল ইয়ুথ আইকন অ্যাওয়ার্ড ২০২৩।
তামিমের সমাজসেবার যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে, কলেজে পড়ার সময় এক রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন,“একদিন দেখলাম, এক ভিক্ষুক আরেক ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিচ্ছে। সেই দৃশ্য আমাকে নাড়া দেয়। ভাবলাম- সে যদি পারে, আমি কেন পারব না? এখান থেকেই আমার সমাজসেবার শুরু।” প্রথমদিকে তার সহযোগী ছিলেন কলেজ শিক্ষক খাইরুল আলম।
তামিম এখন “সিংড়া স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন”-এর প্রতিষ্ঠাতা। এই সংগঠন চলনবিল অঞ্চলের অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে কাজ করছে নীরবে।
তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা ও বই প্রদান, বিনা বেতনে প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থা, রক্তদান কার্যক্রম (যেখানে প্রায় ১,২০০ স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত), করোনাকালীন সময়ে ৪০টি বিদ্যালয়ে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ, ১৩টি বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে ৬ ধরনের ওষুধ সরবরাহ, এবং মাদকবিরোধী প্রচারণা।
তামিম জানান, “আমি নিজ হাতে প্রায় ৫০ জনকে মাদকাসক্তি থেকে ফিরিয়ে এনেছি। তারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বা ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে – এটা আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
সমাজসেবার পথে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লেও থেমে থাকেননি তামিম। এমনকি মাদকবিরোধী কাজ করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন।
তবু তিনি বিশ্বাস করেন- “একটা পুরস্কার কাজের গতি হাজারগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই স্বীকৃতিগুলোই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।”
বর্তমানে তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে আরও ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। পাশাপাশি মহিলা শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন তার সংগঠন।
তামিম মনে করেন, “সমাজ পরিবর্তনে তরুণরাই সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রাপ্তির আশায় নয়, দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করতে হবে। সৎ সাহস আর লক্ষ্য থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব।”




















