ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যালেন্টপুলে কেউ নেই, হতাশ অভিভাবকরা শতভাগ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে গোমস্তাপুরে টাস্কফোর্সের সভা বাগাতিপাড়ায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে শ্রেষ্ঠদের সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান লালপুরে পৃথক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার লালপুরে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে আধুনিকায়ন করে নতুনভাবে সাজানো হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সাপাহারে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ, ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নারীর বসতবাড়ি বাগাতিপাড়ায় ১২ দিন ধরে নিখোঁজ মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে নাটোরে মা ও শিশু সদনে ভাঙচুর, নবজাতকের মৃত্যু গোদাগাড়ীতে সজিনা গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

বাগাতিপাড়ার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যালেন্টপুলে কেউ নেই, হতাশ অভিভাবকরা

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

Bagatipara Parabaria Model Primary School

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যালেন্টপুলে কেউ নেই, হতাশ অভিভাবকরা

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার একমাত্র পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় প্রতি বছরই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এবার ট্যালেন্টপুলে কোনো শিক্ষার্থী স্থান না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বাগাতিপাড়া উপজেলায় মোট ৭০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯৮ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১০৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। ফলাফলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৮ জন ট্যালেন্টপুল ও ৩৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৮ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।

তবে উপজেলার একমাত্র পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়নি। বিদ্যালয়টির মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী সাধারণ (জেনারেল) গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফল করতে পারত এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন সম্ভব হতো। তারা আরও বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক সময় খোলাখুলি কথা বলা সম্ভব হয় না। একসময় বিদ্যালয়টির যে সুনাম ছিল, তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই শিক্ষা কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকতার হোসেন বলেন, উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে না পারা দুঃখজনক। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফিরে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, এ বছর বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে মাত্র দুইজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এমনকি শ্রেণির প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার মে মাসে পরীক্ষা হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে যায়। প্রায় চার মাসের ব্যবধান তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন। আগামী বছর আরও ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আসরাফ বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৫ সালে, আর তিনি এ উপজেলায় যোগদান করেছেন ২০২৬ সালে। যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। তবে এটি মডেল বিদ্যালয় হলেও এর কার্যক্রম প্রত্যাশিত মানের নয়।

প্রধান শিক্ষকের পরীক্ষার সময় পরিবর্তনের যুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, একই সময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তো ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে দুইবার বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যালেন্টপুলে কেউ নেই, হতাশ অভিভাবকরা

আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বাগাতিপাড়ার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যালেন্টপুলে কেউ নেই, হতাশ অভিভাবকরা

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার একমাত্র পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় প্রতি বছরই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এবার ট্যালেন্টপুলে কোনো শিক্ষার্থী স্থান না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বাগাতিপাড়া উপজেলায় মোট ৭০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯৮ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১০৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। ফলাফলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৮ জন ট্যালেন্টপুল ও ৩৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৮ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।

তবে উপজেলার একমাত্র পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়নি। বিদ্যালয়টির মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী সাধারণ (জেনারেল) গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফল করতে পারত এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন সম্ভব হতো। তারা আরও বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক সময় খোলাখুলি কথা বলা সম্ভব হয় না। একসময় বিদ্যালয়টির যে সুনাম ছিল, তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই শিক্ষা কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকতার হোসেন বলেন, উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে না পারা দুঃখজনক। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফিরে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, এ বছর বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে মাত্র দুইজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এমনকি শ্রেণির প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার মে মাসে পরীক্ষা হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে যায়। প্রায় চার মাসের ব্যবধান তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন। আগামী বছর আরও ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আসরাফ বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৫ সালে, আর তিনি এ উপজেলায় যোগদান করেছেন ২০২৬ সালে। যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। তবে এটি মডেল বিদ্যালয় হলেও এর কার্যক্রম প্রত্যাশিত মানের নয়।

প্রধান শিক্ষকের পরীক্ষার সময় পরিবর্তনের যুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, একই সময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তো ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে দুইবার বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।