ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক লাঞ্ছনা: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন, সব কার্যক্রম বন্ধ

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০১ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষক লাঞ্ছনা: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন, সব কার্যক্রম বন্ধ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা পুনর্বহাল ও শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচারের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন শুরু করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে সব কার্যক্রম স্থগিত রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

মানববন্ধনে তাঁরা শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার (পোষ্য কোটা) দাবি জানান। শিক্ষক লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িত প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিও জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
এ সময় অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, এই প্রশাসন এই ৯ মাসে অনেক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার একটিও আলোর মুখ দেখেনি। আমরা আর তদন্ত কমিটিতে ক্ষান্ত থাকতে চাই না। বিচার নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরব।

ইউট্যাব রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা যদি এর (শিক্ষক লাঞ্ছনা) সুষ্ঠু বিচার না করতে পারি; তাহলে ভবিষ্যতে আমাদেরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে। আমাদের দাবি হলো চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীদের (লাঞ্ছনায় জড়িতরা) স্থায়ী বহিষ্কার এবং যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া যারা রাকসু নির্বাচনে প্রার্থী আছে, তাদের প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, আমরা আজ ছাত্রদের কর্তৃক আমাদের উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মারধর ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এখানে দাঁড়িয়েছি ৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি বিচার করা না হয়, তাহলে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটবে। তিনি বলেন, আমরাও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছি। শুধু ছাত্ররাই করেনি। বাংলাদেশের সব জায়গায় যদি এই সুবিধা থাকে, তাহলে আমাদের এখানেও থাকতে হবে।

এদিকে সরেজমিন দেখা যায়, প্রশাসন ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও উপ-উপাচার্যের (প্রশাসন) দপ্তরসহ সব দপ্তর তালাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে চিকিৎসা, পরিবহনসহ জরুরি সেবাসমূহ কর্মসূচির আওতামুক্ত রয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। পরে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও অফিসার্স সমিতি কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই অবস্থান ও মানববন্ধন পালন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিক্ষক লাঞ্ছনা: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন, সব কার্যক্রম বন্ধ

আপডেট সময় : ০১:১৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শিক্ষক লাঞ্ছনা: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন, সব কার্যক্রম বন্ধ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা পুনর্বহাল ও শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচারের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন শুরু করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে সব কার্যক্রম স্থগিত রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

মানববন্ধনে তাঁরা শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার (পোষ্য কোটা) দাবি জানান। শিক্ষক লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িত প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিও জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
এ সময় অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, এই প্রশাসন এই ৯ মাসে অনেক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার একটিও আলোর মুখ দেখেনি। আমরা আর তদন্ত কমিটিতে ক্ষান্ত থাকতে চাই না। বিচার নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরব।

ইউট্যাব রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা যদি এর (শিক্ষক লাঞ্ছনা) সুষ্ঠু বিচার না করতে পারি; তাহলে ভবিষ্যতে আমাদেরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে। আমাদের দাবি হলো চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীদের (লাঞ্ছনায় জড়িতরা) স্থায়ী বহিষ্কার এবং যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া যারা রাকসু নির্বাচনে প্রার্থী আছে, তাদের প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, আমরা আজ ছাত্রদের কর্তৃক আমাদের উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মারধর ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এখানে দাঁড়িয়েছি ৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি বিচার করা না হয়, তাহলে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটবে। তিনি বলেন, আমরাও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছি। শুধু ছাত্ররাই করেনি। বাংলাদেশের সব জায়গায় যদি এই সুবিধা থাকে, তাহলে আমাদের এখানেও থাকতে হবে।

এদিকে সরেজমিন দেখা যায়, প্রশাসন ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও উপ-উপাচার্যের (প্রশাসন) দপ্তরসহ সব দপ্তর তালাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে চিকিৎসা, পরিবহনসহ জরুরি সেবাসমূহ কর্মসূচির আওতামুক্ত রয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। পরে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও অফিসার্স সমিতি কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই অবস্থান ও মানববন্ধন পালন করেন।