শহীদ মিনারের পদদেশ থেকে কুলি ফরহাদের রক্তক্ত মরদেহ উদ্ধার!
- আপডেট সময় : ০১:১৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩ ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

শহীদ মিনারের পদদেশ থেকে কুলি ফরহাদের রক্তক্ত মরদেহ উদ্ধার!
নাটোর প্রতিনিধিঃ
শহীদ মিনারের পদদেশ থেকে কুলি ফরহাদের রক্তক্ত মরদেহ উদ্ধার! নাটোরের হয়বতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পদদেশে থেকে ফরহাদ খন্দকার (২৮) নামে এক কুলি শ্রমিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ মার্চ) মধ্য রাতে ঐখানে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গ্রাম পুলিশকে পাহারায় রাখে। বুধবার (২২ মার্চ) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন নিহতের সজন সহ এলাকাবাসী। নিহত ফরহাদ খন্দকার হয়বতপুর এলাকার মৃত মোসলেম খন্দকারের ছেলে এবংন সে কুলি শ্রমিক ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ফরহাদ খন্দকার বাড়ির পাশেই হয়বতপুর বাজারে সবজি আড়তে কুলি শ্রমিকের কাজ করতেন। মঙ্গলবার দিন শেষে রাতেও আড়তে কাজ করে ফরহাদ। রাতে কে বা কারা ফরহাদকে হত্যা করে সবজি আড়তের অদুরে হয়বতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে রক্তাক্ত মরদেহটি ফেলে রেখে যায়। বুধবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। নিহতের ঘার ও পাঁজরে দুইটি আঘাত বা ফুটো চিহ্ন রয়েছে। প্রচুর রক্ত ক্ষরনও হয়েছে। এটি গুলিবিদ্ধের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বলেছে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে কিভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাবাসীদের ধারনা পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
আক্কাস আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এলাকার ফরহাদ শিকদারের স্ত্রীর সাথে ফরহাদ খন্দকারের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে ফরহাদ শিকদারের স্ত্রীকে ফরহাদ খন্দকার ভাগিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সমঝোতা করে ফাহাদ শিকদারের বউকে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিলই। এ নিয়ে ফরহাদ খন্দকারকে মাঝে মধ্যে শাসিয়ে যেতো শিকদার। এই পরকীয়ার জেরে এই হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তার ধারনা।
নিহত ফরহাদের স্ত্রী লুৎফুন নাহার জানান, তার স্বামী প্রতিদিন কাজ শেষে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার সমধ্যে বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্ত গতরাতে ফিরতে দেরি দেখে বার বার তাকে মোবাইল ফোন করা হয়। কিন্ত তাকে পাওয়া যায়না। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত দেড়টজাখুজি স্কুলের শহীদ মিনারের পাশে তার রক্তাত মরদেহ দেখতে পান। তিনি আরও বলেন, রাতে পরপর দুইটি বিকট শব্দ শুনেছেন তারা। তার স্বামীর হত্যার জন্য ফরহাদ খন্দকারের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, ফরহাদ শিকদারের বউয়ের সাথে সম্পর্ক করায় শিকদার তার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। বেশ কিছুদিন ধরে শিকদার তার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল। তিনি তার স্বামীর হত্যাকারী ফরহাদ শিকদারের বিচার দাবী করেন। নিহতের ভাই-বোনও ফরহাদের হত্যার জন্য ফরহাদ শিকদারকে দায়ী করে তার বিচার দাবী করেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালু বলেন, গভীর রাতে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ফরহাদের লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি ধারনা করছেন। এই হত্যার সাথে যারা জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকালীদের চিহ্নিত করে বিচার দাবী করেন তিনি।
নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছিম আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রক্তাত লাশ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি একটা হত্যকাণ্ড। কিন্তু কি কারনে কে বা কারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। এটি গুলিবিদ্ধের ঘটনাও হতে পারে। ময়না তদন্তের পর এর আসল কারণ জানা যাবে। স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদের সিসি ফুটেজ দেখে বিষয়টি উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।




















