লালপুরে রহস্যজনকভাবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, বাবাও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে
- আপডেট সময় : ১১:২১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

লালপুরে রহস্যজনকভাবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, বাবাও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে
মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্তে পুলিশ, এলাকায় চাঞ্চল্য
নাটোরের লালপুরে রহস্যজনকভাবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু এবং তাদের বাবার গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত দুই শিশু হলো উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মরজেম আলীর ছেলে তুহিন (৮) ও তুষার (৪)। বর্তমানে তাদের বাবা মরজেম আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৩ জুলাই মরজেম আলীর স্ত্রী তুলি বেগম বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে মরজেম আলী নিজেই দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন এবং রান্নাবান্নাসহ তাদের দেখাশোনা করছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই দিবাগত রাতে বড় ছেলে তুহিন কলা ও চিড়া খায়। অন্যদিকে মরজেম আলী ও ছোট ছেলে তুষার আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তুহিন হঠাৎ বমি করতে শুরু করলে মরজেম আলী প্রতিবেশী চাচা মজনুর সহায়তায় তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. ওয়ালিউজ্জামান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তুহিনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় স্থানীয় চকশেরপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তুহিনকে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর ছোট ভাই তুষারও বমি করতে করতে অচেতন হয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সাজিবুর রহমান প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে ১৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ জুলাই সকালে তুষারের মৃত্যু হয়।
এদিকে, ছোট ছেলের মরদেহ নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর বাবা মরজেম আলী হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় রহস্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের দুই শিশুর অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যু এবং বাবার অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এবং তাদের বাবার অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















