টেন্ডার ছাড়াই উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের অভিযোগ বোদা ইউএনওর বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৮:১১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

টেন্ডার ছাড়াই উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের অভিযোগ বোদা ইউএনওর বিরুদ্ধে
‘১ কোটি ৪১ লাখ টাকার কাজ নিজেই বাস্তবায়ন’-ভুয়া বিল-ভাউচারে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ টেন্ডার ছাড়াই নিজ উদ্যোগে বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ না করে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বোদা উপজেলা প্রশাসনের জন্য তিনটি খাতে মোট ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে- উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অফিস, বাসভবন, গ্যারেজ, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, রাস্তা ও ঘাটলা সংস্কারের জন্য ৫০ লাখ টাকা, অনগ্রসর উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৫০ লাখ টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চতুর্থ কিস্তিতে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, এসব অর্থ উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নির্দেশিকা, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) এবং অন্যান্য সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে বাস্তবায়নের কথা।
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজের জন্য কোনো উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়নি। বরং ইউএনও নিজেই শ্রমিক ও মিস্ত্রি নিয়োগ দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করছেন। এতে সরকার যেমন সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তেমনি স্থানীয় ঠিকাদাররাও প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজের সুযোগ পাননি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা শিশু পার্কে লেক নির্মাণ, বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জাম স্থাপন, পার্ক সংস্কার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ির গ্যারেজ ও চালকের কক্ষ নির্মাণ, অডিটোরিয়ামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্থাপন, রাস্তা সংস্কার এবং আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত মিস্ত্রি প্রদীপ মালাকার বলেন, শিশু পার্কের গেটের দুটি ড্রাগন, লেকের কারুকাজ এবং পার্কের কিছু সংস্কারকাজের জন্য ইউএনও স্যারের সঙ্গে এক লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছে। প্রায় ২০ দিন ধরে কাজ করছি।
আরেক নির্মাণশ্রমিক রশিদুল ইসলাম বলেন, ইউএনওর গাড়ির গ্যারেজ, ড্রাইভারের রুম, পার্কের সংস্কার ও লেক নির্মাণের কাজে প্রায় দেড় মাস ধরে হাজিরাভিত্তিক কাজ করছি। অফিস থেকেই টাকা দেওয়া হচ্ছে। মিস্ত্রির দৈনিক মজুরি ৭০০ টাকা এবং শ্রমিকদের ৫০০ টাকা। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১০ জন কাজ করেন।
বোদা উপজেলা প্রকৌশলী জগবন্ধু রায় বলেন, বিশেষ বরাদ্দের অর্থের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অভিযোগ অস্বীকার করে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের নিজেরা কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। সব কাজই সরকারি নিয়ম মেনে করা হচ্ছে। পিআইসি, আরএফকিউ অথবা টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। যারা ঠিকাদার, তারাই কাজ করছেন।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র যাচাই এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



















