পঞ্চগড়ে ২৭ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরিবারের গুরুতর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে ২৭ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরিবারের গুরুতর অভিযোগ
পরিচয় গোপন করে ফোনে অবস্থান জানানো ও পরে অস্বীকারের দাবি; তদন্তের দাবি স্বজনদের
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের নতুনহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা (১৪) গত ২৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবার।
এ ঘটনায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের দাবি, তাহমিনার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক অবগত রয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন সকালে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় তাহমিনা। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে বিদ্যালয় ও সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবার জানতে পারে, সেদিন সে স্কুলেও পৌঁছায়নি। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমান নিজের পরিচয় গোপন করে তাহমিনার দাদীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন। ফোনে তিনি কখনও বলেন, তাহমিনা চট্টগ্রামে আছে, আবার কখনও বলেন, ঢাকায় ভালো আছে। এমনকি মেয়েটিকে খোঁজাখুঁজি না করারও পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের আরও দাবি, পরে তারা কণ্ঠস্বর শনাক্ত করে বুঝতে পারেন, ফোনদাতা ছিলেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি জানতে তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন এবং পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বের করে দেন।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর দাদী সমিজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আদরের নাতনি সবসময় আমার সঙ্গেই থাকত। আজ ২৭ দিন ধরে সে নিখোঁজ। ফজলার মাস্টার ফোন করে নাতনির খবর দিয়েছে, আবার নানা অসংলগ্ন ও খারাপ কথাও বলেছে। আমি যা টাকা লাগে দিতে চেয়েছি। এখন তিনি সব অস্বীকার করে উল্টো হুমকি দিচ্ছেন। আমার নাতনিটাকে ফিরিয়ে দিন, আর কিছু চাই না।
তাহমিনার মা রুনা বেগম বলেন, মেয়েটা স্কুলে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক পরিচয় গোপন করে ফোন দিয়ে বলেন, আমার মেয়ে তার কাছে আছে, তবে তার কথা শোনে না। পরে আমরা দেখা করতে গেলে তিনি গালাগালি ও হুমকি দিয়ে বের করে দেন। আমরা গরিব মানুষ। থানায় জানিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমার মেয়েকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সবার কাছে আবেদন করছি।
তাহমিনার বাবা আলতাবুর বলেন, মেয়েকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু উদ্ধার করতে পারিনি। উল্টো এখন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামছুল আলম বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নতুনহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগও অস্বীকার করে বলেন, যে নম্বর থেকে কল করার কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমার নম্বর নয়, আমার চাচার নম্বর। কল রেকর্ডে আমার কণ্ঠস্বর থাকার অভিযোগও সঠিক নয়। কেউ হয়তো আমার কণ্ঠ নকল করে কথা বলেছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কিছুদিন আগে পরিবার মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিল। সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধান করছেন।



















