সংবাদ প্রকাশের পরই শুরু ভাঙা কালভার্টের সংস্কার, স্বস্তি ফিরছে বাগাতিপাড়ার ১০ গ্রামের মানুষের জীবনে
- আপডেট সময় : ০৩:১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ প্রকাশের পরই শুরু ভাঙা কালভার্টের সংস্কার, স্বস্তি ফিরছে বাগাতিপাড়ার ১০ গ্রামের মানুষের জীবনে
দুই মাসের দুর্ভোগের অবসান, দ্রুত উদ্যোগে প্রশংসায় উপজেলা প্রশাসন
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরই নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার টুনিপাড়া মহল্লার দীর্ঘদিনের ভাঙা কালভার্ট সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে কালভার্টটি ভেঙে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়লেও বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি। অবশেষে বিষয়টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে এবং দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কাটিয়ে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের জীবনে।
গত ৬ জুলাই কয়েকটি বাংলা-ইংরেজী জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে “বাগাতিপাড়ায় দুই মাস ধরে পড়ে আছে ভাঙা কালভার্ট” শিরোনামে এবং “দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ” উপশিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে কালভার্টটির সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরার ফলেই দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। যদিও সংস্কারকাজ এখনও শেষ হয়নি, তবে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া অংশ দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার কারণে টুনিপাড়া মহল্লাসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। কাদিরাবাদ সেনানিবাস, বনপাড়া বিশ্বরোড, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও কর্মস্থলে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় মোটরসাইকেল ও ভ্যান ঠেলে পার হতে হয়েছে, আর বড় যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
টুনিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, এই সড়কটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালভার্টটি সংস্কার হলে শুধু টুনিপাড়া নয়, আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও দেশ রূপান্তরকে ধন্যবাদ জানাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাগাতিপাড়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক এই সংবাদকর্মীকে বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কালভার্টটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এমন সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা সবসময় আন্তরিক। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হলে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান সম্ভব। বর্তমানে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী, যাতে বহুদিনের ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটে।



















