ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জেলা সফরের মধ্যেই চকরিয়ায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি, এলাকায় চাঞ্চল্য সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনওর সহায়তা পেলেন সাপাহারে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নারী মোহনপুরে ৩১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, পালাল সহযোগী গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানিতে ডুবে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার বাগাতিপাড়ার শেষ কারিগর বিশ্বরূপ, তাঁর হাতেই টিকে আছে শতবর্ষী কাঠের চাকার ঐতিহ্য পঞ্চগড়ে আলোচিত মানিক হ/ত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি, বড় বোন গ্রেপ্তার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ঠাকুরগাঁওয়ে ডিসি অফিসের কর্মচারী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আদালতের তলব সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর নিহত, গ্রামে শোকের মাতম রায়পুরায় নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসার চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু

লালপুরে ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হলো বিদায়ী ইমামকে

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ ৩৮৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালপুরে ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হলো বিদায়ী ইমামকে

নাটোরের লালপুরে ৪০ বছর ইমামতি শেষে মসজিদের ইমামকে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়ে ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসময় গ্রামের নারী-পুরুষরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জম্মা উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের গোসাইপুর-মিল্কিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম জিল্লুর রহমানের (৭০) সম্মানে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেন। জিল্লুর রহমান উপজেলার আড়বাব গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে জিল্লুর রহমান ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বার্ধক্য জনিত কারণে নিজে থেকে স্বেচ্ছায় ইমামের দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় এলাকাবাসী তার সম্মানে তাকে সংবর্ধনা দেন। পরে বিকালে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়। এসময় এলাকার মুরব্বিসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে করে ও পেছনে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তার বাড়ি আড়বাব গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন।

এবিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, জিল্লুর রহমান দীর্ঘ ৪০ বছর তাদের মসজিদে ইমামতি ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এখন বার্ধক্যে পৌঁছেন। তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশে ছিলেন। গ্রামবাসী তার পরামর্শ নিয়ে কাজকর্ম করতেন। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। তাই তাকে বিদায় বেলায় রাজকীয় ভাবে সম্মানিত করার চেষ্টা করেছি।

ইমাম জিল্লুর রহমান আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি সারাজীবন দ্বীনের সেবায় কাটিয়েছি। এই এলাকার মানুষকে কুরআন শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছি। আমার অনেক বয়স হয়েছে, যে কোনো সময় আপনাদের ছেড়ে পরকালে যেতে হবে, তাই সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে আগে বুঝে উঠতে পারিনি। আল্লাহ পাক আমাকে এ সম্মান দিলেন। তার দরবারে হাজারো শুকরিয়া। আমি তাদের এতো ভালোবাসায় সত্যিই মুগ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লালপুরে ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হলো বিদায়ী ইমামকে

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

লালপুরে ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হলো বিদায়ী ইমামকে

নাটোরের লালপুরে ৪০ বছর ইমামতি শেষে মসজিদের ইমামকে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়ে ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসময় গ্রামের নারী-পুরুষরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জম্মা উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের গোসাইপুর-মিল্কিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম জিল্লুর রহমানের (৭০) সম্মানে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেন। জিল্লুর রহমান উপজেলার আড়বাব গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে জিল্লুর রহমান ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বার্ধক্য জনিত কারণে নিজে থেকে স্বেচ্ছায় ইমামের দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় এলাকাবাসী তার সম্মানে তাকে সংবর্ধনা দেন। পরে বিকালে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়। এসময় এলাকার মুরব্বিসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে করে ও পেছনে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তার বাড়ি আড়বাব গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন।

এবিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, জিল্লুর রহমান দীর্ঘ ৪০ বছর তাদের মসজিদে ইমামতি ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এখন বার্ধক্যে পৌঁছেন। তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশে ছিলেন। গ্রামবাসী তার পরামর্শ নিয়ে কাজকর্ম করতেন। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। তাই তাকে বিদায় বেলায় রাজকীয় ভাবে সম্মানিত করার চেষ্টা করেছি।

ইমাম জিল্লুর রহমান আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি সারাজীবন দ্বীনের সেবায় কাটিয়েছি। এই এলাকার মানুষকে কুরআন শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছি। আমার অনেক বয়স হয়েছে, যে কোনো সময় আপনাদের ছেড়ে পরকালে যেতে হবে, তাই সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে আগে বুঝে উঠতে পারিনি। আল্লাহ পাক আমাকে এ সম্মান দিলেন। তার দরবারে হাজারো শুকরিয়া। আমি তাদের এতো ভালোবাসায় সত্যিই মুগ্ধ।