রায়গঞ্জের গ্রামপাঙ্গাসীতে এখনো লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া
- আপডেট সময় : ১১:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

রায়গঞ্জের গ্রামপাঙ্গাসীতে এখনো লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া
১৭ বছরেও হয়নি সড়ক পাকা, সুপেয় পানির সংকট ও কৃষি সেবাবঞ্চনায় দুর্ভোগে চাঁদপাড়া-কারিগরপাড়ার মানুষ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত একটি গ্রামের নাম গ্রামপাঙ্গাসী চাঁদপাড়া-কারিগরপাড়া। উপজেলার ৮ নম্বর পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই গ্রামের মানুষ এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘ ১৭ বছর পার হলেও গ্রামটির সড়কগুলো পাকা করা হয়নি। একই সঙ্গে কৃষি খাতের উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও মৌলিক সেবার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার বা পাকা না হওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং অসুস্থ রোগীরা প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি গ্রামে সুপেয় পানির সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। অকেজো হয়ে পড়ে আছে গ্রামের গভীর নলকূপটিও। ফলে কৃষি ও জনস্বাস্থ্য—দুই খাতেই ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন, মো. আজিজুল হক ও মো. আব্দুল খালেক জানান, গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে পারে না। অনেককে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার হেঁটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের দুর্ভোগের বিষয়ে উদাসীন। গ্রামে প্রবেশের জন্য একাধিক রাস্তা থাকলেও সেগুলোর কোনোটিই এখনো পাকা করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামপাঙ্গাসী ছয়আনী ব্রিজ থেকে চাঁদপাড়া জামে মসজিদ হয়ে দক্ষিণপাড়া ঘোড়াতলা পর্যন্ত সড়ক এবং নিজামগাতী থেকে গ্রামপাঙ্গাসী বাজার পর্যন্ত সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এসব রাস্তা ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর ধরে এগুলোর উন্নয়ন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পাশের পুকুরে চলে গেছে। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর। কোনো ফায়ার সার্ভিস বা মাইক্রোবাসও সহজে চলাচল করতে পারে না। বৃষ্টি হলে রাস্তার গর্তে কাদা-পানি জমে যায়, ফলে পায়ে হেঁটেও যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি জরুরি রোগীকেও সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া যায় না।
অটোরিকশা চালক মোস্ত. সাইফুল ও সোহেল বলেন, বর্ষাকালে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা সবচেয়ে বেশি কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীদের জন্য এই দুর্ভোগ আরও বেশি।
গ্রামপাঙ্গাসী চাঁদপাড়া-কারিগরপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি ডাক্তার গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমরা গ্রামবাসী চরম ভোগান্তিতে আছি। আমাদের যাতায়াতের কষ্ট নিজ চোখে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন ও সরোয়ার্দি বলেন, শুধু গ্রামপাঙ্গাসী নয়, আশপাশের পুরো এলাকার মানুষই নতুন ও টেকসই সড়ক চান।
এদিকে গ্রামপাঙ্গাসী গ্রামের আব্দুল মালেক জানান, পাশের গ্রাম শ্রীদাসগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে চাইলেও সড়ক না থাকায় অনেক অভিভাবক তা করতে পারেন না। বাধ্য হয়ে দূরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, গ্রামপাঙ্গাসী চাঁদপাড়া থেকে শ্রীদাসগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত নতুন একটি সড়ক নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি মিরের দেউলমূড়া ছয়আনী ব্রিজ থেকে চাঁদপাড়া জামে মসজিদ হয়ে দক্ষিণপাড়া ঘোড়াতলা পর্যন্ত এবং নিজামগাতী থেকে গ্রামপাঙ্গাসী বাজার পর্যন্ত সড়ক দ্রুত পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এমতাবস্থায় এলাকার মানুষ মাননীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে গ্রামপাঙ্গাসী চাঁদপাড়া-কারিগরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করা হয়।




















