ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিংড়া থেকে হজযাত্রী নিয়ে মাছুম এয়ার ট্রাভেলসের যাত্রা শুরু বনপাড়ার পাওয়ার গ্রিড ডাকাতি: জেলখানায় বসেই পরিকল্পনা, ১৩ সদস্য গ্রেপ্তার আ’হত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে রাবি মেডিকেলে তালা রাঙামাটিতে সাংগ্রাই জল উৎসবে মাতোয়ারা মারমা তরুণ-তরুণী রায়গঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই দরিদ্র কৃষকের ঘরবাড়ি পঞ্চগড়ে মাদকসহ ৩ জন আটক, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ মোট ৪ জন গ্রেপ্তার রাজশাহীতে আলুর স্তূপে পচন, গরমে লোকসানের বোঝা বাড়ছে কৃষকের গোদাগাড়ীতে ডিজেল সংকটে নৌকা চলাচল বন্ধের পথে, অচল পদ্মা-মহানন্দার চরাঞ্চল রাজশাহীতে ক্রেতা সেজে অভিযান: তেল মজুদকারী আটক, জরিমানা ৫ হাজার টাকা সিংড়ায় পুকুরে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের ম/র্মা/ন্তি/ক মৃ’ত্যু

রামেক হাসপাতালে সা পে র কা ম ড়ে চলতি বছরে ৪১৬ জন ভর্তি, সুস্থতার হার ৭০ শতাংশ

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪ ২২০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রামেক হাসপাতালে সা পে র কা ম ড়ে চলতি বছরে ৪১৬ জন ভর্তি, সুস্থতার হার ৭০ শতাংশ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪১৬ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছে। বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন ৭৩ জন, তাদের মধ্যে ১৮ জনকে দংশন করেছিল চন্দ্রবোড়া সাপ। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে ১১ জন। চন্দ্রবোড়ার দংশনে মারা যান পাঁচজন। সাপের কামড়ে সুস্থতার হারও ৭০ শতাংশ। গতকাল বুধবার (১০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে রাসেলস ভাইপার নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অসংক্রমক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন মূল বক্তব্য তুলে ধরেন।

সংবাদসম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ৪ লাখের অধিক মানুষ প্রতি বছর সাপের কামড়ের শিকার হন। এতে মারা যান প্রায় সাড়ে সাত হাজার। সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপার নিয়ে সারাদেশে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছে। এতে করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে সর্পদংশন নীতিগতভাবে একটি স্বীকৃত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। তবে এখনো পদ্মার তীরসংলগ্ন এলাকায় রাতভর রাসেলস ভাইপার সাপের ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনা যায়। সবার মধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাপ আতঙ্কে জেলায় ক্ষেতের ফসল তুলতে ভয়ে মাঠে নামছেন না চাষিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৩১ মে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মেরামতপুরে মাঠে চোয়ালে রাসেলস ভাইপার সাপের ছোবল খান হেফজুল আলী নামে এক কৃষক। সাপটিকে মেরে সঙ্গে নিয়ে দেড় ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তিনদিন আইসিইউতে থেকে এখন অনেকটাই সুস্থ হেফজুল। তবে শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি এখনো চোয়ালে ব্যথা আছে তার।

গত ৭ মে চারঘাটে শাকিনুর রহমান সাব্বির নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মারা যান বিষধর ওই সাপের ছোবলে। একসময় বিলুপ্তপ্রায় চন্দ্রবোড়া জাতের ওই সাপটি রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পাওয়া গেলেও এখন আশপাশের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে চরম আতঙ্কিত চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সাপের ছেবলে ৩৬২ জন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে ৪৩ জন মারা যান। এরমধ্যে রাসেল ভাইপার সাপের ছোবলে মারা গেছেন ১৮ জন। ২০২৪ সালে এ পর্যন্ত সাপের কামড় খেয়ে ৩১৫ জন রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন। আর শুধু রাসেলস ভাইপারের ছোবলে মারা গেছেন পাঁচজন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সাপ গবেষক ও প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস রোমান বলেন, প্রাণঘাতীর তালিকায় রাসেলস ভাইপার সাপের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। তাই এই সাপ দেখা মাত্র না মেরে বন বিভাগ বা তাদের খবর দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএমও ইনচার্জ শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিভেনাম রাখা হয়েছে। রাসেলস ভাইপার সাপে কাটা রোগীদের ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রামেক হাসপাতালে সা পে র কা ম ড়ে চলতি বছরে ৪১৬ জন ভর্তি, সুস্থতার হার ৭০ শতাংশ

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪

রামেক হাসপাতালে সা পে র কা ম ড়ে চলতি বছরে ৪১৬ জন ভর্তি, সুস্থতার হার ৭০ শতাংশ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪১৬ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছে। বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন ৭৩ জন, তাদের মধ্যে ১৮ জনকে দংশন করেছিল চন্দ্রবোড়া সাপ। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে ১১ জন। চন্দ্রবোড়ার দংশনে মারা যান পাঁচজন। সাপের কামড়ে সুস্থতার হারও ৭০ শতাংশ। গতকাল বুধবার (১০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে রাসেলস ভাইপার নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অসংক্রমক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন মূল বক্তব্য তুলে ধরেন।

সংবাদসম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ৪ লাখের অধিক মানুষ প্রতি বছর সাপের কামড়ের শিকার হন। এতে মারা যান প্রায় সাড়ে সাত হাজার। সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপার নিয়ে সারাদেশে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছে। এতে করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে সর্পদংশন নীতিগতভাবে একটি স্বীকৃত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। তবে এখনো পদ্মার তীরসংলগ্ন এলাকায় রাতভর রাসেলস ভাইপার সাপের ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনা যায়। সবার মধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাপ আতঙ্কে জেলায় ক্ষেতের ফসল তুলতে ভয়ে মাঠে নামছেন না চাষিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৩১ মে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মেরামতপুরে মাঠে চোয়ালে রাসেলস ভাইপার সাপের ছোবল খান হেফজুল আলী নামে এক কৃষক। সাপটিকে মেরে সঙ্গে নিয়ে দেড় ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তিনদিন আইসিইউতে থেকে এখন অনেকটাই সুস্থ হেফজুল। তবে শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি এখনো চোয়ালে ব্যথা আছে তার।

গত ৭ মে চারঘাটে শাকিনুর রহমান সাব্বির নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মারা যান বিষধর ওই সাপের ছোবলে। একসময় বিলুপ্তপ্রায় চন্দ্রবোড়া জাতের ওই সাপটি রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পাওয়া গেলেও এখন আশপাশের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে চরম আতঙ্কিত চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সাপের ছেবলে ৩৬২ জন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে ৪৩ জন মারা যান। এরমধ্যে রাসেল ভাইপার সাপের ছোবলে মারা গেছেন ১৮ জন। ২০২৪ সালে এ পর্যন্ত সাপের কামড় খেয়ে ৩১৫ জন রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন। আর শুধু রাসেলস ভাইপারের ছোবলে মারা গেছেন পাঁচজন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সাপ গবেষক ও প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস রোমান বলেন, প্রাণঘাতীর তালিকায় রাসেলস ভাইপার সাপের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। তাই এই সাপ দেখা মাত্র না মেরে বন বিভাগ বা তাদের খবর দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএমও ইনচার্জ শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিভেনাম রাখা হয়েছে। রাসেলস ভাইপার সাপে কাটা রোগীদের ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।