রাজশাহীতে আলুর স্তূপে পচন, গরমে লোকসানের বোঝা বাড়ছে কৃষকের
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে আলুর স্তূপে পচন, গরমে লোকসানের বোঝা বাড়ছে কৃষকের
বস্তা সংকট ও কম দামে বিক্রি না হওয়ায় হিমাগারে রাখা হয়নি—খোলা জায়গায় নষ্ট হচ্ছে আলু
রাজশাহীতে বস্তা সংকট, অতিরিক্ত দাম এবং সময়মতো হিমাগারে সংরক্ষণ করতে না পারায় কৃষকের ঘরে-বাইরে স্তূপ করে রাখা আলু গরমে পচে নষ্ট হচ্ছে। বাজারে দাম কম থাকায় বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এতে প্রতি বিঘা জমিতে ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
জানা গেছে, অনেক কৃষক আলু উত্তোলনের পর বস্তার অভাবে হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে কিংবা আমবাগানে খোলা জায়গায় আলু স্তূপ করে রাখেন। কিন্তু তীব্র গরমে এসব আলু দ্রুত পচে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই নষ্ট আলু ময়লার ভাগাড়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমানে বাজারে ডায়মন্ড (সাদা) আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকা কেজি এবং ইস্টিক (লাল) আলু ১০ থেকে ১১ টাকায়। এ দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। লোকসানের কারণে ঋণের চাপ বাড়ছে এবং তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অনেক কৃষকের অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো কার্যকর পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম কিছুটা বাড়লেও হঠাৎ বস্তা সংকট দেখা দেয়। গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, এবার তা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছায়। এতে আলু বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয় এবং দাম দ্রুত কমে যায়। বস্তার অভাবে অনেকেই আলু বিক্রি বা সংরক্ষণ করতে পারেননি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এ বছর চাষ হয়েছে ৩৪ হাজার ২৮০ হেক্টরে।
তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, “পৌনে চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হলেও বস্তার অভাবে বিক্রি করতে পারিনি। এখন বাড়ির পাশে রাখা আলু গরমে পচে যাচ্ছে।”
মোহনপুর উপজেলার কৃষক আবু হেলা জানান, এক বিঘা জমির আলু এখনও বিক্রি করতে পারেননি। স্তূপে রাখা আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।
রহমান কোল্ডস্টোরেজের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হালিম বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতায় এ বছর বস্তা উৎপাদন কম হওয়ায় তীব্র সংকট তৈরি হয়। ফলে অনেক কৃষক আলু সংরক্ষণ করতে পারেননি।
তানোরের কৃষক ও ব্যবসায়ী রানা চৌধুরী জানান, মৌসুমের শুরুতেই বস্তার দাম বাড়তে থাকে এবং পরে তা আরও বেড়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এদিকে মোহনপুরের আলু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৫-৬ গাড়ি আলু দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হলেও এখনও বিপুল পরিমাণ আলু কৃষকদের কাছে পড়ে আছে, যা হিমাগার খোলার আগেই শেষ হওয়া কঠিন।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত বস্তা সংকট নিরসন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করলে তারা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।


















