ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোর শহরের বিভিন্ন সড়কে শোভা পাচ্ছে কালিমাখচিত পতাকা মাদকের ছোবলে অনেক পরিবারের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে- ভূমিমন্ত্রী যশোর সীমান্তে ১৩টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক নাটোরে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত ঝিনাইগাতীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারের জমি দখলচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ঢাকায় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপ শুরু, উদ্বোধন হলো ফিনিক্স সামিট ২০২৬ বাগাতিপাড়ায় লাভের আশায় মাচায় পটোল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা নর-সুন্দর শ্রমিক ইউনিয়নে সভাপতি পদে দুই সহোদর ভাইয়ের লড়াই গোদাগাড়ীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত লোকসানের ধাক্কায় রাজশাহীতে বন্ধ হচ্ছে পোলট্রি খামার

রাণীশংকৈলে মাদকের নিরাপদ আশ্রয় পরিত্যক্ত কারাগার, ঝুকিতে স্থানীয় শিশুরা

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীশংকৈলে মাদকের নিরাপদ আশ্রয় পরিত্যক্ত কারাগার, ঝুকিতে স্থানীয় শিশুরা

সব ধরনের মাদক বিক্রি ও সেবনের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গড়ে তুলেছেন পরিত্যক্ত একটি কারাগার কে। সম্প্রীতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে সেখানে নিরাপদে মাদক সেবন করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।এর আগে একই জায়গায় ইমরান নামে একজন কে অপহরণ করে টাকা দাবি ও মারধর করার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভর্তি হয় ওই ভুক্তভোগী। এমন একটি ভিডিও দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুরে এখন অনেকের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বলছিলাম ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পুরোনো জেলাখানার বর্তমান অবস্থার কথা।

সোমাবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি একটি পরিত্যক্ত ভবনের সকল দরজা, জানালা সহ সব ধরনের লোহার রড ও বিভিন্ন ওয়ালের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে কে বা কাহারা। স্থানীয়রা বলছেন সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম দেখাশোনা না করার কারণে এবং জেলখানা টি চারপাশের প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও করা তাই সহজে ভিতরে দেখা যাওয়ায় না। সেখানে সকাল কিংবা রাত যখনেই সময় পায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা নিরাপদে মাদক বিক্রি করে ও সেখানেই সেবন করে।

স্থানীয়রা আরো জানায়, এই জেলখানাটি বর্তমান রাণীশংকৈল পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সন্ধ্যারই এলাকায় অবস্থিত এবং প্রায় ২ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছিল। প্রায় ৩০ বছর আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এটি স্থাপন করেন, যেখানে প্রায় ২০০ জন কয়েদি রাখার ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে, জেলখানাটি পরিত্যক্ত এবং জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পরিচিত। আর এজন্যই এই জেলখানাটির ভিতরে মাদক সেবীদের অবাধে আনাগোনা ও মাদক সেবন ও বিক্রর জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

স্থানীয় পিয়ারুল ইসলাম ও মাসুদ রানা সহ কয়েকজন বলেন, এখানে সরকারের পক্ষ থেকে যদি দেখাশোনা বা এটি সংস্কার করা হতো তাহলে মাদকাসক্ত কোন ব্যক্তিই আড্ডা জমাতে পারতো না।

স্থানীয়রা আরো বলেন, এই পুরাতন জেলখানার যে বিভিন্ন বিল্ডিং রয়েছে এগুলো মেরামত করে যদি কোন অফিস বরাদ্দ বা থাকার মতো পরিবেশ তৈরি করা যায় তাহলে সরকার এখান থেকেও অনেক রাজস্ব আদায় করতে পারতেন।এখন এলাকার মানুষের দাবি উক্তি বয়সের ছেলে,থেকে শুরু করে অনেক যুবক মাদকসেবী এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি ও সেবন করে।এর ফলে এলাকার শিশুদের জীবনমান অনেকটা ঝুকিতে রয়েছে।এটি এখনেই যদি সংস্কার না করা হয় তাহলে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের হাত থেকে রক্ষা কঠিন হয়ে যাবে এবং এলাকাটি মাদকের অভয়ারণ্যে পরিনত হবে।

এবিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা মহিলা বিষক কর্মকর্তা মো. আবু বেল্লাল সিদ্দিক জানান,এ বিষয়ে আমি স্থানীয় প্রশসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। স্থানীয় কিছু মানুষের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে তাই এটি সংস্কার করা যাচ্ছে না। তবে সকলের সহযোগিতা পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. আরশেদুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সেখানে আমাদের নিয়মিত টহল রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান মুঠোফোনে জানান,এই পুরনো জেলখানা টি অনেক আগেই মহিলা বিষক অধিদপ্তর কে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন আমার কোন কিছু করণীয় নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলে মাদকের নিরাপদ আশ্রয় পরিত্যক্ত কারাগার, ঝুকিতে স্থানীয় শিশুরা

আপডেট সময় : ১১:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

রাণীশংকৈলে মাদকের নিরাপদ আশ্রয় পরিত্যক্ত কারাগার, ঝুকিতে স্থানীয় শিশুরা

সব ধরনের মাদক বিক্রি ও সেবনের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গড়ে তুলেছেন পরিত্যক্ত একটি কারাগার কে। সম্প্রীতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে সেখানে নিরাপদে মাদক সেবন করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।এর আগে একই জায়গায় ইমরান নামে একজন কে অপহরণ করে টাকা দাবি ও মারধর করার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভর্তি হয় ওই ভুক্তভোগী। এমন একটি ভিডিও দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুরে এখন অনেকের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বলছিলাম ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পুরোনো জেলাখানার বর্তমান অবস্থার কথা।

সোমাবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি একটি পরিত্যক্ত ভবনের সকল দরজা, জানালা সহ সব ধরনের লোহার রড ও বিভিন্ন ওয়ালের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে কে বা কাহারা। স্থানীয়রা বলছেন সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম দেখাশোনা না করার কারণে এবং জেলখানা টি চারপাশের প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও করা তাই সহজে ভিতরে দেখা যাওয়ায় না। সেখানে সকাল কিংবা রাত যখনেই সময় পায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা নিরাপদে মাদক বিক্রি করে ও সেখানেই সেবন করে।

স্থানীয়রা আরো জানায়, এই জেলখানাটি বর্তমান রাণীশংকৈল পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সন্ধ্যারই এলাকায় অবস্থিত এবং প্রায় ২ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছিল। প্রায় ৩০ বছর আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এটি স্থাপন করেন, যেখানে প্রায় ২০০ জন কয়েদি রাখার ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে, জেলখানাটি পরিত্যক্ত এবং জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পরিচিত। আর এজন্যই এই জেলখানাটির ভিতরে মাদক সেবীদের অবাধে আনাগোনা ও মাদক সেবন ও বিক্রর জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

স্থানীয় পিয়ারুল ইসলাম ও মাসুদ রানা সহ কয়েকজন বলেন, এখানে সরকারের পক্ষ থেকে যদি দেখাশোনা বা এটি সংস্কার করা হতো তাহলে মাদকাসক্ত কোন ব্যক্তিই আড্ডা জমাতে পারতো না।

স্থানীয়রা আরো বলেন, এই পুরাতন জেলখানার যে বিভিন্ন বিল্ডিং রয়েছে এগুলো মেরামত করে যদি কোন অফিস বরাদ্দ বা থাকার মতো পরিবেশ তৈরি করা যায় তাহলে সরকার এখান থেকেও অনেক রাজস্ব আদায় করতে পারতেন।এখন এলাকার মানুষের দাবি উক্তি বয়সের ছেলে,থেকে শুরু করে অনেক যুবক মাদকসেবী এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি ও সেবন করে।এর ফলে এলাকার শিশুদের জীবনমান অনেকটা ঝুকিতে রয়েছে।এটি এখনেই যদি সংস্কার না করা হয় তাহলে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের হাত থেকে রক্ষা কঠিন হয়ে যাবে এবং এলাকাটি মাদকের অভয়ারণ্যে পরিনত হবে।

এবিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা মহিলা বিষক কর্মকর্তা মো. আবু বেল্লাল সিদ্দিক জানান,এ বিষয়ে আমি স্থানীয় প্রশসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। স্থানীয় কিছু মানুষের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে তাই এটি সংস্কার করা যাচ্ছে না। তবে সকলের সহযোগিতা পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. আরশেদুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সেখানে আমাদের নিয়মিত টহল রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান মুঠোফোনে জানান,এই পুরনো জেলখানা টি অনেক আগেই মহিলা বিষক অধিদপ্তর কে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন আমার কোন কিছু করণীয় নেই।