ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় আম পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার আশঙ্কায় বাগাতিপাড়ায় ছাত্রদলের বিক্ষোভ বাগাতিপাড়ায় রেললাইনে বসে মোবাইলে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় গরু ব্যবসায়ী নিহত নাটোর শহরের বিভিন্ন সড়কে শোভা পাচ্ছে কালিমাখচিত পতাকা মাদকের ছোবলে অনেক পরিবারের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে- ভূমিমন্ত্রী যশোর সীমান্তে ১৩টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক নাটোরে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত ঝিনাইগাতীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারের জমি দখলচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ঢাকায় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপ শুরু, উদ্বোধন হলো ফিনিক্স সামিট ২০২৬ বাগাতিপাড়ায় লাভের আশায় মাচায় পটোল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

বাগাতিপাড়ায় লাভের আশায় মাচায় পটোল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ৯৬ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় লাভের আশায় মাচায় পটোল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

মাচার পর মাচাজুড়ে সবুজ লতায় ঝুলছে অসংখ্য পটোল। ভোরের আলো ফুটতেই ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকেরা। একসময় যে জমিতে প্রধানত ধান ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের আবাদ হতো, এখন সেই জমির বড় একটি অংশজুড়ে হচ্ছে পটোল চাষ। অধিক লাভ, সারা বছর বাজারে চাহিদা এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকির কারণে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই সবজির আবাদ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বছরে প্রায় ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। এর মধ্যে চলতি খরিফ-১ মৌসুমে ৫৬ হেক্টর জমিতে পটোলের আবাদ হয়েছে। গত বছর তিন মৌসুম মিলিয়ে ১১১ হেক্টর জমিতে পটোল চাষ হয়েছিল। অর্থাৎ, চলতি বছর এক মৌসুমেই গত বছরের মোট আবাদকৃত জমির প্রায় অর্ধেকজুড়ে পটোলের চাষ হয়েছে। উপজেলার সব ইউনিয়নেই কমবেশি পটোলের আবাদ থাকলেও দয়ারামপুর ইউনিয়নে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

কৃষি বিভাগ জানায়, নিরাপদ সবজি উৎপাদনে ফেরোমন ফাঁদ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে এবং উৎপাদিত সবজির গুণগত মান বজায় থাকে। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে পটোল চাষ, রোগবালাই দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় পটোলচাষিরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর বেলে দোঁআশ মাটি এবং নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এ অঞ্চলে পটোলের বাম্পার ফলন হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে পটোল চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও মাচা নির্মাণসহ প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তবে নাইলনের সুতা দিয়ে তৈরি মাচা একবার নির্মাণ করলে তা তিন থেকে চার বছর ব্যবহার করা যায়। ফলে পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

কৃষকদের ভাষ্য, সারা বছর বাজারে পটোলের চাহিদা থাকায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি নিয়ে তেমন শঙ্কা থাকে না। সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমি থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। তাই অন্যান্য ফসলের তুলনায় পটোল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের স্বরাপপুর গ্রামের কৃষক বাদশা আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি দেড় বিঘা জমিতে পটোল চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ৫০ হাজার টাকার পটোল বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে প্রায় এক লাখ টাকার পটোল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

সদর ইউনিয়নের আরজুমারিয়া-নওশেরা এলাকার কৃষক পলাশ কুমার বলেন, নদী অববাহিকার বেলে দোঁআশ মাটিতে পানি জমে না, তাই এ এলাকায় সবজি চাষের জন্য পরিবেশ অনুকূল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পটোল চাষ করছেন। বর্তমানে বাজারদর কিছুটা কমলেও মৌসুমজুড়ে ভালো দাম পাওয়া যায়, যা কৃষকদের পটোল চাষে আগ্রহী করে তুলছে।

দয়ারামপুর ইউনিয়নের চিবনাপুর গ্রামের কৃষক আবু হাসান বাপ্পি জানান, আগে ধানসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করলেও লাভ কম হওয়ায় কয়েক বছর ধরে পটোল চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে ৭ কাঠা জমিতে পটোল আবাদে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকার পটোল বিক্রি করেছেন। নতুন গাছ হওয়ায় সামনে আরও ভালো ফলনের আশা করছেন। বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার পটোল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পটোল ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের মতে, এখন দাম কিছুটা কম থাকলেও মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়া গেছে। বর্ষা মৌসুমে আবার দাম বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। সে কারণে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পটোলের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ভবসিন্ধু রায় বলেন, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পটোল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আইপিএম পদ্ধতি, ফেরোমন ফাঁদসহ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “চলতি খরিফ-১ মৌসুমে উপজেলায় ৫৬ হেক্টর জমিতে পটোলের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ভবিষ্যতে পটোল চাষ এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আরও লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় লাভের আশায় মাচায় পটোল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৪:১২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় লাভের আশায় মাচায় পটোল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

মাচার পর মাচাজুড়ে সবুজ লতায় ঝুলছে অসংখ্য পটোল। ভোরের আলো ফুটতেই ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকেরা। একসময় যে জমিতে প্রধানত ধান ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের আবাদ হতো, এখন সেই জমির বড় একটি অংশজুড়ে হচ্ছে পটোল চাষ। অধিক লাভ, সারা বছর বাজারে চাহিদা এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকির কারণে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই সবজির আবাদ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বছরে প্রায় ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। এর মধ্যে চলতি খরিফ-১ মৌসুমে ৫৬ হেক্টর জমিতে পটোলের আবাদ হয়েছে। গত বছর তিন মৌসুম মিলিয়ে ১১১ হেক্টর জমিতে পটোল চাষ হয়েছিল। অর্থাৎ, চলতি বছর এক মৌসুমেই গত বছরের মোট আবাদকৃত জমির প্রায় অর্ধেকজুড়ে পটোলের চাষ হয়েছে। উপজেলার সব ইউনিয়নেই কমবেশি পটোলের আবাদ থাকলেও দয়ারামপুর ইউনিয়নে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

কৃষি বিভাগ জানায়, নিরাপদ সবজি উৎপাদনে ফেরোমন ফাঁদ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে এবং উৎপাদিত সবজির গুণগত মান বজায় থাকে। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে পটোল চাষ, রোগবালাই দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় পটোলচাষিরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর বেলে দোঁআশ মাটি এবং নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এ অঞ্চলে পটোলের বাম্পার ফলন হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে পটোল চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও মাচা নির্মাণসহ প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তবে নাইলনের সুতা দিয়ে তৈরি মাচা একবার নির্মাণ করলে তা তিন থেকে চার বছর ব্যবহার করা যায়। ফলে পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

কৃষকদের ভাষ্য, সারা বছর বাজারে পটোলের চাহিদা থাকায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি নিয়ে তেমন শঙ্কা থাকে না। সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমি থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। তাই অন্যান্য ফসলের তুলনায় পটোল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের স্বরাপপুর গ্রামের কৃষক বাদশা আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি দেড় বিঘা জমিতে পটোল চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ৫০ হাজার টাকার পটোল বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে প্রায় এক লাখ টাকার পটোল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

সদর ইউনিয়নের আরজুমারিয়া-নওশেরা এলাকার কৃষক পলাশ কুমার বলেন, নদী অববাহিকার বেলে দোঁআশ মাটিতে পানি জমে না, তাই এ এলাকায় সবজি চাষের জন্য পরিবেশ অনুকূল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পটোল চাষ করছেন। বর্তমানে বাজারদর কিছুটা কমলেও মৌসুমজুড়ে ভালো দাম পাওয়া যায়, যা কৃষকদের পটোল চাষে আগ্রহী করে তুলছে।

দয়ারামপুর ইউনিয়নের চিবনাপুর গ্রামের কৃষক আবু হাসান বাপ্পি জানান, আগে ধানসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করলেও লাভ কম হওয়ায় কয়েক বছর ধরে পটোল চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে ৭ কাঠা জমিতে পটোল আবাদে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকার পটোল বিক্রি করেছেন। নতুন গাছ হওয়ায় সামনে আরও ভালো ফলনের আশা করছেন। বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার পটোল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পটোল ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের মতে, এখন দাম কিছুটা কম থাকলেও মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়া গেছে। বর্ষা মৌসুমে আবার দাম বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। সে কারণে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পটোলের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ভবসিন্ধু রায় বলেন, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পটোল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আইপিএম পদ্ধতি, ফেরোমন ফাঁদসহ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “চলতি খরিফ-১ মৌসুমে উপজেলায় ৫৬ হেক্টর জমিতে পটোলের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ভবিষ্যতে পটোল চাষ এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আরও লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হবে।