ঝিনাইগাতীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারের জমি দখলচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইগাতীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারের জমি দখলচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ; অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, বৈধভাবে কেনা জমিতেই বসবাস
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানশাইল ইউনিয়নের বাগেরভিটা গ্রামের এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি দখলচেষ্টা, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলার পশ্চিম ধানশাইল এলাকায় ভুক্তভোগীর চাচা আলহাজ মকশের আলীর বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. আব্দুর রহমান। তিনি জানান, কান্দুলী মৌজার ৮১৯ নম্বর খতিয়ানের ৩৩৪ ও ৩৩৫ নম্বর দাগে তাদের পৈতৃক ও ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমি এবং বড় ভাই নূরে আলমের ক্রয়কৃত জমিসহ মোট ৮ শতাংশ জমির ওপর প্রতিবেশী আজিজুল ইসলাম ও তার পরিবারের কোনো বৈধ মালিকানা না থাকলেও তারা জোরপূর্বক ঘর ও রাস্তা নির্মাণ করে দখল করে রেখেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জমি ফেরত চাইলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া প্রবাসী শামীম আজিজ ওই জমিতে ঘর নির্মাণের সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। পরে উল্টো পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনার সময় তিনি ও তার ভাই ঢাকায় অবস্থান করলেও তাদেরও মামলায় আসামি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ার ঘটনায় শামীম আজিজের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তার স্ত্রী হাবিজাকে আসামি করে গত ১২ জুন পাঁচ মাস বয়সী শিশুসন্তানসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কয়েক ঘণ্টা থানায় রাখার পর আদালতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অবৈধ দখলের কারণে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুলাল মিয়া তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সরকারি আশ্রয়ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকির কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আজিজুল ইসলামের ছেলে, মালয়েশিয়া প্রবাসী শাখাওয়াত হোসেন। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারা বৈধভাবে ক্রয় করা জমিতেই বসবাস করছেন এবং কারও জমি জোরপূর্বক দখল করেননি।
এ বিষয়ে ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মৃত ময়সান শেখের ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস হলেও জমি মেপে কাউকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, যার কাগজপত্র বৈধ থাকবে, তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জমি নিয়ে কোনো পক্ষকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে দেওয়া হবে না।



















