রাজশাহীতে সন্তান প্রসবের পর মায়ের মৃত্যু, নবজাতককে দত্তক নিতে হাসপাতালে ভিড়
- আপডেট সময় : ০২:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে সন্তান প্রসবের পর মায়ের মৃত্যু, নবজাতককে দত্তক নিতে হাসপাতালে ভিড়
স্বামী লাপাত্তা; অভিভাবক না থাকায় ‘বেওয়ারিশ’ খবর ছড়িয়ে পড়লে দত্তক নিতে আগ্রহীদের ভিড়
রাজশাহীতে সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অভিভাবকহীন অবস্থায় নবজাতকটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তাকে বেওয়ারিশ ভেবে দত্তক নিতে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভিড় করছেন বিভিন্ন মানুষ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে এমন চিত্র দেখা যায়। এ সময় এক নারী নিজেকে নবজাতকের খালা পরিচয় দিয়ে বাচ্চার পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, তার বোনের জন্য বাচ্চাটিকে দত্তক নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবজাতকের বাবা রিপন আলী। তার বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বালুবাজার গ্রামে। তিনি একটি হোটেলে পরিচারকের কাজ করেন। তার স্ত্রী তাহমিনা বেগম (২৫) সন্তানসম্ভবা অবস্থায় গত রোববার একাই মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, রোববার তাহমিনা বেগম হাসপাতালে একটি সন্তান প্রসব করেন। তার সঙ্গে কোনো অভিভাবক ছিলেন না। সন্তান জন্মের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে ওই সময় মা ও নবজাতককে রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো স্বজন পাওয়া যায়নি। পরে মান্দা থানার পুলিশের সহযোগিতায় অ্যাম্বুলেন্সে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মাসুদ রানা জানান, ওই রাতে রোগীর সঙ্গে যাওয়ার মতো কেউ ছিল না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রসূতি যে ফোন নম্বর দিয়েছিলেন সেটিও ভুল ছিল। পরে পুলিশি ব্যবস্থাপনায় মা ও নবজাতককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুই পুলিশ সদস্য নবজাতককে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই প্রসূতি তাহমিনা বেগম মারা যান। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
খবর পেয়ে সোমবার মৃত তাহমিনার ভাতিজা রেজওয়ান, ফুফাতো ভাই মাহমুদ ও ভাবি দেলজান হাসপাতালে এসে মরদেহ গ্রহণ করেন।
এদিকে নবজাতকের কোনো অভিভাবক নেই—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভিড় করতে শুরু করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে এসে নবজাতকের পাশে বসে থাকা আয়েশা নামের এক নারী বলেন, তারা শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। বাচ্চাটিকে তার বোনের জন্য নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এরই মধ্যে শিশুটিকে নিতে হাসপাতালে এসেছেন নিহত তাহমিনার ভাতিজা রেজওয়ান। তিনি জানান, তারা আগেই লাশ গ্রহণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তরের আবেদন করেছেন।
নবজাতকের বাবার বিষয়ে জানতে চাইলে রেজওয়ান বলেন, তিনি গরিব মানুষ। হয়তো চিকিৎসা খরচের ভয়ে পালিয়ে থাকতে পারেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, যদি বৈধ অভিভাবক উপস্থিত থাকেন, তবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিষয়টি রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে যত দ্রুত সম্ভব নবজাতককে বৈধ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে।




















