মোহনপুরে পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি
- আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে

মোহনপুরে পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি
চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তিতে কৃষক ও যানবাহন চালক
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে আবেদন করার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও সরবরাহ বাড়ানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
মোহনপুর উপজেলা একটি কৃষি অধ্যুষিত এলাকা। উপজেলার মধ্য দিয়ে রাজশাহী-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক অতিক্রম করায় দিনরাত ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনের চাপ থাকে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স মৌসুমি ফিলিং স্টেশন, মেসার্স কেশরহাট ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশন—এই তিনটি পাম্পের ওপরই নির্ভর করছে পুরো এলাকার জ্বালানি সরবরাহ।
স্থানীয়রা জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও। সম্প্রতি তীব্র গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল আলাম (৫৬) নামে এক কৃষকের মৃত্যু এবং এর আগে তেল না পেয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাইকারের মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।
জানা গেছে, কেশরহাট ফিলিং স্টেশনে মার্চ মাসে ডিজেল বরাদ্দ ছিল ৮৫ হাজার ৫০০ লিটার, পেট্রোল ২ হাজার ৭০০ লিটার এবং অকটেন ৯ হাজার লিটার। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সরবরাহ দ্বিগুণ করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, “পান বরজ ও সবজি ক্ষেতে সেচ দেওয়ার জন্য তেল নিতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় তেল শেষ হয়ে যায়, ফলে কাজ ব্যাহত হয়।”
ট্রাক মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, “পাম্পে তেল অল্প সময়েই শেষ হয়ে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেলে গাড়ি চালানো সম্ভব হয় না, এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
কেশরহাট ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। তিনি বলেন, “স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশ নিয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বগুড়া অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো সরবরাহ বাড়েনি।”
মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামারুল ইসলাম বলেন, সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেল ও পেট্রোলচালিত যন্ত্রের সংখ্যা নিরূপণের কাজ চলছে। দ্রুতই সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “ইতোমধ্যে কেশরহাটসহ অন্যান্য পাম্পে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি করা হলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খাতের সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

















