ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে আলোচিত মানিক হ/ত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি, বড় বোন গ্রেপ্তার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ঠাকুরগাঁওয়ে ডিসি অফিসের কর্মচারী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আদালতের তলব সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর নিহত, গ্রামে শোকের মাতম রায়পুরায় নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসার চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাজশাহীতে ধ/র্ষ/ণ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও শি/শু ধ’র্ষ’ণে’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট

মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় চারঘাটের জেলেদের দুশ্চিন্তা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২ ২৮৬ বার পড়া হয়েছে

মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় চারঘাটের জেলেদের চোখে-মুখে চিন্তার ভাঁজ

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় চারঘাটের জেলেদের দুশ্চিন্তা!

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় চারঘাটের জেলেদের দুশ্চিন্তা! রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার অধিকাংশ জেলে পরিবার চলে পদ্মা নদীতে মাছ ধরে। ইতি মধ্যে চলছে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ অক্টোবর থেকে পদ্মা নদীতেও মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ সময় সরকারি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহীর চারঘাটের জেলেরা।
মঙ্গলবার (১১অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলেদের চোখে-মুখে চিন্তার ভাঁজ। অনেকেই নদীর পাড়ে বসে রয়েছেন। কেউ কেউ তাদের ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন। কেউ নদী থেকে নৌকা ডাঙায় তুলেছেন মেরামতের জন্য।

জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা অন্য মাছ ধরতেও নদীতে নামতে পারেন না। অনেক জেলে পরিবার না খেয়ে দিন পার করেন। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা এখনো পাননি তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে খাদ্য সহায়তার দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। পাশাপাশি নগদ অর্থ দেওয়ারও দাবি জানান তারা।
চারঘাট উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, এ উপজেলায় নিবন্ধিত মোট জেলে রয়েছেন ১ হাজার ১৪৯ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারি জেলে রয়েছেন ৬৬৩ জন। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যেন নদী থেকে ইলিশ শিকারে না যান এজন্য গত বছর পৌরসভায় ১৯৮ জন, ইউসুফপুর ইউনিয়নের ১২৪ জন, সরদহ ইউনিয়নের ৮০ জন ও সদর ইউনিয়নে ১৬৮ জনসহ সর্বমোট ৫৭০ জন নিবন্ধিত জেলেকে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বছর জেলেদের সহায়তার পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চারঘাট উপজেলা সদরের জেলে তাজমুল হক বলেন, ‘২২ দিনের মাছ ধরা বন্ধ দিয়েছে ভালো কথা। আমরা নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে নদীতে যাবো না। তাহলে খাব কী? সরকার প্রতিবছর জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেয়। যারা জেলে না, তারা চাল পায়। আমি ১৫ বছর ধরে মাছ ধরি নদী থেকে, আজ পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাইনি। পেটে ভাত না থাকলে নদীতে তো চুরি করে হলেও নামতে হবে। সরকার ২২ দিনের খাবারের ব্যবস্থা করে দিলে মাছ ধরতে যাবো না।’ রাওথা এলাকার রফিকুল ইসলাম নামের জেলে বলেন, ‘৩০ বছরের বেশি সময় ধরে নদী থেকে মাছ শিকার করছি। সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাই। মাছ ধরা বন্ধের সময় সরকার থেকে ২০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও আমরা পাই ১০-১৫ কেজি। তা দিয়ে ৭ দিনের বেশি চলে না। আরও বেশি চাল দেওয়ার পাশাপাশি কাঁচাবাজার কেনার জন্য নগদ টাকা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি বলেন, প্রতিটি জেলে পরিবারেই সদস্য সংখ্যা বেশি৷ চালের বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়ানো উচিত। ২০ কেজি চালে তাদের নিষেধাজ্ঞার অর্ধেক সময়ও চলবে না। এছাড়া ইলিশ শিকারি সব জেলে যেন চাল বরাদ্দ পায় সেটাও মৎস্য বিভাগকে নিশ্চিত করতে হবে।

চারঘাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ মোল্লাহ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যেন নদীতে না নামেন তার জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের মোবাইল টিম নদীতে অভিযানে থাকবে। খাদ্য সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে ইলিশ শিকারি সব জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জেলেদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। বরাদ্দের পরিমাণ ২০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২৫ কেজি করার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা দিয়েছি আমরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় চারঘাটের জেলেদের দুশ্চিন্তা!

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২

মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় চারঘাটের জেলেদের দুশ্চিন্তা!

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় চারঘাটের জেলেদের দুশ্চিন্তা! রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার অধিকাংশ জেলে পরিবার চলে পদ্মা নদীতে মাছ ধরে। ইতি মধ্যে চলছে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ অক্টোবর থেকে পদ্মা নদীতেও মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ সময় সরকারি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহীর চারঘাটের জেলেরা।
মঙ্গলবার (১১অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলেদের চোখে-মুখে চিন্তার ভাঁজ। অনেকেই নদীর পাড়ে বসে রয়েছেন। কেউ কেউ তাদের ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন। কেউ নদী থেকে নৌকা ডাঙায় তুলেছেন মেরামতের জন্য।

জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা অন্য মাছ ধরতেও নদীতে নামতে পারেন না। অনেক জেলে পরিবার না খেয়ে দিন পার করেন। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা এখনো পাননি তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে খাদ্য সহায়তার দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। পাশাপাশি নগদ অর্থ দেওয়ারও দাবি জানান তারা।
চারঘাট উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, এ উপজেলায় নিবন্ধিত মোট জেলে রয়েছেন ১ হাজার ১৪৯ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারি জেলে রয়েছেন ৬৬৩ জন। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যেন নদী থেকে ইলিশ শিকারে না যান এজন্য গত বছর পৌরসভায় ১৯৮ জন, ইউসুফপুর ইউনিয়নের ১২৪ জন, সরদহ ইউনিয়নের ৮০ জন ও সদর ইউনিয়নে ১৬৮ জনসহ সর্বমোট ৫৭০ জন নিবন্ধিত জেলেকে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বছর জেলেদের সহায়তার পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চারঘাট উপজেলা সদরের জেলে তাজমুল হক বলেন, ‘২২ দিনের মাছ ধরা বন্ধ দিয়েছে ভালো কথা। আমরা নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে নদীতে যাবো না। তাহলে খাব কী? সরকার প্রতিবছর জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেয়। যারা জেলে না, তারা চাল পায়। আমি ১৫ বছর ধরে মাছ ধরি নদী থেকে, আজ পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাইনি। পেটে ভাত না থাকলে নদীতে তো চুরি করে হলেও নামতে হবে। সরকার ২২ দিনের খাবারের ব্যবস্থা করে দিলে মাছ ধরতে যাবো না।’ রাওথা এলাকার রফিকুল ইসলাম নামের জেলে বলেন, ‘৩০ বছরের বেশি সময় ধরে নদী থেকে মাছ শিকার করছি। সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাই। মাছ ধরা বন্ধের সময় সরকার থেকে ২০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও আমরা পাই ১০-১৫ কেজি। তা দিয়ে ৭ দিনের বেশি চলে না। আরও বেশি চাল দেওয়ার পাশাপাশি কাঁচাবাজার কেনার জন্য নগদ টাকা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি বলেন, প্রতিটি জেলে পরিবারেই সদস্য সংখ্যা বেশি৷ চালের বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়ানো উচিত। ২০ কেজি চালে তাদের নিষেধাজ্ঞার অর্ধেক সময়ও চলবে না। এছাড়া ইলিশ শিকারি সব জেলে যেন চাল বরাদ্দ পায় সেটাও মৎস্য বিভাগকে নিশ্চিত করতে হবে।

চারঘাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ মোল্লাহ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যেন নদীতে না নামেন তার জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের মোবাইল টিম নদীতে অভিযানে থাকবে। খাদ্য সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে ইলিশ শিকারি সব জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জেলেদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। বরাদ্দের পরিমাণ ২০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২৫ কেজি করার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা দিয়েছি আমরা।