বাগাতিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬৯৯ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কালিকাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পুকুর নিয়ম বহির্ভূতভাবে তার ছোট ভাই ও সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লাকে লিজ দিয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের পরিত্যক্ত ইট-খোয়া ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কোনো কমিটি না থাকায় প্রধান শিক্ষক তার ভাই ও ভাগ্নেকে এডহক কমিটির সভাপতি বানিয়ে ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। নিয়মিত কমিটি না থাকায় নিয়োগ কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর বিদ্যালয়ের আয়া মারা যাওয়ার পরও নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বরং প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে একজনকে অস্থায়ীভাবে রেখেছেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার বেতন দেওয়া হচ্ছিল। পরে অভিভাবকদের ক্ষোভ দেখা দিলে গত কয়েক মাস ধরে ওই বেতন বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে।
অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা কমন রুমের ব্যবস্থা না করে একই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিভাবকরা একাধিকবার বিষয়টি জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি, যা সরকারি বিধিমালার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রধান শিক্ষক তাদের কিছু না জানিয়েই এসব কাজ করে থাকেন। তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তোমাদের জানতে হবে না। আমার বলার জায়গা আছে।
বিষয়টি নিয়ে কালিকাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি বাজারে আছি বাড়ি গিয়ে কথা বলবো। এরপর একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




















