দেড় মাসের নিষ্পাপ সন্তান বাবা বলে ডাকবে কাকে?
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

দেড় মাসের নিষ্পাপ সন্তান বাবা বলে ডাকবে কাকে?
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পাথর বোঝাই ট্রাক ও লেগুনার সংঘর্ষে নাটোরের বাগাতিপাড়া চারজন সহ পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছে। নিহত ৫ শ্রমিকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
ধান কাটা শেষে ওই ৫ শ্রমিক বৃহস্পতিবার (২৬ মে) ভোর রাতে একটি লেগুনা গাড়িতে করে টাঙ্গাইল থেকে তাদের বাড়ি নাটোরে ফিরছিলেন। কিন্তু সকালে নিহতদের বাড়িতে আসে তাদের মৃত্যুর খবর। এ খবর পৌঁছিলে গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুর ১২ টার দিকে মৃতদেহগুলোর মধ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলার ছোট পাঁকা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মকুল হোসেন (৩৫), আবুল হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (৩৪) এবং একই উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের বাশবাড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫), ইজাল হকের ছেলে আব্দুল হালিমের (৩৭) লাশ আনা হয় তাদের বাড়িতে।

নিহত অপরজন গুরুদাসপুর উপজেলার জুমাইগর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হায়দার আলীর (৪০) লাশও তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের লাশ তাদের বাড়িতে আনা হলে শুরু হয় শোকের মাতম।
নিহত মুকুলের স্ত্রী নবজাতক সহ নাবালক তিন সন্তানকে নিয়ে স্বামীর পাশে আহাজারি করতে থাকেন। বলতে থাকেন কাজ করে টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরবেন বলেছিলেন। বাড়ির পথে রওনা হয়ে ফোনে বলেছিলেন রাতেই বাড়ি ফিরে ভাত খাবেন। কিন্তু সে বাড়িতে এলো লাশ হয়ে। এ সময় চিৎকার করে কেঁদে বলেন, ও স্বামী তোমার দেড় মাসের নিষ্পাপ ছেলে বাবা বলে ডাকবে কাকে? বাবার আদর ভালোবাসা যে সে পাবেনা।

পাশের বাড়ির নিহত মনিরের স্ত্রী, বৃদ্ধা মা ও বিধবা বোনের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরা জানায়, মনিরই ছিলেন ৫ সদস্যের পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ব্যাক্তি। মনিরের ৯ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে কেঁদে কেঁদে বলছিল, এখন আমার লেখাপড়ার কি হবে। কে বা আমাদের দেখভাল করবেন।বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নিহত মকবুলের স্ত্রী বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন। জ্ঞান ফিরে পেয়েই মৃত স্বামীর লাশের কাছে ছুটে যান এবং আহাজারি করে বলতে থাকেন আমাদের এতিম করে তুমি কোথায় গেলে। প্রতিবেশী নিহত আব্দুল হালিমের বাড়িতেও চলছিল শোকের মাতম। নিহত হালিমের স্ত্রী পাগলের মত চিৎকার করছিলেন আর বলছিলেন এখন তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে আমার কি হবে।
গুরুদাসপুরের নিহত হায়দার আলীর স্ত্রী সন্তানরা তার মৃত্যুর সংবাদে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বিলাপ করছেন আর বলছেন কি ভাবে চলবে তাদের সংসার।

এদিকে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাটোরের ৫ শ্রমিকের নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর পরই জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ নিহতদের বাড়িতে ছুটে যান এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এসময় তিনি নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রত্যেক পরিবারকে দাফনের জন্য নগদ ৫ হাজার করে টাকা প্রদান করেন এবং প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষনা দেন। নিহতদের পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য সার্বিক সহযোগীতা করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং গ্রামবাসীদের নিহত পরিবারগুলোর পাশে থেকে সহযোগীতার করার অনুরোধ করেন। এসময় বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দেবী পাল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম গকুল, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় নিহতদের দাফন সম্পূর্ণ হয়েছে বলে তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে।



















