তানোরে আওয়ামীলীগ সম্মেলন নিয়ে সংশয়!
- আপডেট সময় : ০৪:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুন ২০২২ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

তানোরে আওয়ামীলীগ সম্মেলন নিয়ে সংশয়!
এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
তানোরে আওয়ামীলীগ সম্মেলন নিয়ে সংশয়! রাজশাহীর তানোরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন।
নেতাদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশায় একাধিকবার রাজশাহীর তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন পেছানো হয়। সর্বশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়, ১৬ জুন হবে সম্মেলন।
কিন্তু দলের কর্মীরা বলছেন, সম্মেলন নিয়ে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী এবং তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে প্রায় সাড়ে আট বছর পর এবারও সম্মেলন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ২১ মার্চ সম্মেলনের ধার্য দিন ছিল। তারও আগে আরও দুবার তারিখ ঘোষণার পর তা বাতিল করা হয়। রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন সর্বশেষ সম্মেলন স্থগিত করার ব্যাপারে তখন বলেছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কমিটির নেতাদের দূরত্ব রয়েছে। তাঁদের মধ্যে মিলমিশ করেই সম্মেলন করা হবে।
নেতা-কর্মীরা বলেন, ১৬ জুনের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ৪ জুন বর্ধিত সভা ডাকে উপজেলা আওয়ামী লীগ। ওই দিন সংসদ সদস্যের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় সভা থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বের হয়ে যান। এরপর সংসদ সদস্য এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা শুরু করেন।
দলীয় কর্মীরা বলেন, ৬ জুন সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ছবি দিয়ে গোলাম রাব্বানী ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি প্রয়াত এক আওয়ামী লীগ নেতার উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন। ওই নেতা মৃত্যুশয্যায় গোলাম রাব্বানীকে বলেছিলেন, ওমর ফারুককে যেন তিনি রাজনীতিতে না নিয়ে আসেন। এর ফলস্বরূপ তানোরের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থাকবে না। এরপর রাব্বানী ওই সভায় সংসদ সদস্যের ভূমিকাকে ‘ভিলেনের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
এরপর সংসদ সদস্যের ছোট ভাই তানোরের কলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মাইনুল ইসলাম ফেসবুকে লেখেন, গোলাম রাব্বানী একজন মৃত মানুষকে নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা লিখে তানোরের জনগণের ‘সিমপ্যাথি’ পেতে চাইছেন। এই ধরনের পোস্ট দিয়ে তানোরের মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে চান। আর ৪ তারিখে তানোরের বর্ধিত সভায় যা হয়েছে, তা তাঁর (রাব্বানীর) কর্মের ফল।
এ বিষয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এখনো সম্মেলন পেছানোর কোনো খবর তাঁর কাছে নেই। কেন্দ্রীয় নেতারা সবকিছু জানার পরও গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে কেন একমতের কথা বলছেন, সেটা নিয়েই তো প্রশ্ন ওঠে। কারণ, রাব্বানী জাতীয় নির্বাচনসহ সাতটি নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করেছেন।
আর গোলাম রাব্বানী বলছেন, সভাপতি-সম্পাদক না থাকলে বর্ধিত সভা হয় না। বর্ধিত সভা ছাড়া সম্মেলন কী করে হবে? সংসদ সদস্য বর্ধিত সভায় বহিরাগত লোকজনকে এনে তাঁকে নানা হুমকি দেন। ফলে তিনি সভা থেকে বের যেতে বাধ্য হন।
কামাল হোসেন বলেন, তানোরে দলের নেতাদের মধ্যে যা হচ্ছে, তা তিনি বিস্তারিত জানেন। এখন দুই পক্ষ একমত হলে সম্মেলন হবে, না হলে হবে না। তিনি সংসদ সদস্যেরও খারাপ চান না, আবার অন্যদেরও বিরুদ্ধে নন। নেত্রী তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন দলকে গতিশীল করার জন্য, দলের মধ্যে ভাঙন ধরানোর জন্য নয়। এ জন্য তিনি ওই সম্মেলন করে দেওয়ার জন্য দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, তিনি সব পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ১৬ জুন সম্মেলনটি করার চেষ্টা করছেন।




















