ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, রাতে কাজের অভিযোগ অ/স্ত্র নিয়ে পুঠিয়ার সাবেক মেয়রকে খুঁজতে গিয়ে তা/ণ্ড/বে/র অভিযোগ পুঠিয়ায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী আরএমপিতে পাঁচ ওসিসহ ১১ পুলিশ কর্মকর্তা বদলি বাগাতিপাড়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৪৩ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাজশাহী মেডিকেলে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু নলডাঙ্গায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে আ/গু/ন, পু/ড়ে মারা গেল ৬ ছাগলের বাচ্চা মান্দায় পাচারকালে ৪৫ বস্তা রাসায়নিক সার আটক রাজশাহীতে পত্রিকা অফিসে আগুন, পুড়ে গেছে ১৬ বছরের সংরক্ষিত কপি রাজশাহী নগরীতে হাম-রুবেলা টিকা পাবে ৫৪ হাজার ১৪৪ শিশু, শুরু ২০ এপ্রিল

এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি সাপাহার এখন বাণিজ্যিক নগরী!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০১ বার পড়া হয়েছে

সাপাহারের খবর

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি সাপাহার এখন বাণিজ্যিক নগরী!

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি সাপাহার এখন বাণিজ্যিক নগরী! নওগাঁর সাপাহার উপজেলা বর্তমানে বাণিজ্যিক এবং পর্যটন নগরীতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য এবং জবই বিলকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরীতে রূপ নিয়েছে উপজেলাটি। স্থানীয় পরিবেশ পরিস্থিতি উন্নয়নমুখী হওয়ায় এলাকার অবস্থান পরিবর্তনে বেগ পেতে হয়নি বলে দাবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।

মূলত আম এবং আম বাগানকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পর্যটকদের আনাগোনায় এমন নান্দনিক কর্মকাণ্ডকে সরকারের ইতিবাচক দিক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণে পুনর্নভা নদীকে কেন্দ্র করে সাপাহার উপজেলা অবস্থিত। উপজেলাটির মোট আয়তন ২৪৪ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও “খাদ্যমন্ত্রী” সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপির দিক নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিকল্পনায় বদলে গেছে উপজেলাটির সার্বিক চিত্র। এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি এখন বাণিজ্যিক নগরী উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ জেলাতে অবস্থিত সাপাহার উপজেলা। এক সময় ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি নামে পরিচিতি ছিল এই অঞ্চলটির। পানির তীব্র সংকট নিরসনে সরকারের দূরদর্শী ভূমিকায় বর্তমানে এই অঞ্চলের চাষিরা হয়েছেন উৎপাদনমুখী।

এই অঞ্চলের চাষিরা ধান উৎপাদন করলেও বর্তমানে আম চাষে বেশি আগ্রহী উঠেছেন তারা। এর ফলশ্রুতিতে দেশের শীর্ষ আম উৎপাদন এবং আমদানিকারক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এসব সফলতাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লেগেছে আধুনিকায়নের ছোঁয়া। দেশের সব থেকে বড় আম্রুপালী আমের হাটের পাশে স্থাপিত হয়েছে আম চত্বর। স্থাপিত হয়েছে ৭ই মার্চ এর ভাষণে বঙ্গবন্ধুর তর্জনী আঙ্গুল ভাস্কর্য ‘জয় বাংলা চত্বর’। এছাড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত আছে টেনিস কোর্ট এবং ওয়াকওয়ে রোড। পর্যটকদের মনোনিবেশ করতে উপজেলাটির জবই বিল এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে নানানমুখী দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য। জবই বিলের প্রবেশমুখে বোয়াল মাছের আদলে তৈরি করা হয়েছে মাছ চত্বর। এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি এখন বাণিজ্যিক নগরী যেখানে পর্যটকরা এসে ভিড় জমান ছবি তুলতে। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক বসার জায়গা। সাংস্কৃতিক বিকাশে মুক্তমঞ্চ নির্মাণ অপেক্ষমাণ।

এমন উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন। তিনি জানান, একটি এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করে সেই স্থানের সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনায় কাজগুলো দ্রুত এগিয়েছে। কাজগুলো বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্দেশনায় পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, একজন ইউএনও একটি উপজেলাতে সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এই অল্প সময়ে স্থানীয় জনসাধারণকে সেবা প্রদানের পাশাপাশি এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগগুলোকে সফলতায় রূপ দিতে সর্বস্তরের মানুষ তাকে সহযোগিতা করেছেন।

এদিকে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে উপজেলাটিতে বেড়েছে পর্যটকদের আনা-গোনা। তারা ঘুরতে এসে এমন নান্দনিক পরিবেশ উপভোগ করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন তারা। পর্যটকরা জানিয়েছেন, অনেকের মুখে শুনে তারা এখানে এসেছেন। এসে আম বাগান, বিশাল আমের হাট, আম চত্বর, জয় বাংলা চত্বর, মাছ চত্বরসহ নানান স্থাপনায় ছবি তুলছেন। নারীদের ভ্রমণে শৃঙ্খলা পরিবেশ বিরাজ করায় স্বাচ্ছন্দ্যে তারা বিভিন্ন স্থানে যেতে পারছেন। এ ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় পর্যটকরা বারবার এই স্থানটিকে বেছে নিচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি সাপাহার এখন বাণিজ্যিক নগরী!

আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি সাপাহার এখন বাণিজ্যিক নগরী!

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি সাপাহার এখন বাণিজ্যিক নগরী! নওগাঁর সাপাহার উপজেলা বর্তমানে বাণিজ্যিক এবং পর্যটন নগরীতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য এবং জবই বিলকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরীতে রূপ নিয়েছে উপজেলাটি। স্থানীয় পরিবেশ পরিস্থিতি উন্নয়নমুখী হওয়ায় এলাকার অবস্থান পরিবর্তনে বেগ পেতে হয়নি বলে দাবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।

মূলত আম এবং আম বাগানকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পর্যটকদের আনাগোনায় এমন নান্দনিক কর্মকাণ্ডকে সরকারের ইতিবাচক দিক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণে পুনর্নভা নদীকে কেন্দ্র করে সাপাহার উপজেলা অবস্থিত। উপজেলাটির মোট আয়তন ২৪৪ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও “খাদ্যমন্ত্রী” সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপির দিক নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিকল্পনায় বদলে গেছে উপজেলাটির সার্বিক চিত্র। এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি এখন বাণিজ্যিক নগরী উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ জেলাতে অবস্থিত সাপাহার উপজেলা। এক সময় ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি নামে পরিচিতি ছিল এই অঞ্চলটির। পানির তীব্র সংকট নিরসনে সরকারের দূরদর্শী ভূমিকায় বর্তমানে এই অঞ্চলের চাষিরা হয়েছেন উৎপাদনমুখী।

এই অঞ্চলের চাষিরা ধান উৎপাদন করলেও বর্তমানে আম চাষে বেশি আগ্রহী উঠেছেন তারা। এর ফলশ্রুতিতে দেশের শীর্ষ আম উৎপাদন এবং আমদানিকারক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এসব সফলতাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লেগেছে আধুনিকায়নের ছোঁয়া। দেশের সব থেকে বড় আম্রুপালী আমের হাটের পাশে স্থাপিত হয়েছে আম চত্বর। স্থাপিত হয়েছে ৭ই মার্চ এর ভাষণে বঙ্গবন্ধুর তর্জনী আঙ্গুল ভাস্কর্য ‘জয় বাংলা চত্বর’। এছাড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত আছে টেনিস কোর্ট এবং ওয়াকওয়ে রোড। পর্যটকদের মনোনিবেশ করতে উপজেলাটির জবই বিল এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে নানানমুখী দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য। জবই বিলের প্রবেশমুখে বোয়াল মাছের আদলে তৈরি করা হয়েছে মাছ চত্বর। এক সময়ের ঠাটা বরেন্দ্র ভূমি এখন বাণিজ্যিক নগরী যেখানে পর্যটকরা এসে ভিড় জমান ছবি তুলতে। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক বসার জায়গা। সাংস্কৃতিক বিকাশে মুক্তমঞ্চ নির্মাণ অপেক্ষমাণ।

এমন উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন। তিনি জানান, একটি এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করে সেই স্থানের সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনায় কাজগুলো দ্রুত এগিয়েছে। কাজগুলো বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্দেশনায় পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, একজন ইউএনও একটি উপজেলাতে সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এই অল্প সময়ে স্থানীয় জনসাধারণকে সেবা প্রদানের পাশাপাশি এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগগুলোকে সফলতায় রূপ দিতে সর্বস্তরের মানুষ তাকে সহযোগিতা করেছেন।

এদিকে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে উপজেলাটিতে বেড়েছে পর্যটকদের আনা-গোনা। তারা ঘুরতে এসে এমন নান্দনিক পরিবেশ উপভোগ করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন তারা। পর্যটকরা জানিয়েছেন, অনেকের মুখে শুনে তারা এখানে এসেছেন। এসে আম বাগান, বিশাল আমের হাট, আম চত্বর, জয় বাংলা চত্বর, মাছ চত্বরসহ নানান স্থাপনায় ছবি তুলছেন। নারীদের ভ্রমণে শৃঙ্খলা পরিবেশ বিরাজ করায় স্বাচ্ছন্দ্যে তারা বিভিন্ন স্থানে যেতে পারছেন। এ ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় পর্যটকরা বারবার এই স্থানটিকে বেছে নিচ্ছেন।