ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে আলোচিত মানিক হ/ত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি, বড় বোন গ্রেপ্তার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ঠাকুরগাঁওয়ে ডিসি অফিসের কর্মচারী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আদালতের তলব সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর নিহত, গ্রামে শোকের মাতম রায়পুরায় নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসার চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাজশাহীতে ধ/র্ষ/ণ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও শি/শু ধ’র্ষ’ণে’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট

ইউটিউব দেখে বস্তায় আদা চাষ; ৬গুন বেশি লাভের আশা বাদলের!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ জুলাই ২০২২ ১৯৩ বার পড়া হয়েছে

বস্তায় আদা চাষ করে লাভবান রাণীনগরের বাদল

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউটিউব দেখে বস্তায় আদা চাষ; ৬গুন বেশি লাভের আশা বাদলের!

শ্রী মনোরঞ্জন চন্দ্র, নওগাঁ:
ইউটিউব দেখে বস্তায় আদা চাষ; ৬গুন বেশি লাভের আশা বাদলের! নওগাঁর রাণীনগরে এই প্রথম আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন কৃষক জহুরুর ইসলাম বাদল (৪৮)। ইউটিউব দেখে আদা চাষ শুরম্ন করেন তিনি। তিনি বলছেন, মাত্র ৬কাঠা পরিত্যাক্ত জমি থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার আদা বিক্রি হবে। এতে খরচ বাদে প্রায় ৬গুন বেশি লাভের আশা করছেন এই কৃষক।

উপজেলার একডালা ইউনিয়নের শিয়ালা গ্রামের মৃত আজাহার আলীর ছেলে বাদল বলেন, ছোট বেলা থেকেই কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। গ্রামের প্রাইমারী স্কুল থেকে কোন রকমে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন। এর পর সাংসারিক অনটোন আর বাবার অসুস্থ্যতার কারণে পড়া শুনায় আর এগিয়ে যেতে পারেননি। ফলে সংসারের হাল ধরতে গিয়ে কৃষি কাজের সাথে জরিয়ে পরেন। জহুরুর জানান, গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ করে আসছেন। নতুন নতুন পদ্ধতিতে চাষ তার কাছে বেশ আগ্রহের। কিছু দিন আগে ইউটিউব চ্যানেল দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তায় করে আদা চাষের ধারনা নেন। এর পর কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে মাত্র ৬কাঠা পরিত্যাক্ত ছায়াযুক্ত জমিতে এক হাজার ৬০০ বস্তায় আদা রোপণ করেছেন। বর্তমানে প্রায় এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত উঁচু হয়েছে আদার গাছ। তিনি চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, প্রথমে বীজ ক্রয় করে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। এর পর বালুর উপর বীজগুলো রেখে তার উপর আবারো বালু দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। এপর প্রায় ৬/৭দিনের মধ্যেই গাছ বের হলে চারাগুলো বস্তায় রোপন করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যবহৃত সিমেন্টের বস্তা ক্রয় করেছেন। সেই বস্তায় মাটি, বালু ডলোচুন, জৈবসার মিশ্রিত করে ১৫দিন পর দানাদার জাতীয় কিটনাশক, জিংক বোরণ ও রাসায়নিক সার মিশ্রিত করেছেন। এর পর আরো ১৫ দিন ফেলে রেখে বস্তায় ভরাতে হবে। এর ৬দিন পর বস্ত্মায় চারা রোপন করতে হবে। গত চৈত্র মাসের শেষের দিকে চারা রোপণ করেছেন তিনি। তিনি জানান, এক হাজার ৬০০ বস্ত্মায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। হয়তো আরো ২/৩হাজার টাকা খরচ হতে পারে। আদা গাছে তেমন রোগ বালায় না থাকায় শুধুমাত্র ১০/১৫দিন পর পর ছত্রাকনাশক ও কিছু কিটনাশক বিষ স্প্রে এবং বস্তায় পানি দিলেই গাছগুলো ভাল থাকবে। চারা রোপনের ৬/৭মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। তিনি ধারনা করে বলেন, প্রতি বস্তায় অন্তত: দুই কেজি পরিমান আদা পাওয়া যাবে। এতে ৬কাঠা জমিতে এক হাজার ৬০০ বস্তায় প্রায় ৮০মন আদা পাবেন বলে আশা করছেন। তিনি জানান, পরিত্যাক্ত ছায়াযুক্ত এই জায়গা থেকে খরচ বাদে চলমান বাজার অনুযায়ী প্রায় ২লক্ষ ২১ হাজার টাকা লাভ হবে। তিনি দাবি করে বলেন, এধরনের চাষে সরকার যদি আর্থিকভাবে সহায়তা করেন তাহলে আমার মতো প্রান্তিক কৃষকরা আরো উপকৃত হবেন। তাই সংশিস্নষ্টদের সার্বিক সহায়তা কামনা করেছেন।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, বস্তায় আদা চাষ একটি লাভজনক চাষ পদ্ধতি। বানিজ্যিকভাবে এই প্রথম বাদল আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তায় আদা চাষ করছেন। আমরা সার্বিক ভাবে তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি। আশা করছি অধিক লাভবান হবেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এই পদ্ধতিতে সংসারের চাহিদা মেটাতে যে কেউ চাষ করতে পারেন। এতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইউটিউব দেখে বস্তায় আদা চাষ; ৬গুন বেশি লাভের আশা বাদলের!

আপডেট সময় : ০৩:২৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ জুলাই ২০২২

ইউটিউব দেখে বস্তায় আদা চাষ; ৬গুন বেশি লাভের আশা বাদলের!

শ্রী মনোরঞ্জন চন্দ্র, নওগাঁ:
ইউটিউব দেখে বস্তায় আদা চাষ; ৬গুন বেশি লাভের আশা বাদলের! নওগাঁর রাণীনগরে এই প্রথম আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন কৃষক জহুরুর ইসলাম বাদল (৪৮)। ইউটিউব দেখে আদা চাষ শুরম্ন করেন তিনি। তিনি বলছেন, মাত্র ৬কাঠা পরিত্যাক্ত জমি থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার আদা বিক্রি হবে। এতে খরচ বাদে প্রায় ৬গুন বেশি লাভের আশা করছেন এই কৃষক।

উপজেলার একডালা ইউনিয়নের শিয়ালা গ্রামের মৃত আজাহার আলীর ছেলে বাদল বলেন, ছোট বেলা থেকেই কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। গ্রামের প্রাইমারী স্কুল থেকে কোন রকমে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন। এর পর সাংসারিক অনটোন আর বাবার অসুস্থ্যতার কারণে পড়া শুনায় আর এগিয়ে যেতে পারেননি। ফলে সংসারের হাল ধরতে গিয়ে কৃষি কাজের সাথে জরিয়ে পরেন। জহুরুর জানান, গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ করে আসছেন। নতুন নতুন পদ্ধতিতে চাষ তার কাছে বেশ আগ্রহের। কিছু দিন আগে ইউটিউব চ্যানেল দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তায় করে আদা চাষের ধারনা নেন। এর পর কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে মাত্র ৬কাঠা পরিত্যাক্ত ছায়াযুক্ত জমিতে এক হাজার ৬০০ বস্তায় আদা রোপণ করেছেন। বর্তমানে প্রায় এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত উঁচু হয়েছে আদার গাছ। তিনি চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, প্রথমে বীজ ক্রয় করে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। এর পর বালুর উপর বীজগুলো রেখে তার উপর আবারো বালু দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। এপর প্রায় ৬/৭দিনের মধ্যেই গাছ বের হলে চারাগুলো বস্তায় রোপন করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যবহৃত সিমেন্টের বস্তা ক্রয় করেছেন। সেই বস্তায় মাটি, বালু ডলোচুন, জৈবসার মিশ্রিত করে ১৫দিন পর দানাদার জাতীয় কিটনাশক, জিংক বোরণ ও রাসায়নিক সার মিশ্রিত করেছেন। এর পর আরো ১৫ দিন ফেলে রেখে বস্তায় ভরাতে হবে। এর ৬দিন পর বস্ত্মায় চারা রোপন করতে হবে। গত চৈত্র মাসের শেষের দিকে চারা রোপণ করেছেন তিনি। তিনি জানান, এক হাজার ৬০০ বস্ত্মায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। হয়তো আরো ২/৩হাজার টাকা খরচ হতে পারে। আদা গাছে তেমন রোগ বালায় না থাকায় শুধুমাত্র ১০/১৫দিন পর পর ছত্রাকনাশক ও কিছু কিটনাশক বিষ স্প্রে এবং বস্তায় পানি দিলেই গাছগুলো ভাল থাকবে। চারা রোপনের ৬/৭মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। তিনি ধারনা করে বলেন, প্রতি বস্তায় অন্তত: দুই কেজি পরিমান আদা পাওয়া যাবে। এতে ৬কাঠা জমিতে এক হাজার ৬০০ বস্তায় প্রায় ৮০মন আদা পাবেন বলে আশা করছেন। তিনি জানান, পরিত্যাক্ত ছায়াযুক্ত এই জায়গা থেকে খরচ বাদে চলমান বাজার অনুযায়ী প্রায় ২লক্ষ ২১ হাজার টাকা লাভ হবে। তিনি দাবি করে বলেন, এধরনের চাষে সরকার যদি আর্থিকভাবে সহায়তা করেন তাহলে আমার মতো প্রান্তিক কৃষকরা আরো উপকৃত হবেন। তাই সংশিস্নষ্টদের সার্বিক সহায়তা কামনা করেছেন।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, বস্তায় আদা চাষ একটি লাভজনক চাষ পদ্ধতি। বানিজ্যিকভাবে এই প্রথম বাদল আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তায় আদা চাষ করছেন। আমরা সার্বিক ভাবে তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি। আশা করছি অধিক লাভবান হবেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এই পদ্ধতিতে সংসারের চাহিদা মেটাতে যে কেউ চাষ করতে পারেন। এতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।