ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মান্দায় তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন পঞ্চগড়ে জগদল ডিগ্রী কলেজে এমপি নওশাদ জমিরকে সংবর্ধনা, শিক্ষার্থীদের বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে চিলকা নদী থেকে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার রাজশাহীতে ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান রাজশাহীতে অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে মাঠে নেমেছে রাসিকের রাজস্ব বিভাগ রাজশাহীতে ২ লাখ ৩৩ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিটে কর্মরত ৫ লাখের বেশি মানুষ ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মধ্যস্থানে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন বাগাতিপাড়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় জামনগর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মান্দায় কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে ৩০ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ

আল আমিন স্বাধীন, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৯১ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মান্দায় কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে ৩০ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ

দায়সারা কাজ দেখিয়ে চার প্রকল্পের প্রায় ১৫ লাখ টাকার চাল উত্তোলন, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বরাদ্দপ্রাপ্ত চারটি প্রকল্পে দায়সারা কাজ দেখিয়ে মোট ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে সমুদয় চাল উত্তোলন করেছেন। অভিযুক্ত প্রকল্পগুলো হলো— বনগ্রাম দুলালের বাড়ি হতে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত রাস্তা (৫.৫ মেট্রিক টন), চকরামাকান্ত পাকা রাস্তা হতে আব্বাসের বাড়ির রাস্তা (৯ মেট্রিক টন), চকমানিক মসজিদ হতে সোহবারের বাড়ির রাস্তা (৭ মেট্রিক টন) এবং চকগৌরী ব্রিজ হতে আতাউরের বাগান অভিমুখে রাস্তা (৯ মেট্রিক টন)।

সরকারি হিসাবে প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৪৯ হাজার টাকা ধরা হলে আত্মসাতকৃত ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চালের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকাগুলো পরিদর্শনে কোথাও দৃশ্যমান কোনো কাজ পাওয়া যায়নি। দু-একটি স্থানে সামান্য মাটি ফেলে পুরো কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। চকগৌরী ব্রিজ হতে আতাউরের বাগান অভিমুখে রাস্তায় একেবারেই কোনো কাজ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকগৌরী গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে মাত্র একদিন সামান্য কাজ করানো হয়েছে। এভাবে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করা হলেও গ্রামীণ এলাকার রাস্তাগুলো অবহেলিতই রয়ে গেছে।

বনগ্রাম দুলালের বাড়ি হতে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত রাস্তা প্রকল্পের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাকে নামমাত্র সভাপতি করা হয়েছে। প্রকল্পের সবকিছু দেখভাল করেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু ও ইউপি সদস্য মনসুর রহমান। কত টনের প্রকল্প, সেটাও আমাদের জানানো হয় না। শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।”

আরেক প্রকল্পের সভাপতি তানজিলা খাতুন বলেন, “প্রকল্প সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। সবকিছু মনসুর মেম্বারই করেন।”

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মনসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভাই, উপজেলায় গেলে কথা হবে।” এরপর ব্যস্ততার কথা বলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলামকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি রিসিভ হয়নি।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মান্দায় কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে ৩০ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:০৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মান্দায় কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে ৩০ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ

দায়সারা কাজ দেখিয়ে চার প্রকল্পের প্রায় ১৫ লাখ টাকার চাল উত্তোলন, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বরাদ্দপ্রাপ্ত চারটি প্রকল্পে দায়সারা কাজ দেখিয়ে মোট ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে সমুদয় চাল উত্তোলন করেছেন। অভিযুক্ত প্রকল্পগুলো হলো— বনগ্রাম দুলালের বাড়ি হতে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত রাস্তা (৫.৫ মেট্রিক টন), চকরামাকান্ত পাকা রাস্তা হতে আব্বাসের বাড়ির রাস্তা (৯ মেট্রিক টন), চকমানিক মসজিদ হতে সোহবারের বাড়ির রাস্তা (৭ মেট্রিক টন) এবং চকগৌরী ব্রিজ হতে আতাউরের বাগান অভিমুখে রাস্তা (৯ মেট্রিক টন)।

সরকারি হিসাবে প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৪৯ হাজার টাকা ধরা হলে আত্মসাতকৃত ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চালের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকাগুলো পরিদর্শনে কোথাও দৃশ্যমান কোনো কাজ পাওয়া যায়নি। দু-একটি স্থানে সামান্য মাটি ফেলে পুরো কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। চকগৌরী ব্রিজ হতে আতাউরের বাগান অভিমুখে রাস্তায় একেবারেই কোনো কাজ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকগৌরী গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে মাত্র একদিন সামান্য কাজ করানো হয়েছে। এভাবে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করা হলেও গ্রামীণ এলাকার রাস্তাগুলো অবহেলিতই রয়ে গেছে।

বনগ্রাম দুলালের বাড়ি হতে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত রাস্তা প্রকল্পের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাকে নামমাত্র সভাপতি করা হয়েছে। প্রকল্পের সবকিছু দেখভাল করেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু ও ইউপি সদস্য মনসুর রহমান। কত টনের প্রকল্প, সেটাও আমাদের জানানো হয় না। শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।”

আরেক প্রকল্পের সভাপতি তানজিলা খাতুন বলেন, “প্রকল্প সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। সবকিছু মনসুর মেম্বারই করেন।”

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মনসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভাই, উপজেলায় গেলে কথা হবে।” এরপর ব্যস্ততার কথা বলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলামকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি রিসিভ হয়নি।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।