দরিদ্র কৃষকের পাকা ধান কাটতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০১:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মে ২০২২ ২২০ বার পড়া হয়েছে

দরিদ্র কৃষকের পাকা ধান কাটতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
নাটোর প্রতিনিধিঃ
দরিদ্র কৃষকের পাকা ধান কাটতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। নাটোরের সিংড়ায় শ্রী সুশেন কুমার প্রামাণিক নামের এক দরিদ্র কৃষকের আড়াই বিঘা জমির পাকা ধান কাটতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে মিনিগেট পাকা ধান জমিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। তাকে সমাজচ্যুত করে একঘরে করে রাখায় কেউ তার জমির ধান কাটছেনা। স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল চন্দ্র এবং আওয়ামীলীগ কর্মী বিকাশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওই দুই জনের নির্দেশে সুশেন কুমার প্রামাণিক নামের ওই কৃষককে এক ঘরে রাখা সহ তার জমিতে ধান কাটতে দেওয়া হচ্ছেনা। গত ইউপি নির্বাচনে ‘ফ্যান’ প্রতীকে ভোট না করার অপরাধে সুশেন কুমার প্রামাণিকের জমির পাকা ধান কাটতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এছাড়াও এক ঘরে করে রাখায় অন্যের শ্যালো মেশিন থেকে পানি সেচ দিতে না পেরে ওই কৃষকের প্রায় দশ কাটা জমির মরিচ গাছ ও সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের দুর্গম বেলগাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
তবে ইউপি সদস্য (মেম্বার) দুলাল চন্দ্র তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই কৃষককে ধান কাটতে দেওয়া হচ্ছে না বিষয়টি সঠিক নয়। গ্রামের লোকজনের সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাকে এক ঘরে করে রাখা হয়েছে। গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তক্রমেই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বাহবা নেন। প্রায় ৪ মাস আগে গ্রামের মানুষ বৈঠক করে তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
অপরদিকে বিকাশ সরকার বলেন, তার আচরনের কারনেই গ্রামের শ্রমিকরা ধান কাটতে রাজি হয়না। কাউকে নিষেধ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, বেলগাড়ী গ্রামে মোট ৬৩ ঘর বসতি রয়েছে। আমরা ৬২ ঘর ওর সাথে সমাজ-জামাত করি না। তাতে আমরা ৬২ ঘর ভালো হলেও ভালো আর খারাপ হলেও খারাপ। তবে অন্য জায়গার শ্রমিক এসে ওই ধান কেটে দিলে গ্রামবাসীর কোন আপত্তি নেই।
এদিকে ওই গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের শ্রমিকদের ধান কাটতে নিষেধ করায় কৃষক শ্রী সুশেন কুমার প্রামাণিক এর প্রায় আড়াই বিঘা জমির পাকা ধান মাঠে পড়ে রয়েছে। এছাড়া সেচ দিতে না পারায় মরিচ গাছ ও সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।
পাশে অন্যের জমিতে কর্মরত শ্রমিক শ্রী অতুল বলেন, গ্রামের মাতব্বররা ধান কাটতে নিষেধ করায় কেউ আর তার জমির ধান কাটতে রাজি নয়। ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত শ্রী বিমান বলেন, শুনেছি মরিচ ও সবজিতে সেচ দিতে দিচ্ছে না। আর এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।
ভুক্তভোগী কৃষক শ্রী সুশেন কুমার প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ‘ফ্যান’ প্রতীকের ভোট না করে মোরগ প্রতীকের ভোট করায় তার জমির ধান কাটতে দেওয়া হচ্ছে না। চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রতিকার জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গ্রাম্য প্রধান শ্রী সুকেশ চন্দ্র বাবু বলেন, গ্রামবাসীকে ডেকে ক্ষমা চাইলেই তো সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন, কাউকে এক ঘরে করে রাখা বা ধান কাটতে শ্রমিকদের নিষেধ করা এটা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি তার জানা নেই বা কেউ তার কাছে অভিযোগ করেনি। তবুও এবিষয়ে সমাধান করার আশ্বাস দেন তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল ইমরান বিষয়টি জেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।




















