ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে ১১ পিস ইয়াবাসহ আটক ১, মোটরসাইকেল জব্দ লালপুরে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার অভিযোগে দুই ভাই আটক শিবগঞ্জে আমবাগান থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার দুর্গাপূজা ঘিরে রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা নলডাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু, পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা ছুটি ছাড়াই তিন দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা শাবিপ্রবির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিন বাগাতিপাড়ার সন্তান “আব্দুল হামিদ” লালপুরে বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার লালপুরে পৌর কার্যালয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার লালপুরে নারীদের ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

দুর্গাপূজা ঘিরে রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

বিজয় রায়, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Ranishankail

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুর্গাপূজা ঘিরে রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

বিজয় রায়, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাঁশ, খড় ও মাটি দিয়ে দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত তাঁরা। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, কারিগরদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগরদের কেউ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব গড়ছেন, আবার কেউ মাটির প্রলেপ দিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন প্রতিমার আকৃতি। প্রাথমিক কাজ শেষে অনেক কারিগর এখন প্রতিমার মুখাবয়ব, সৌন্দর্য ও সূক্ষ্ম কারুকাজে মনোযোগ দিচ্ছেন।

প্রতিমাশিল্পী সুফল দেব বলেন, “একটি প্রতিমা তৈরি করতে সাধারণত দেড় মাসের মতো সময় লাগে। পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ বেড়েছে। সময়মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।” আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে বৃষ্টি হলে মাটি শুকানো ও রং করার কাজে কিছুটা বিলম্ব ঘটে বলেও জানান তিনি।

কারিগররা জানান, প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে অবয়ব তৈরি করে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে প্রতিমার মুখাবয়ব, অলংকার ও সূক্ষ্ম নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়। প্রতিমা তৈরিতে পলিমাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ, কাপড় ও রংসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরেক প্রতিমাশিল্পী নারায়ণ চন্দ্র বলেন, “প্রতিমা তৈরির কাজ শুধু জীবিকা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও শিল্পের অংশ। প্রতিটি প্রতিমার মুখাবয়ব ও নকশায় আলাদা যত্ন নিতে হয়। পূজামণ্ডপে প্রতিমা স্থাপনের পর দর্শনার্থীদের প্রশংসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

এদিকে, পূজা ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজকরা প্রতিমা তৈরির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে কারিগরদের তাগাদা দিচ্ছেন। কাতিহার পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিব রায় বলেন, “মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিমা স্থাপনের কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে। তাই কারিগরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

কারিগররা জানান, প্রতিমার আকার, নকশা ও সাজসজ্জার ওপর নির্ভর করে তৈরির খরচ। ছোট প্রতিমার তুলনায় বড় প্রতিমা তৈরিতে বেশি শ্রমিক, উপকরণ ও সময় প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি বাঁশ, খড়, মাটি, রং ও অলংকারের উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে।

কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির প্রতিমাগুলো ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত রূপ নিচ্ছে। তাদের শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিমা তৈরির কারখানা ও পূজামণ্ডপে ভিড় করছেন। পূজার আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলতে প্রতিমাশিল্পীদের এই পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কারিগররা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে পারবেন। তাদের নিপুণ কারুকাজে এবারও দুর্গোৎসবের আমেজ আরও বর্ণিল হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, উপজেলায় ৫৫টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা যায়নি। এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সভা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুর্গাপূজা ঘিরে রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

আপডেট সময় : ০২:২৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা ঘিরে রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

বিজয় রায়, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাঁশ, খড় ও মাটি দিয়ে দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত তাঁরা। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, কারিগরদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগরদের কেউ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব গড়ছেন, আবার কেউ মাটির প্রলেপ দিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন প্রতিমার আকৃতি। প্রাথমিক কাজ শেষে অনেক কারিগর এখন প্রতিমার মুখাবয়ব, সৌন্দর্য ও সূক্ষ্ম কারুকাজে মনোযোগ দিচ্ছেন।

প্রতিমাশিল্পী সুফল দেব বলেন, “একটি প্রতিমা তৈরি করতে সাধারণত দেড় মাসের মতো সময় লাগে। পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ বেড়েছে। সময়মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।” আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে বৃষ্টি হলে মাটি শুকানো ও রং করার কাজে কিছুটা বিলম্ব ঘটে বলেও জানান তিনি।

কারিগররা জানান, প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে অবয়ব তৈরি করে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে প্রতিমার মুখাবয়ব, অলংকার ও সূক্ষ্ম নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়। প্রতিমা তৈরিতে পলিমাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ, কাপড় ও রংসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরেক প্রতিমাশিল্পী নারায়ণ চন্দ্র বলেন, “প্রতিমা তৈরির কাজ শুধু জীবিকা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও শিল্পের অংশ। প্রতিটি প্রতিমার মুখাবয়ব ও নকশায় আলাদা যত্ন নিতে হয়। পূজামণ্ডপে প্রতিমা স্থাপনের পর দর্শনার্থীদের প্রশংসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

এদিকে, পূজা ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজকরা প্রতিমা তৈরির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে কারিগরদের তাগাদা দিচ্ছেন। কাতিহার পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিব রায় বলেন, “মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিমা স্থাপনের কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে। তাই কারিগরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

কারিগররা জানান, প্রতিমার আকার, নকশা ও সাজসজ্জার ওপর নির্ভর করে তৈরির খরচ। ছোট প্রতিমার তুলনায় বড় প্রতিমা তৈরিতে বেশি শ্রমিক, উপকরণ ও সময় প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি বাঁশ, খড়, মাটি, রং ও অলংকারের উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে।

কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির প্রতিমাগুলো ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত রূপ নিচ্ছে। তাদের শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিমা তৈরির কারখানা ও পূজামণ্ডপে ভিড় করছেন। পূজার আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলতে প্রতিমাশিল্পীদের এই পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কারিগররা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে পারবেন। তাদের নিপুণ কারুকাজে এবারও দুর্গোৎসবের আমেজ আরও বর্ণিল হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, উপজেলায় ৫৫টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা যায়নি। এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সভা করা হয়েছে।