শেরপুরে ১০ কোটি টাকা পাওনার অভিযোগ, হাসপাতালের এমডি অনুপস্থিত
- আপডেট সময় : ০৮:১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরে ১০ কোটি টাকা পাওনার অভিযোগ, হাসপাতালের এমডি অনুপস্থিত
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরে গৌরীপুর মহল্লায় অবস্থিত উত্তরা স্পেশালাইজড প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০ কোটি টাকা পাওনা রেখে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের কর্মচারী, অংশীদার, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এ অভিযোগ করেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, কাউকে না জানিয়ে বিপ্লব চলে যাওয়ায় হাসপাতালের প্রায় ৩০ রোগী ও কর্মচারীরা সংকটে পড়েছেন। তবে হাসপাতাল বন্ধ না করে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রেখেছেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, চেম্বার অব কমার্স, হাসপাতাল মালিক সমিতি, আইনজীবী সমিতি ও প্রেসক্লাবকে জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালে কয়েকজন চিকিৎসক, ৮-১০ জন বিনিয়োগকারী ও অংশীদারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালে অংশীদারদের না জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করেন বিপ্লব। এরপর কর্মচারীদের বেতন, অংশীদারদের লভ্যাংশ ও বিভিন্ন পাওনা পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে কর্মচারী, অংশীদার, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য পাওনাদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিপ্লবের সঙ্গে পাওনা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা করেন। তখন তিনি হিসাব-নিকাশের জন্য তিন দিন সময় নেন। তবে ওই সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান বলে তাঁদের দাবি। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের দেওয়া অন্তত ১৫টি চুক্তিনামা ও নথি পর্যালোচনা করে তারা দাবি করেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপ্লবের দায়ের পরিমাণ অন্তত ১০ কোটি টাকা। তাদের আরও দাবি, হাসপাতাল থেকে মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয় হলেও দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারী ও অংশীদারদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। এ ছাড়া নতুন হাসপাতালসহ বিভিন্ন ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রয়েছে। বিপ্লবের কক্ষ ও চেয়ারও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন পাওনাদারকে হাসপাতালে এসে অর্থের বিষয়ে খোঁজ নিতে দেখা যায়। কর্মচারীদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, বিপ্লব মুঠোফোনে তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন।
শেরপুর বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি কায়ছার আহাম্মেদ ফারুক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন কবির মোরাদ বলেন, বিপ্লব পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ না করে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, তিনি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা হওয়ায় সবার সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপ্লব অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালটি দখল করে নেওয়া হয়েছে। জীবনের নিরাপত্তার কারণে তিনি সেখানে যাচ্ছেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি। বর্তমান তত্ত্বাবধানে থাকা ব্যক্তিদের কাছে হাসপাতাল বিক্রির টাকা চেয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।
শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল দখলের কোনো ঘটনা তারা পাননি। হাসপাতালটি চালু রয়েছে এবং বিপ্লব অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বর্তমানে অনুপস্থিত রয়েছেন, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংকটকালীন হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মবিনা ফেরদৌস বলেন, কর্মচারী ও রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল খোলা রাখা হয়েছে। তিনি ফিরে এলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
হাসপাতালের মালিকানা, আর্থিক দায় ও পাওনার প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এবং আর্থিক দায়-দেনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



















