ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্গাপূজা ও উপনির্বাচন নিয়ে এসপির সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর সাক্ষাৎ লালপুরে তিন বিঘা ধানে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ক্ষতির দাবি ২ লাখ টাকা লালপুরে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে তিনজন আটক, চার মোবাইল জব্দ ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে জিয়ার পথ অনুসরণের কথা বললেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারে বাধা, এলজিইডি কর্মকর্তাকে হুমকির অভিযোগ; জেলহাজতে ঠিকাদার দেবীগঞ্জে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণে বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ প্রমীলা কাবাডি শুরু বাগাতিপাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড পূজার মৌসুমেও মন্দা জামনগরের শাঁখার ব্যবসায়, দুশ্চিন্তাই শাঁখারী পল্লীর কারিগররা দফা বাড়তে বাড়তে এক দফা কেন, প্রশ্ন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

দেবীগঞ্জে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণে বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

মো. কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

Debiganj

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেবীগঞ্জে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণে বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, ভাউচার সংরক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের সূত্র ধরে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া এমএস স্যানিটারির ১১৬২ নম্বর ভাউচারটি প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলমের হাতে লেখা। ভাউচারটির সত্যতা যাচাই করতে বিদ্যালয়ে গিয়ে মূল ভাউচারের কার্বন কপি খুঁজে পাওয়া যায়নি। কার্বন কপির নির্ধারিত স্থানে পাতা ফাঁকা রয়েছে।

প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জমা দেওয়া ১০টি ভাউচার পর্যালোচনায় মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ১৬১ টাকা। সে হিসাবে ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা অব্যয়িত থাকার কথা।

অন্যদিকে, বরাদ্দে ঘাটতি দেখিয়ে একটি প্রজেক্টর কেনার জন্য বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বরাদ্দের ঘাটতি থাকায় প্রজেক্টর কেনার জন্য বিদ্যালয় তহবিল থেকে প্রধান শিক্ষককে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অব্যয়িত অর্থ, বিদ্যালয় তহবিল থেকে নেওয়া টাকা এবং প্রকল্পের কাজে খোয়া না কেনার অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭ হাজার টাকার আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে। এতে প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি রফিকুল আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।

দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়ালিফ মন্ডল বলেন, “বরাদ্দটি আগের সময়ের হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।” জানা গেছে, ওই সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বাবুল চন্দ্র রায়।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, প্রকল্প কিংবা বিদ্যালয়ের তহবিলের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেবীগঞ্জে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণে বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দেবীগঞ্জে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণে বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, ভাউচার সংরক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের সূত্র ধরে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া এমএস স্যানিটারির ১১৬২ নম্বর ভাউচারটি প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলমের হাতে লেখা। ভাউচারটির সত্যতা যাচাই করতে বিদ্যালয়ে গিয়ে মূল ভাউচারের কার্বন কপি খুঁজে পাওয়া যায়নি। কার্বন কপির নির্ধারিত স্থানে পাতা ফাঁকা রয়েছে।

প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জমা দেওয়া ১০টি ভাউচার পর্যালোচনায় মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ১৬১ টাকা। সে হিসাবে ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা অব্যয়িত থাকার কথা।

অন্যদিকে, বরাদ্দে ঘাটতি দেখিয়ে একটি প্রজেক্টর কেনার জন্য বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বরাদ্দের ঘাটতি থাকায় প্রজেক্টর কেনার জন্য বিদ্যালয় তহবিল থেকে প্রধান শিক্ষককে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অব্যয়িত অর্থ, বিদ্যালয় তহবিল থেকে নেওয়া টাকা এবং প্রকল্পের কাজে খোয়া না কেনার অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭ হাজার টাকার আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে। এতে প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি রফিকুল আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।

দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়ালিফ মন্ডল বলেন, “বরাদ্দটি আগের সময়ের হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।” জানা গেছে, ওই সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বাবুল চন্দ্র রায়।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, প্রকল্প কিংবা বিদ্যালয়ের তহবিলের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।