ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান রাজশাহীতে অনুমোদনহীন বিদেশি চকলেট-লজেন্স বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা বাগাতিপাড়ায় হত্যা-ডাকাতি মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন, একজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে পবা হাইওয়ে থানা-সওজের যৌথ অভিযান সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাউয়েটে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন বাগাতিপাড়ায় অসহায় শাহাদাতের পরিবারের পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাগাতিপাড়ায় টিভির প্লাগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু লালপুরে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, থানায় মামলা ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন পঞ্চগড় হাসপাতালের বেডে শি/শুকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টার অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগীকে গ্রেপ্তার

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাড়কাঁপানো শীত: গভীর রাতে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে ইউএনও

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাড়কাঁপানো শীত: গভীর রাতে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে ইউএনও

গারো পাহাড়ের পাদদেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সাধারণ মানুষ। টানা প্রায় ১৫ দিনের কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাতে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, এতিমখানা ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও শীতার্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করছেন ইউএনও। জরাজীর্ণ ঘরে শুয়ে থাকা শতাধিক অসহায় মানুষের গায়ে তিনি নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর রাতে ঘন কুয়াশায় যখন দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত কমে আসে, তখন ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল প্রকৃত শীতার্ত ও সম্বলহীন মানুষদের খুঁজে খুঁজে বের করেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রহীন এসব মানুষের জন্য একটি কম্বলই যেন এখন বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন।

ইউএনও’র এমন আকস্মিক ও মানবিক উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। তারা বলেন, “এত গভীর রাতে প্রশাসনের একজন বড় কর্মকর্তা আমাদের মতো অসহায় মানুষের খোঁজ নেবেন—এটা কখনো কল্পনাও করিনি।”

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা। এই তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন সরাসরি ও মানবিক উদ্যোগ অসহায় মানুষের মাঝে নতুন করে সাহস ও ভরসা জুগিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষদেরও শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাড়কাঁপানো শীত: গভীর রাতে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে ইউএনও

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাড়কাঁপানো শীত: গভীর রাতে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে ইউএনও

গারো পাহাড়ের পাদদেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সাধারণ মানুষ। টানা প্রায় ১৫ দিনের কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাতে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, এতিমখানা ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও শীতার্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করছেন ইউএনও। জরাজীর্ণ ঘরে শুয়ে থাকা শতাধিক অসহায় মানুষের গায়ে তিনি নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর রাতে ঘন কুয়াশায় যখন দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত কমে আসে, তখন ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল প্রকৃত শীতার্ত ও সম্বলহীন মানুষদের খুঁজে খুঁজে বের করেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রহীন এসব মানুষের জন্য একটি কম্বলই যেন এখন বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন।

ইউএনও’র এমন আকস্মিক ও মানবিক উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। তারা বলেন, “এত গভীর রাতে প্রশাসনের একজন বড় কর্মকর্তা আমাদের মতো অসহায় মানুষের খোঁজ নেবেন—এটা কখনো কল্পনাও করিনি।”

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা। এই তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন সরাসরি ও মানবিক উদ্যোগ অসহায় মানুষের মাঝে নতুন করে সাহস ও ভরসা জুগিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষদেরও শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।