রাজশাহী নগরীতে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী নগরীতে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
ককটেল বিস্ফোরণ, কার্যালয়ে ভাঙচুর—অভ্যন্তরীণ কোন্দলে উত্তেজনা
রাজশাহী নগরীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শুক্রবার রাত আটটায় ওয়ার্ড কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচার-পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সদ্য বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর রুহুল আমিন টুনু, রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ ওয়ার্ডের অন্যান্য নেতারা।
কিন্তু ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রকিব উদ্দিন টুটুল ও তার অনুসারীরা টুনুর উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা সভাস্থলে গিয়ে টুনুকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং গালাগাল করেন। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে টুটুলপক্ষ দলীয় কার্যালয়ের দরজা ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে টুনু ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রুবেলের সমর্থকরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, ফলে টুটুলপক্ষ পিছু হটে। কিছুক্ষণ পর কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
টুটুলপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ শাসনামলে টুনু কাউন্সিলর হিসেবে সুবিধাভোগ করেছেন এবং দুঃসময়ে বিএনপির পাশে ছিলেন না। তারা তাকে “বসন্তের কোকিল” আখ্যা দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমিন টুনু বলেন, তিনি কখনো আওয়ামী লীগে যোগ দেননি। বরং তৎকালীন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি সবসময় বিএনপির দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করেন।
ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রুবেল জানান, তারা কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে পুরো ঘটনার বিবরণ লিখিতভাবে মহানগর বিএনপিকে দিয়েছেন। তার দাবি—বিনা উসকানিতে টুটুলপক্ষ হামলা চালিয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসি হাবিবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির সমর্থিত ১৭ কাউন্সিলরকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুপারিশে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়। গত ২৪ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান।




















