সিংড়ায় উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত রক্তাক্ত মরদেহটির পরিচয় সনাক্ত!
- আপডেট সময় : ০১:১৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩ ২৪১ বার পড়া হয়েছে

সিংড়ায় উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত রক্তাক্ত মরদেহটির পরিচয় সনাক্ত!
খলিল মাহমুদ সিংড়াঃ
সিংড়ায় উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত রক্তাক্ত মরদেহটির পরিচয় সনাক্ত! রবিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নাটোরের সিংড়া থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত রক্তাক্ত মরদেহটির ফিংগার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহটি পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের খয়খাট পাড়া, বাবুয়ানী জোত গ্রামের হাসেন আলীর ৫৫ বছর বয়সী ছেলে নুর ইসলাম। স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকালে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের জামতলী এলাকায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখ মোবাইল ফোনে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নাটোর হাইওয়ে পুলিশ, সিংড়া থানা পুলিশ ও পিবিআই নাটোর এসে তার পরিচয় সনাক্ত করে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নাটোর হাইওয়ে ও সিংড়া থানা পুলিশ জানায়, রোববার সকালে উপজেলার জামতলি এলাকায় মহাসড়কের পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে জামতলী বাজার সংলগ্ন একটি স মিলের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরৎহাল প্রতিবেদন তৈরী করে। পরে তার পরিচয় সনাক্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নাটোর কে খবর দেয়া হয়। পিবিআই নাটোর কার্যালয়ের ইন্সপেক্টর ফরিদের নের্তৃত্বে ইন্সপেক্টর নাসির সাব ইন্সপেক্টর সাইদুর সাব ইন্সপেক্টর মাহাফুজ ও এএসআই ঈমাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহত ব্যক্তির হাতের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে তার পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হলে পরিবারের লোকজন সিংড়ার উদ্দ্যশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম মরদেহটির সুরৎহাল শেষে জানান, নিহত নুর ইসলামের পরনে লুঙ্গি, গায়ে ধূসর রঙের জামা, মুখে কাঁচাপাকা দাড়ি এবং সাথে একটি লুঙ্গি ও একটি গামছা আছে। নিহতের মাথার বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন ও গলায় আচরের দাগ রয়েছে এবং তার বাম কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, এই নুর ইসলাম গত ১০ মাস আগে একটি ট্রাক কিনে সেই ট্রাকে ড্রাইভার রেখে তিনি নিজেই হেলপারের কাজ করতেন। বর্তমানে ট্রাক ও ট্রাকের ড্রাইভার নিখোঁজ রয়েছে। এমনকি ড্রাইভারের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকান্ড। মরদেহটি থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের সদ্যসরা এলে তারা সরেজমিনে পরিচয় সনাক্ত করার পর আগামীকাল সোমবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নুর ইসলামের মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে বলে বলেন এই পুলিশ অফিসার।
এদিকে নিহত নুর ইসলামের ভাতিজা মোঃ মিজানুর রহমান মুঠোফোনে চ্যানেল এ নিউজকে জানান, তার চাচা প্রায় ১১দিন আগে ভাড়া নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন। শনিবার রাতেও তার চাচীর সাথে কথা বলেছেন তিনি। রোববার তার চাচার বাড়িতে ফেরার কথাছিল। কিন্তু এদিন দুপুরে তেঁতুলিয়া থেকে তাদের খবর দেওয়া হয় যে নাটোরের সিংড়া থানা তার চাচা নুর ইসলামের লাশ উদ্ধার করেছে। খবর পেয়ে তারা পরিবারের লোকজন সিংড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলেও জানান তিনি।



















