ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত ঝিনাইগাতীর এস এম নূর-মোহাম্মদ রামেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭ দালালের কারাদণ্ড রাজশাহীতে আমবাগান থেকে ১৬ ককটেল ও পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার রাজশাহী মেডিকেলে ৫ দিনে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৩০ শিবগঞ্জে ছিনিয়ে নেওয়া ১১ মাসের শিশু ৩৬ ঘণ্টায় উদ্ধার, দম্পতি গ্রেপ্তার গোদাগাড়ীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ঝিনাইগাতী সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ গোমস্তাপুরের রামদাস বিল সাজাতে ১ হাজার ৫০০ তালগাছ বাগাতিপাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে মাদকসেবীর ৩ মাসের কারাদণ্ড শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারির মামলায় ১০ ডিলারসহ ১৫ জন কারাগারে

ঈদে স্পেশাল ট্রেন পাচ্ছে না রাজশাহী!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩ ২১৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী পাবেনা স্পেশাল ট্রেন

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদে স্পেশাল ট্রেন পাচ্ছে না রাজশাহী!

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদে স্পেশাল ট্রেন পাচ্ছে না রাজশাহী! প্রতিবারের মতো বাংলাদেশ রেলওয়ে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের ঈদে নয় জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে। তবে সেই স্পেশাল ট্রেনের একটিও পাচ্ছে না রাজশাহী। শুধু রাজশাহীই নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন অন্য দুই বিভাগীয় শহরের (রংপুর ও খুলনা) কেউই পায়নি বিশেষ ট্রেন। শুধুমাত্র রেলমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড় ও ঢাকা-চিলাহাটি রুটে দুইটি বিশেষ ট্রেন চলবে। এর আগে গত ২২ মার্চ রাজধানীর রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ঈদে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এমপি। সেই সিদ্ধান্তে বিশেষ ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ, পঞ্চগড় ও চিলাহাটি রুটে চলবে। এছাড়া অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য মোট ২১৮টি (পূর্বাঞ্চল ১১৬টি ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে ১০২টি) লোকোমোটিভ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে স্পেশাল ট্রেন না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার।

রেল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সামাজিক ও সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে বারবার এমন বৈষম্যের নিন্দাও জানিয়েছেন তারা। দাবি জানিয়েছেন অবিলম্বে এই বিশেষ ট্রেন চালুর। অন্যথায় শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহী থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্যান্য চাকরিজীবীদেরও নিরাপদ ঈদ যাত্রা হুমকিতে পড়তে পারে বলে মত তাদের।
সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। শিক্ষানগরী হিসেবে এই ট্রেনের ব্যবস্থা যদি না নেয় তাহলে বৈষম্য করছে। রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ অন্যান্য অফিস-আদালতের যারা এখানে চাকরি করে তাদের জন্য অবশ্যই এই বিশেষ ট্রেন দেওয়া উচিত। যদি এই ট্রেন না দেওয়া হয় তাহলে রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করবে তারা। আমি এই ব্যবস্থার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সঙ্গে অবিলম্বে একটা বিশেষ ট্রেন চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজশাহী সবসময় একটা ভালো ভূমিকা রাখে। সুতরাং রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা দায়িত্বে আছে, তাদের প্রতি একটা আহ্বান রাখছি, অবিলম্বে শুধু এই ট্রেন না অন্যান্য বিষয়েও যে বৈষম্য হয় সেগুলো তারা বিবেচনা করবে। তা না হলে কেন এই বৈষম্য বারবার রাজশাহীর মানুষ বহন করবে? এটা তো হতে পারে না। বিভিন্ন দলের রাজশাহীর কেন্দ্রীয় নেতা যারা আছেন তাদের জায়গা থেকে এই ভূমিকাটা পালন করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, রাজশাহীতে ঈদ স্পেশাল ট্রেন না থাকার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না আমি। যদি এই রুটে ট্রেন না দিয়ে থাকে তবে অবশ্যই দুঃখজনক। কেননা রাজশাহী অঞ্চলের প্রচুর লোকজন চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকে। এই সুযোগটা যদি তারা না পায় তাহলে রেল পশ্চিমাঞ্চলের জিএম ব্যর্থ। এতো বহুল প্রচলিত ট্রেন কেন রাজশাহী রুটে থাকবে না? উনি ট্রেন না দিয়ে থাকলে রাজশাহীবাসীর সঙ্গে চরম অন্যায় ও প্রতারণা করবেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন বলেন, রাজশাহী তো এখনো অবহেলিত ও বঞ্চিত নগরী। সমগ্র উত্তরাঞ্চলই বঞ্চনার শিকার। গত ২০ বছরে আমরা যদি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব ধরি, মেগা প্রকল্পের হিসাব ধরি, একনেকে গত ২০ বছরে যতো প্রকল্প পাশ হয়েছে তা যদি জেলাভিত্তিক বন্টন করা হয়, দেখা যাবে সবচেয়ে অবহেলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের এইসব জেলা। এটা একটা বঞ্ছনার শিকার, অন্যতম কারণ হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে একতা নেই। একতাবদ্ধ হয়ে তারা এলাকার উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে না। কাজেই রেলের যে ঘটনা তার চেয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। তিনি আরো বলেন, এখানকার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি দায় বদ্ধতার অভাব। তারা সেইভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে না। আরও বেশি সংখ্যক রেল চালু হওয়া দরকার, রাস্তার যোগাযোগ আরও উন্নত হওয়া দরকার। বড় বড় লেন হয়ে যাচ্ছে, সারাদেশের সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন দূর অঞ্চলের যোগাযোগে বিপ্লবী পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু রাজশাহীর যোগাযোগটা ক্ষীণ হচ্ছে, রেলের ব্যাপারেও নজর নেই। অনেক নব্য ধনী হয়েছে তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে এয়ারপোর্টের উন্নয়ন, মানুষের প্রতি তাদের অবহেলারই নজির। অবিলম্বে এই বিশেষ ট্রেন আরও বেশি করে করা দরকার, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপটা দরকার।
রেলমন্ত্রীর নিজ এলাকায় ঈদ স্পেশাল ট্রেনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনাকে একটা ধন্যবাদ দিতে হয় যে, উনি উনার অবহেলিত এলাকার ট্রেন যোগাযোগটা উন্নত করছেন, এটা ভালো, হোক। কিন্তু রাজশাহী একটা বিভাগীয় শহর, এখানে তো অবহেলিত হতে পারে না। বিশেষ ট্রেন থাকা উচিত।

এ ব্যাপারে রেল পশ্চিমাঞ্চলের জিএম অসীম কুমার তালুকদার বলেন, আসন্ন ঈদে রেল পশ্চিমাঞ্চলের জন্য দুইটি স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ হয়েছে। একটি পঞ্চগড় ও অন্যটি চিলাহাটি-ঢাকা রুটে চলবে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে কোনো বিশেষ ট্রেন থাকছে না। বিশেষ ট্রেন না রাখার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিষয়টি যাত্রীর ডিমান্ডের ওপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমাদের কাছে ডাটা আছে, কোন জায়গায় যাত্রী বেশি যাচ্ছে, সেটা রিসার্চ করা হয়, কোন এলাকার লোক বেশি উপকৃত হবে, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজশাহী-ঢাকা রুটে তো চারটা ট্রেন, চারটাই ইন্টারসিটি। ঈদে এসবে একটা-দু’টা করে কোচ বাড়ানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঈদে স্পেশাল ট্রেন পাচ্ছে না রাজশাহী!

আপডেট সময় : ০২:৫০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩

ঈদে স্পেশাল ট্রেন পাচ্ছে না রাজশাহী!

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদে স্পেশাল ট্রেন পাচ্ছে না রাজশাহী! প্রতিবারের মতো বাংলাদেশ রেলওয়ে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের ঈদে নয় জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে। তবে সেই স্পেশাল ট্রেনের একটিও পাচ্ছে না রাজশাহী। শুধু রাজশাহীই নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন অন্য দুই বিভাগীয় শহরের (রংপুর ও খুলনা) কেউই পায়নি বিশেষ ট্রেন। শুধুমাত্র রেলমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড় ও ঢাকা-চিলাহাটি রুটে দুইটি বিশেষ ট্রেন চলবে। এর আগে গত ২২ মার্চ রাজধানীর রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ঈদে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এমপি। সেই সিদ্ধান্তে বিশেষ ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ, পঞ্চগড় ও চিলাহাটি রুটে চলবে। এছাড়া অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য মোট ২১৮টি (পূর্বাঞ্চল ১১৬টি ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে ১০২টি) লোকোমোটিভ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে স্পেশাল ট্রেন না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার।

রেল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সামাজিক ও সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে বারবার এমন বৈষম্যের নিন্দাও জানিয়েছেন তারা। দাবি জানিয়েছেন অবিলম্বে এই বিশেষ ট্রেন চালুর। অন্যথায় শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহী থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্যান্য চাকরিজীবীদেরও নিরাপদ ঈদ যাত্রা হুমকিতে পড়তে পারে বলে মত তাদের।
সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। শিক্ষানগরী হিসেবে এই ট্রেনের ব্যবস্থা যদি না নেয় তাহলে বৈষম্য করছে। রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ অন্যান্য অফিস-আদালতের যারা এখানে চাকরি করে তাদের জন্য অবশ্যই এই বিশেষ ট্রেন দেওয়া উচিত। যদি এই ট্রেন না দেওয়া হয় তাহলে রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করবে তারা। আমি এই ব্যবস্থার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সঙ্গে অবিলম্বে একটা বিশেষ ট্রেন চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজশাহী সবসময় একটা ভালো ভূমিকা রাখে। সুতরাং রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা দায়িত্বে আছে, তাদের প্রতি একটা আহ্বান রাখছি, অবিলম্বে শুধু এই ট্রেন না অন্যান্য বিষয়েও যে বৈষম্য হয় সেগুলো তারা বিবেচনা করবে। তা না হলে কেন এই বৈষম্য বারবার রাজশাহীর মানুষ বহন করবে? এটা তো হতে পারে না। বিভিন্ন দলের রাজশাহীর কেন্দ্রীয় নেতা যারা আছেন তাদের জায়গা থেকে এই ভূমিকাটা পালন করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, রাজশাহীতে ঈদ স্পেশাল ট্রেন না থাকার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না আমি। যদি এই রুটে ট্রেন না দিয়ে থাকে তবে অবশ্যই দুঃখজনক। কেননা রাজশাহী অঞ্চলের প্রচুর লোকজন চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকে। এই সুযোগটা যদি তারা না পায় তাহলে রেল পশ্চিমাঞ্চলের জিএম ব্যর্থ। এতো বহুল প্রচলিত ট্রেন কেন রাজশাহী রুটে থাকবে না? উনি ট্রেন না দিয়ে থাকলে রাজশাহীবাসীর সঙ্গে চরম অন্যায় ও প্রতারণা করবেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন বলেন, রাজশাহী তো এখনো অবহেলিত ও বঞ্চিত নগরী। সমগ্র উত্তরাঞ্চলই বঞ্চনার শিকার। গত ২০ বছরে আমরা যদি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব ধরি, মেগা প্রকল্পের হিসাব ধরি, একনেকে গত ২০ বছরে যতো প্রকল্প পাশ হয়েছে তা যদি জেলাভিত্তিক বন্টন করা হয়, দেখা যাবে সবচেয়ে অবহেলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের এইসব জেলা। এটা একটা বঞ্ছনার শিকার, অন্যতম কারণ হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে একতা নেই। একতাবদ্ধ হয়ে তারা এলাকার উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে না। কাজেই রেলের যে ঘটনা তার চেয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। তিনি আরো বলেন, এখানকার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি দায় বদ্ধতার অভাব। তারা সেইভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে না। আরও বেশি সংখ্যক রেল চালু হওয়া দরকার, রাস্তার যোগাযোগ আরও উন্নত হওয়া দরকার। বড় বড় লেন হয়ে যাচ্ছে, সারাদেশের সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন দূর অঞ্চলের যোগাযোগে বিপ্লবী পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু রাজশাহীর যোগাযোগটা ক্ষীণ হচ্ছে, রেলের ব্যাপারেও নজর নেই। অনেক নব্য ধনী হয়েছে তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে এয়ারপোর্টের উন্নয়ন, মানুষের প্রতি তাদের অবহেলারই নজির। অবিলম্বে এই বিশেষ ট্রেন আরও বেশি করে করা দরকার, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপটা দরকার।
রেলমন্ত্রীর নিজ এলাকায় ঈদ স্পেশাল ট্রেনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনাকে একটা ধন্যবাদ দিতে হয় যে, উনি উনার অবহেলিত এলাকার ট্রেন যোগাযোগটা উন্নত করছেন, এটা ভালো, হোক। কিন্তু রাজশাহী একটা বিভাগীয় শহর, এখানে তো অবহেলিত হতে পারে না। বিশেষ ট্রেন থাকা উচিত।

এ ব্যাপারে রেল পশ্চিমাঞ্চলের জিএম অসীম কুমার তালুকদার বলেন, আসন্ন ঈদে রেল পশ্চিমাঞ্চলের জন্য দুইটি স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ হয়েছে। একটি পঞ্চগড় ও অন্যটি চিলাহাটি-ঢাকা রুটে চলবে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে কোনো বিশেষ ট্রেন থাকছে না। বিশেষ ট্রেন না রাখার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিষয়টি যাত্রীর ডিমান্ডের ওপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমাদের কাছে ডাটা আছে, কোন জায়গায় যাত্রী বেশি যাচ্ছে, সেটা রিসার্চ করা হয়, কোন এলাকার লোক বেশি উপকৃত হবে, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজশাহী-ঢাকা রুটে তো চারটা ট্রেন, চারটাই ইন্টারসিটি। ঈদে এসবে একটা-দু’টা করে কোচ বাড়ানো হবে।