ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাণীশংকৈলে ক্লাস বন্ধ রেখে ‘ক্লাস পার্টি’, ক্ষোভ অভিভাবকদের লিবিয়ায় অপহৃত নওগাঁর প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যুর খবর, আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন গোদাগাড়ীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস ও তিন দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন ইসলামী ব্যাংক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন রাজশাহীতে কার্যক্রম নি ষি দ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল সিংড়ায় নিখোঁজের ২২ দিন বৃদ্ধার বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে-পুত্রবধূ লালপুরের পদ্মা নদীতে স্পিডবোটে মিলল বাগাতিপাড়ার ঝড়ুর গু লি বি দ্ধ মরদেহ, পদ্মায় বালুমহল নিয়ে সং ঘ র্ষে নিহত নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা করাতে এসে ধ/র্ষ/ণে/র শিকার মা, ৩ সুইপার আটক বাগাতিপাড়ায় সরকারি রাস্তার ইট তুলে অন্য রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় দুই বছরেও শেষ হয়নি চার সড়কের সংস্কার কাজ, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অগাস্ট ২০২২ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি!

এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি! সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে তালন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে নিয়মিত অফিস করেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমানসহ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্টাফরা। রোগীদের সাথে র্দুব্যবহার, স্বাস্থ্য ভবন পরিষ্কার না করা, রোগীদের ওষুধপত্র না দিয়ে ফেরত পাঠানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে।

তালন্দ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে তালন্দ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না ইউনিয়নবাসী। ফলে বাধ্য হয়েই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এলাকার এসব মানুষের আয় সামান্য হওয়ায় অনেকেই এতো দূরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন না। ফলে অসুস্থ ও অপুষ্টির কারনে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য। ইউনিয়নবাসির এমন অভিযোগে প্রেক্ষিতে গত রোববার (৭ আগস্ট) তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি বিভাগে গিয়ে যায়, তালন্দ ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বর চিকিৎসক ডা. মিজানুর রোগী দেখছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি কোথায় দায়িত্বে আছেন এমন প্রশ্নের জনাবে তিনি তড়িঘড়ি চেয়ার থেকে পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ায় সাথে সাথে রোগী না দেখে বহি বিভাগ থেকে বের হয়ে যান। তার পর কথা হয় ডা. মিজানুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তেমন রোগী হয় না। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি বিভাগে রোগী দেখি। তিনি সংবাদ না করার জন্য অনুরোধ করেন। আর তালাবদ্ধ থাকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যতক্ষণ খোলা থাকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলে রোগীদের সাথে এখানকার ডাক্তার ও স্টাফরা খুবই খারাপ ব্যবহার করে।

চিকিৎসা নিতে আসা এক গৃহবধূ বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওষুধ না থাকলে বুঝিয়ে বললেই হয়। কিন্তু তারা রোগীদের সাথে চাকরের মতো আরচণ করে। ডাক্তারকে ঠিকমতো দেখাতে পারিনা। মুখে শুনেই ফার্মাসিস্ট দু-একটা ওষুধ দেয়। ডাক্তার অফিসে ঠিক মতো আসে না। আর বেলা ১১টায় আসলেও অাধা ঘন্টার মধ্যে চলে যায়। এতে হঠাৎ কেউ কোন রোগে আক্রান্ত হলে আর উপায় থাকে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিয়ে যেতে হয় তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা-না-হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

তিনি আরো বলেন, যদি যেকোন ব্যাপারে হাসপাতাল নিয়ে যেতে হয়, তাহলে এতো টাকা দিয়ে সরকার বিল্ডিং আর এতোগুলো মানুষ রেখেছে কেন? তাদের কি কোন কাজ নেই? নাকি সরকারি চাকুরি বলে এভাবে দায়িত্বে অবহেলা করে তারা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, এই এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত) স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাকিমের কাছে ডা. মিজানুর রহমানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকট রয়েছে। প্রয়োজন পড়ায় ডা. মিজানুর রহমানকে এখানে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি!

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অগাস্ট ২০২২

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি!

এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি! সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে তালন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে নিয়মিত অফিস করেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমানসহ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্টাফরা। রোগীদের সাথে র্দুব্যবহার, স্বাস্থ্য ভবন পরিষ্কার না করা, রোগীদের ওষুধপত্র না দিয়ে ফেরত পাঠানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে।

তালন্দ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে তালন্দ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না ইউনিয়নবাসী। ফলে বাধ্য হয়েই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এলাকার এসব মানুষের আয় সামান্য হওয়ায় অনেকেই এতো দূরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন না। ফলে অসুস্থ ও অপুষ্টির কারনে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য। ইউনিয়নবাসির এমন অভিযোগে প্রেক্ষিতে গত রোববার (৭ আগস্ট) তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি বিভাগে গিয়ে যায়, তালন্দ ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বর চিকিৎসক ডা. মিজানুর রোগী দেখছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি কোথায় দায়িত্বে আছেন এমন প্রশ্নের জনাবে তিনি তড়িঘড়ি চেয়ার থেকে পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ায় সাথে সাথে রোগী না দেখে বহি বিভাগ থেকে বের হয়ে যান। তার পর কথা হয় ডা. মিজানুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তেমন রোগী হয় না। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি বিভাগে রোগী দেখি। তিনি সংবাদ না করার জন্য অনুরোধ করেন। আর তালাবদ্ধ থাকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যতক্ষণ খোলা থাকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলে রোগীদের সাথে এখানকার ডাক্তার ও স্টাফরা খুবই খারাপ ব্যবহার করে।

চিকিৎসা নিতে আসা এক গৃহবধূ বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওষুধ না থাকলে বুঝিয়ে বললেই হয়। কিন্তু তারা রোগীদের সাথে চাকরের মতো আরচণ করে। ডাক্তারকে ঠিকমতো দেখাতে পারিনা। মুখে শুনেই ফার্মাসিস্ট দু-একটা ওষুধ দেয়। ডাক্তার অফিসে ঠিক মতো আসে না। আর বেলা ১১টায় আসলেও অাধা ঘন্টার মধ্যে চলে যায়। এতে হঠাৎ কেউ কোন রোগে আক্রান্ত হলে আর উপায় থাকে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিয়ে যেতে হয় তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা-না-হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

তিনি আরো বলেন, যদি যেকোন ব্যাপারে হাসপাতাল নিয়ে যেতে হয়, তাহলে এতো টাকা দিয়ে সরকার বিল্ডিং আর এতোগুলো মানুষ রেখেছে কেন? তাদের কি কোন কাজ নেই? নাকি সরকারি চাকুরি বলে এভাবে দায়িত্বে অবহেলা করে তারা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, এই এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত) স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাকিমের কাছে ডা. মিজানুর রহমানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকট রয়েছে। প্রয়োজন পড়ায় ডা. মিজানুর রহমানকে এখানে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।