ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি!
- আপডেট সময় : ০৫:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অগাস্ট ২০২২ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি!
এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত তালন্দবাসি! সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে তালন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে নিয়মিত অফিস করেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমানসহ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্টাফরা। রোগীদের সাথে র্দুব্যবহার, স্বাস্থ্য ভবন পরিষ্কার না করা, রোগীদের ওষুধপত্র না দিয়ে ফেরত পাঠানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে।
তালন্দ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে তালন্দ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না ইউনিয়নবাসী। ফলে বাধ্য হয়েই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এলাকার এসব মানুষের আয় সামান্য হওয়ায় অনেকেই এতো দূরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন না। ফলে অসুস্থ ও অপুষ্টির কারনে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য। ইউনিয়নবাসির এমন অভিযোগে প্রেক্ষিতে গত রোববার (৭ আগস্ট) তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি বিভাগে গিয়ে যায়, তালন্দ ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বর চিকিৎসক ডা. মিজানুর রোগী দেখছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি কোথায় দায়িত্বে আছেন এমন প্রশ্নের জনাবে তিনি তড়িঘড়ি চেয়ার থেকে পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ায় সাথে সাথে রোগী না দেখে বহি বিভাগ থেকে বের হয়ে যান। তার পর কথা হয় ডা. মিজানুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তেমন রোগী হয় না। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি বিভাগে রোগী দেখি। তিনি সংবাদ না করার জন্য অনুরোধ করেন। আর তালাবদ্ধ থাকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যতক্ষণ খোলা থাকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলে রোগীদের সাথে এখানকার ডাক্তার ও স্টাফরা খুবই খারাপ ব্যবহার করে।
চিকিৎসা নিতে আসা এক গৃহবধূ বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওষুধ না থাকলে বুঝিয়ে বললেই হয়। কিন্তু তারা রোগীদের সাথে চাকরের মতো আরচণ করে। ডাক্তারকে ঠিকমতো দেখাতে পারিনা। মুখে শুনেই ফার্মাসিস্ট দু-একটা ওষুধ দেয়। ডাক্তার অফিসে ঠিক মতো আসে না। আর বেলা ১১টায় আসলেও অাধা ঘন্টার মধ্যে চলে যায়। এতে হঠাৎ কেউ কোন রোগে আক্রান্ত হলে আর উপায় থাকে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিয়ে যেতে হয় তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা-না-হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
তিনি আরো বলেন, যদি যেকোন ব্যাপারে হাসপাতাল নিয়ে যেতে হয়, তাহলে এতো টাকা দিয়ে সরকার বিল্ডিং আর এতোগুলো মানুষ রেখেছে কেন? তাদের কি কোন কাজ নেই? নাকি সরকারি চাকুরি বলে এভাবে দায়িত্বে অবহেলা করে তারা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, এই এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত) স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাকিমের কাছে ডা. মিজানুর রহমানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকট রয়েছে। প্রয়োজন পড়ায় ডা. মিজানুর রহমানকে এখানে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
















