লিবিয়ায় অপহৃত নওগাঁর প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যুর খবর, আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন
- আপডেট সময় : ১০:০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

লিবিয়ায় অপহৃত নওগাঁর প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যুর খবর, আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন
আল আমিন স্বাধীন মান্দা (নওগাঁ ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী শ্রমিক আলমগীর হোসেন (৪৫) লিবিয়ায় অপহরণের শিকার হওয়ার আড়াই মাস পর তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আলমগীর হোসেন উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের ভাই ও লিবিয়াপ্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, আলমগীর ত্রিপোলির তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পান। আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রায় এক মাস আগে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের কাছ থেকে জানা যায়। সোমবার (৮ জুন) দূতাবাসের মাধ্যমে মুক্ত হওয়া কয়েকজন বাংলাদেশির কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি আলমগীরের বলে শনাক্ত করেন।
নিহত আলমগীরের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সোমবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, দ্রুত আমার স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
এদিকে আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।















