ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চারঘাটে রান্নাঘরের চুলার পাশে ৮০টির মতো বিষধর সাপ উদ্ধার বাগাতিপাড়ায় মে দিবসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা বাগাতিপাড়ায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীর ওপর হা’মলা, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট; আটক ১ গোদাগাড়ীতে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ৭ বছরের শিশুর মান্দায় গো’বর ফেলা নিয়ে বিরোধ, লা’ঠির আ/ঘাতে আহত ১ মহাদেবপুরে ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ রাণীশংকৈলে সজিনা চাষ সম্প্রসারণে রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন পঞ্চগড়ে বৃষ্টিতে টমেটোর ক্ষতি, দামে কিছুটা স্বস্তি কৃষকদের পবার টিসিবি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পণ্য পুড়ে ছাই রাজশাহীতে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু

মৃত্যুর আগে একবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অগাস্ট ২০২২ ১৫১ বার পড়া হয়েছে

ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৃত্যুর আগে একবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী!

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মৃত্যুর আগে একবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী! ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে টানা পাঁচ পাঁচ বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটে নির্বাচিত হয়েও লজ্জ্বিত সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী রায়। এবারে তিনি একবারের জন্য চান প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ।
গণমাধ্যমের মাধ্যমে মৃত্যুর আগে এটিই তার শেষ চাওয়া বলে দাবি করেছেন জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের এই নারী সদস্য।
তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে কি বলতে চান তা খোলসা করেননি।

নারী সদস্য তুফানশ্বরী রায় বলেন, জনগণ আমাকে বারবার নির্বাচিত করে ঠিকই কিন্তু জনগণের কাঙ্খিত কোন প্রত্যাশায় আমি তেমন পূরণ করতে পারিনা। আমি নির্বাচন করতে চাইনা জনগণ আমাকে নির্বাচনে বারবার অংশগ্রহণ করতে চাপ দেন। তাদের বিশ্বাস আমি তাদের সহায়ক হবো। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমি তাদের প্রত্যাশার চাওয়া পাওয়া পূররণ করতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, পরিষদের বয়স যতদিন ততদিন থেকেই আমি নির্বাচিত হয়ে সদস্যের আসনে রয়েছি। এখনো আমি শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিৎ করতে পারিনি। আংশিক করেছি মাত্র। এর জন্য নিজের জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। তাতেও আমার দুঃখ নেই। তবে কিছু আক্ষেপ আমার রয়েছে যা আমি প্রধানমন্ত্রীকেই বলতে চাই।
তিনি বলেন, আমি যেহেতু নারী, প্রধানমন্ত্রীও নারী। আমি আশা করি তিনি আমার কথাগুলো বুঝবেন। আমি মৃত্যুর আগে একবার তার সাথে দেখা করতে চাই। তিনি যেন একবার আমার কথা শোনেন।
এই নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার সাদামাটা জীবন যাপন। যে বাড়িটিতে তিনি থাকেন সেটিতে বর্ষার মেঘের পানি বিছানায় গড়ায়। ঘর থেকে আকাশ দেখা যায়। একটি ভাঙ্গা চৌকিতে ঘুমান। ঘরের আড়া ও টিনের বেড়ার দেয়ালে সূর্যের আলোর রশ্মি থেকে রেহায় পেতে ব্যবহার করেন এক টুকরো চট।

স্থানীয় জয়নাল আবেদিন বলেন, সারাটা জীবন তিনি জনগণ জনগণ করে জীবন পার করে দিচ্ছেন৷ নিজের সবটুকু দিয়ে জনগণকে আগলে ধরেছেন। যখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন তখন প্রায় বলতে শুনি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন। কিছু একটা বলতে চান প্রধানমন্ত্রীকে যা আমরা কোনদিন জানতে পারিনি৷ আমরা সকলে চাই এমন সৎ একজন নারী নেত্রীর কাছে যাক। তার কি বলার আছে বলুক৷ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারলে আমরা সকলে অনেক খুশী হবো।

মহেষ চন্দ্র রায় বলেন, তিনি এতটাই জনপ্রিয় যে তাকে ছাড়া মানুষ অন্যকাউকে চিন্তা করতে পারেনা। তাই বার বার তাকে নির্বাচিত করেন। তবে প্রতিবার নির্বাচিত হয়ে তিনি লজ্জ্বাবোধ করেন। তার ইচ্ছামতো ও জনগণের চাহিদা মতো কোনকিছুই তিনি করতে পারেননা৷ হয়তো তাই লজ্বাবোধ করেন। অনেকদিন ধরেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করতে চাচ্ছেন৷ হয়তো একবার দেখা করলে নিজেকে সার্থক মনে করবেন। আরও অনুপ্রাণিত হবেন এই নারী সদস্য।

সনেকা রায় নারী সদস্য তুফানশ্বরীর ছেলের বৌ। বলেন, বিয়ের ১৭ বছর ধরে দেখে আসছি তিনি জনগণকে নিয়ে কাজ করছেন। সকলের সমস্যা সমাধানে কাজ করেছেন। আশার শ্বাশুরি মা এতটাই সৎ মনের মানুষ যে তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা তার শেষ ইচ্ছে। আমি চাই তাকে একবার দেখা করার অনুমতি দিক আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

সূচনা রায় এবারে প্রথম ভোট দিয়েছেন। বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেন। তিনি অনেকদিন যাবৎ প্রদানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান। এটি তার স্বপ্ন হতে পারে। আবার এটা সত্য যে তিনি পরিষদ থেকে যা বরাদ্দ পান তা দিয়ে এানকার নারীদের শতভাগ উপকার করতে পারেননা৷ সেক্ষেত্রে যেহেতু আমরা তাকে ভরসা করি। নিশ্চয় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে আমাদের নারী শক্তিকে নিয়ে কথা বলবেন। আমরা চাই তার এইএকমাত্র আশা পূরণ হোক। প্রধানমন্ত্রী তার সাথে একবার হলেও কথা বলুক।

বাচোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিতেন চন্দ্র বর্মন বলেন, পাঁচবারের নির্বাচিত নারী ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী রায় তিনটি ওয়ার্ডের জনগণের একটি আস্থার নাম। পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন এভার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান। তার সাথে প্রধানমন্ত্রী দেখা করলে সে অনুপ্রাণিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মৃত্যুর আগে একবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী!

আপডেট সময় : ০২:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অগাস্ট ২০২২

মৃত্যুর আগে একবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী!

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মৃত্যুর আগে একবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী! ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে টানা পাঁচ পাঁচ বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটে নির্বাচিত হয়েও লজ্জ্বিত সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী রায়। এবারে তিনি একবারের জন্য চান প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ।
গণমাধ্যমের মাধ্যমে মৃত্যুর আগে এটিই তার শেষ চাওয়া বলে দাবি করেছেন জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের এই নারী সদস্য।
তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে কি বলতে চান তা খোলসা করেননি।

নারী সদস্য তুফানশ্বরী রায় বলেন, জনগণ আমাকে বারবার নির্বাচিত করে ঠিকই কিন্তু জনগণের কাঙ্খিত কোন প্রত্যাশায় আমি তেমন পূরণ করতে পারিনা। আমি নির্বাচন করতে চাইনা জনগণ আমাকে নির্বাচনে বারবার অংশগ্রহণ করতে চাপ দেন। তাদের বিশ্বাস আমি তাদের সহায়ক হবো। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমি তাদের প্রত্যাশার চাওয়া পাওয়া পূররণ করতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, পরিষদের বয়স যতদিন ততদিন থেকেই আমি নির্বাচিত হয়ে সদস্যের আসনে রয়েছি। এখনো আমি শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিৎ করতে পারিনি। আংশিক করেছি মাত্র। এর জন্য নিজের জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। তাতেও আমার দুঃখ নেই। তবে কিছু আক্ষেপ আমার রয়েছে যা আমি প্রধানমন্ত্রীকেই বলতে চাই।
তিনি বলেন, আমি যেহেতু নারী, প্রধানমন্ত্রীও নারী। আমি আশা করি তিনি আমার কথাগুলো বুঝবেন। আমি মৃত্যুর আগে একবার তার সাথে দেখা করতে চাই। তিনি যেন একবার আমার কথা শোনেন।
এই নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার সাদামাটা জীবন যাপন। যে বাড়িটিতে তিনি থাকেন সেটিতে বর্ষার মেঘের পানি বিছানায় গড়ায়। ঘর থেকে আকাশ দেখা যায়। একটি ভাঙ্গা চৌকিতে ঘুমান। ঘরের আড়া ও টিনের বেড়ার দেয়ালে সূর্যের আলোর রশ্মি থেকে রেহায় পেতে ব্যবহার করেন এক টুকরো চট।

স্থানীয় জয়নাল আবেদিন বলেন, সারাটা জীবন তিনি জনগণ জনগণ করে জীবন পার করে দিচ্ছেন৷ নিজের সবটুকু দিয়ে জনগণকে আগলে ধরেছেন। যখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন তখন প্রায় বলতে শুনি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন। কিছু একটা বলতে চান প্রধানমন্ত্রীকে যা আমরা কোনদিন জানতে পারিনি৷ আমরা সকলে চাই এমন সৎ একজন নারী নেত্রীর কাছে যাক। তার কি বলার আছে বলুক৷ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারলে আমরা সকলে অনেক খুশী হবো।

মহেষ চন্দ্র রায় বলেন, তিনি এতটাই জনপ্রিয় যে তাকে ছাড়া মানুষ অন্যকাউকে চিন্তা করতে পারেনা। তাই বার বার তাকে নির্বাচিত করেন। তবে প্রতিবার নির্বাচিত হয়ে তিনি লজ্জ্বাবোধ করেন। তার ইচ্ছামতো ও জনগণের চাহিদা মতো কোনকিছুই তিনি করতে পারেননা৷ হয়তো তাই লজ্বাবোধ করেন। অনেকদিন ধরেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করতে চাচ্ছেন৷ হয়তো একবার দেখা করলে নিজেকে সার্থক মনে করবেন। আরও অনুপ্রাণিত হবেন এই নারী সদস্য।

সনেকা রায় নারী সদস্য তুফানশ্বরীর ছেলের বৌ। বলেন, বিয়ের ১৭ বছর ধরে দেখে আসছি তিনি জনগণকে নিয়ে কাজ করছেন। সকলের সমস্যা সমাধানে কাজ করেছেন। আশার শ্বাশুরি মা এতটাই সৎ মনের মানুষ যে তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা তার শেষ ইচ্ছে। আমি চাই তাকে একবার দেখা করার অনুমতি দিক আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

সূচনা রায় এবারে প্রথম ভোট দিয়েছেন। বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেন। তিনি অনেকদিন যাবৎ প্রদানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান। এটি তার স্বপ্ন হতে পারে। আবার এটা সত্য যে তিনি পরিষদ থেকে যা বরাদ্দ পান তা দিয়ে এানকার নারীদের শতভাগ উপকার করতে পারেননা৷ সেক্ষেত্রে যেহেতু আমরা তাকে ভরসা করি। নিশ্চয় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে আমাদের নারী শক্তিকে নিয়ে কথা বলবেন। আমরা চাই তার এইএকমাত্র আশা পূরণ হোক। প্রধানমন্ত্রী তার সাথে একবার হলেও কথা বলুক।

বাচোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিতেন চন্দ্র বর্মন বলেন, পাঁচবারের নির্বাচিত নারী ইউপি সদস্য তুফানশ্বরী রায় তিনটি ওয়ার্ডের জনগণের একটি আস্থার নাম। পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন এভার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান। তার সাথে প্রধানমন্ত্রী দেখা করলে সে অনুপ্রাণিত হবে।