সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে দুই প্রেমিকাকে একই মণ্ডপে বিয়ে
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০২২ ১৮২ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে দুই প্রেমিকাকে একই মণ্ডপে বিয়ে
উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে দুই প্রেমিকাকে একই মণ্ডপে বিয়ে। বিয়ের আগে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক জড়িয়েছেন কোন পুরুষ -এমন খবর প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু কোনো প্রেমিক দুই প্রেমিকাকে একইসঙ্গে বিয়ে করেছেন এমন কি শুনেছেন কখনো? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের লক্ষীদ্বার এলাকায় ঘটে এই আলোড়ন সৃষ্টি করা ঘটনা।
একই দিনে, একই মন্ডপে সামাজিক সব রীতিনীতি মেনে রোহিনী চন্দ্র বর্মণ (২৫) নামে এক যুবক তার দুই প্রেমিকা ইতি রানী (২০) এবং মমতা রানী (১৮) কে বিয়ে করেছেন।
গত বুধবার (২০ এপ্রিল) বিয়ের পরে দুদিন ধরে চলেছে উৎসব। এ বিষয়ে এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। দুদিন ধরে গণমাধ্যমে ভেসে বেরাছে তাদের ছবি।
স্থানীয়রা জানান, আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের লক্ষীদ্বার গ্রামের, যামিনী চন্দ্র বর্মনের ছেলে, রোহিনী চন্দ্র বর্মণ এবং একই ইউনিয়নের গাঠিয়াপাড়া এলাকার গিরিশ চন্দ্রের মেয়ে ইতি রানীর (২০) সঙ্গে রনির প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এক পর্যায়ে তারা মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু তারা বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যে রোহিনী চন্দ্র নতুন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন লক্ষীদ্বার গ্রামের টোনোকিসর রায়ের মেয়ে মমতা রানীর (১৮) সঙ্গে। প্রেমের সূত্রে মমতা রানীর সঙ্গে গত ১২ এপ্রিল রাতে দেখা করতে যান রনি। সেখানে দুজনকে একত্রে দেখে ফেলেন মমতার পরিবারের লোকজন। আটকে রাখেন রনিকে। পরে ১৩ এপ্রিল বিয়ের ব্যবস্থা করেন তাদের। রনির বিয়ের খবর শুনে তার বাড়িতে অনশন শুরু করেন প্রথম স্ত্রী ইতি রানী। পরে বুধবার রাতে রনির বাড়িতে পূণরায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুই বিয়ে একসঙ্গে সম্পন্ন হয়। তবে এ ঘটনায় দুই পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকলেও এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
রোহিনীর বাবা যামিনী চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘দুইজনকে একসঙ্গে ঘরে তুলতে আসাদের আপত্তি ছিল না। তবে আগের বিয়ের ব্যাপারে যেহেতু জানা ছিল না, তাই নতুন করে আমি আবার বিয়ের আয়োজন করেছি।’ ইতি রানীর বাবা গিরিশ চন্দ্র বলেন, ‘আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। রোহিনীর বাড়িতে আনুষ্ঠানিক বিয়েতে আমরা তিন পরিবারের লোকজনই ছিলাম।’




















