১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি মালঞ্চি রেলস্টেশন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীণৃ্
- আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ১০১ বার পড়া হয়েছে

১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি মালঞ্চি রেলস্টেশন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীণৃ্
জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনায় অচল প্রায় ঐতিহ্যবাহী স্টেশন, বাড়ছে যাত্রী ও কৃষকদের ভোগান্তি
নাটোরের বাগাতিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী মালঞ্চি রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। মাঝে সীমিত আকারে কার্যক্রম শুরু হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে স্টেশনের কক্ষগুলোতে ঝুলছে তালা, প্ল্যাটফর্মজুড়ে জন্মেছে আগাছা ও ঝোপঝাড়। নেই প্রয়োজনীয় জনবল, সিগনাল ব্যবস্থা কিংবা কার্যকর অবকাঠামো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশনের সিগনাল ব্যবস্থার তার ও খুঁটির মতো সরঞ্জামও ধীরে ধীরে অপসারণ করা হচ্ছে। ফলে স্টেশনটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
স্টেশনটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি-এর শিক্ষার্থী, কাদিরাবাদ সেনানিবাসে কর্মরত সদস্য, স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ যাত্রীরা। ঢাকাগামী ট্রেনে যাতায়াতের জন্য অনেককে নাটোর সদর রেলস্টেশন কিংবা পাশের উপজেলার আব্দুলপুর রেল জংশন-এ যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মালঞ্চি রেলস্টেশন একসময় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ছিল। বিশেষ করে বাগাতিপাড়ায় সরাসরি বাস টার্মিনাল না থাকায় রেলপথই ছিল এলাকাবাসীর প্রধান ভরসা। তবে ২০০৩ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে স্টেশনের জনবল কমতে থাকে এবং একপর্যায়ে ২০১৩ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় স্টেশনটি।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু করা হলেও জনবল সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে শুধু চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেনটি অল্প সময়ের জন্য সেখানে থামে। তবে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে না দাঁড়িয়ে ১ নম্বর লাইনে থামে, যা প্ল্যাটফর্মবিহীন। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়।
স্টেশনের টিকিট কাউন্টার, স্টেশন মাস্টারের কক্ষ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি একসময় সংস্কার করা হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলো আবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রেলক্রসিংয়ের জন্য তিনটি লাইন থাকলেও পয়েন্টসম্যান না থাকায় বর্তমানে শুধুমাত্র মূল লাইন ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্টেশনসংলগ্ন চা দোকানি আদম আলী বলেন, “স্টেশন সচল থাকলে মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হতো, ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়ত। এখন স্টেশন প্রায় অচল থাকায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর আলী মণ্ডল ও রুহেল বলেন, “স্টেশনটি আর চালু হবে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
রেলস্টেশনের কুলি সরদার সাইদুল ইসলাম জানান, এখানে প্রায় ১৪ জন কুলি কাজ করেন। কিন্তু মাত্র একটি ট্রেন থামে এবং সেটিও প্ল্যাটফর্মে নয়। ফলে মালামাল ওঠানামায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চল থেকে সারা বছর বিভিন্ন সবজি ও মৌসুমি ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। ট্রেনই কৃষিপণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় আরও কয়েকটি ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর দাবি জানান তিনি।
পাশের আব্দুলপুর রেল জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. জামিল বলেন, “মালঞ্চি স্টেশন বন্ধ থাকায় আমাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রেন ক্রসিং পরিচালনায় সমস্যার কারণে অনেক সময় সিডিউল বিপর্যয়ও হচ্ছে।”
এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “জনবল সংকটের কারণে অনেক স্টেশনই চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন জনবল নিয়োগ হলে কিছু স্টেশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আপাতত মালঞ্চি রেলস্টেশন চালুর সম্ভাবনা নেই।”



















