পড়ালেখার খরচ জোগানোর ভ্যানটিও চুরি, দিশেহারা এসএসসি পরীক্ষার্থী তমাল
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

পড়ালেখার খরচ জোগানোর ভ্যানটিও চুরি, দিশেহারা এসএসসি পরীক্ষার্থী তমাল
কষ্ট করে জমানো টাকা ও এনজিওর ঋণে কেনা ভ্যান হারিয়ে অনিশ্চয়তায় ১৬ বছরের কিশোরের পড়াশোনা
অভাবের সংসারে নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করত ১৬ বছরের কিশোর তমাল আলী। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে কিছু টাকা জমিয়ে এবং একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিনেছিল ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান। সেই ভ্যান চালিয়েই নিজের পড়াশোনার খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করত সে। কিন্তু এক মুহূর্তের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভ্যান হারিয়ে এখন পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাবে, সেই দুশ্চিন্তায় দিশেহারা তমাল।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের নিচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তমাল নিজে বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তমাল নাটোরের লালপুর উপজেলার সালামপুর গ্রামের হারুন মণ্ডলের ছেলে। সে বাগাতিপাড়ার তকিনগর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কারিগরি শাখার এসএসসি পরীক্ষার্থী।
তমাল জানায়, বাবার অভাবের সংসারে নিজের পড়ালেখার খরচ জোগানোর পাশাপাশি পরিবারকে কিছুটা সহযোগিতা করতে সে বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা বাজারে শান্তর জ্বালানি তেলের দোকানে কাজ করত। দীর্ঘদিন কাজ করে কিছু টাকা জমায়। পরে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় আড়াই মাস আগে অটোভ্যানটি কেনে।
শুক্রবার সকালে লালপুরের সালামপুর থেকে বাউয়েটের এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাগাতিপাড়ার দয়ারামপুর বাজারে আসে তমাল। পরে দুই ব্যক্তি বেশি ভাড়া দেওয়ার কথা বলে তাকে নাটোর শহরে নিয়ে যায়।
তমালের ভাষ্য অনুযায়ী, নিচাবাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর একজন ভ্যান থেকে নেমে হারপিক কেনার কথা বলে বাজারের ভেতরে যায়। এরপর ভ্যানে থাকা অপর ব্যক্তি তমালকে হারপিক নিয়ে আসতে বলে। তমাল বাজারের ভেতরে গেলে ওই ব্যক্তি কৌশলে অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
তমাল জানায়, বাজারের ভেতরে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে না পেয়ে ভ্যানের কাছে ফিরে আসে সে। কিন্তু ততক্ষণে ভ্যানসহ অপর ব্যক্তিটিও উধাও হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির সন্ধান না পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় সে।
কষ্ট করে জমানো টাকা ও ঋণের টাকায় কেনা ভ্যানটি হারিয়ে এখন দিশেহারা তমাল। ভ্যানটি ফিরে না পেলে কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবে এবং নিজের পড়ালেখার খরচ চালাবে, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে কিশোরটি।
এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এ-সংক্রান্ত ফাইল তার কাছে গেলে বিষয়টি জেনে জানাতে পারবেন।





















