মহাদেবপুরে সংবাদ প্রকাশে প্রশাসনে তোলপাড়, নিম্নমানের ইট সরানোর নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

মহাদেবপুরে সংবাদ প্রকাশে প্রশাসনে তোলপাড়, নিম্নমানের ইট সরানোর নির্দেশ
রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তে নেমে ইউএনও’র নির্দেশনা; ১৫ হাজার ইট ব্যবহারের আগেই সরিয়ে ফেলা হচ্ছে
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদে প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই তাৎক্ষণিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে রাস্তা নির্মাণ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী হাতুড় ইউনিয়নের সাগরইল গ্রামে গিয়ে নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সড়কের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং শ্রমিকরা ইট বসানোর কাজ করছেন।
পরিদর্শনকালে শ্রমিকরা দাবি করেন, ব্যবহৃত অধিকাংশ ইট ভালো মানের এবং সেগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনা হয়েছে। তবে তদন্তে কিছু নিম্নমানের ইট আনার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এ বিষয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, প্রায় ১৫ হাজার নিম্নমানের ইট ব্যবহার না করে প্রকল্প এলাকায় আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও স্বীকার করেন, ভুলবশত অল্প কিছু নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছিল, তবে সেগুলো তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণস্থলে প্রকল্পের বিবরণ সম্বলিত সাইনবোর্ড না থাকায় ঠিকাদারকে তা দ্রুত স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সাগরইল গ্রামে ১ কিলোমিটার ১০০ মিটার এবং উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ভালাইন গ্রামে ৪০০ মিটার সড়ক এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) পদ্ধতিতে নির্মাণের জন্য মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সোহেল রানা নামে এক ঠিকাদার প্রকল্পটির কাজ তদারকি করছেন, যিনি পোরশা উপজেলার নিতপুর এলাকার ফারজানা ট্রেডার্সের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “নিম্নমানের কোনো ইট ব্যবহার করা হবে না। শ্রমিকদের ভুলে কিছু খারাপ ইট চলে এসেছিল, যা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, “প্রকল্পে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। নির্মাণ কাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।”



















