চালু হলেও বছর না ঘুরতেই কার্যত স্থবির সুলতানগঞ্জ–ময়া নৌবন্দর
- আপডেট সময় : ০৩:১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

চালু হলেও বছর না ঘুরতেই কার্যত স্থবির সুলতানগঞ্জ–ময়া নৌবন্দর
অবকাঠামো ঘাটতি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে থমকে আছে গোদাগাড়ী–মুর্শিদাবাদ নৌপথের বাণিজ্যিক কার্যক্রম
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ–ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া নৌবন্দর দীর্ঘ ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও বছর না ঘুরতেই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একাধিকবার চালুর আশ্বাস মিললেও এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ফলে স্বল্প খরচে পণ্য আমদানি ও পরিবহনের সম্ভাবনা থাকলেও সম্ভাবনাময় এই নৌবন্দরটি পড়ে আছে অচল অবস্থায়।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত না করেই ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া রুট দিয়ে কয়েক মাস পণ্য আমদানি হলেও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নৌবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
গত বছর নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর বন্দরটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংযোগ সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরের অফিস কক্ষ ও প্রাচীর নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও পূর্ণাঙ্গ বন্দর কার্যক্রম চালুর জন্য আরও ব্যাপক প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া ঘাট হয়ে পণ্য আমদানি ও পরিবহনে খরচ অন্তত ৩০ শতাংশ কমবে। এতে রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, বর্তমানে নৌপথে পানি থাকলেও বড় পরিসরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রয়োজন। মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে পদ্মা নদীর নাব্যতা কমে গেলে বড় জাহাজ চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই নৌপথ কার্যকর রাখতে পরিকল্পিত ড্রেজিং অপরিহার্য।
অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, বর্তমান নাব্যতা অনুযায়ী সুলতানগঞ্জ–ময়া নৌপথে নৌযান চলাচলে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সুলতানগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা দিনেশ কুমার সাহা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদন পাওয়া গেলে শিগগিরই বন্দরটি চালু করা সম্ভব। তবে অন্যান্য চ্যানেলে নৌযান চলাচলের জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রয়োজন হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের আগে সুলতানগঞ্জ–ময়া এবং গোদাগাড়ী–লালগোলা নৌঘাটের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু ছিল। যুদ্ধের পর রুটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাজশাহী থেকে ভারতের ধূলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার নৌপথ অনুমোদন পেলেও পদ্মার নাব্য সংকটের কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পরে সংক্ষিপ্ত করে সুলতানগঞ্জ–ময়া রুট নির্ধারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পুরোপুরি চালু করতে হলে এনবিআরের অনুমোদনের পাশাপাশি সংযোগ সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই সম্ভাবনাময় নৌবন্দরকে কার্যকর করে তুলতে।



















