পঞ্চগড়ে হোমিও দোকান থেকে বিপুল ভারতীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৭৬ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে হোমিও দোকান থেকে বিপুল ভারতীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
ভেজাল ও অবৈধ পণ্য ঔষধ হিসেবে বিক্রির অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান
পঞ্চগড়ে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে ভেজাল ও অবৈধ ভারতীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্য বিক্রির অভিযোগে সত্যেন্দ্রনাথ রায় নামে এক হোমিও চিকিৎসককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তার গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা শহরের বানিয়াপট্টি এলাকায় অবস্থিত ‘রায় হোমিও হল’ ও ‘অপুলেন্ট ই-কমার্স ইন্টারন্যাশনাল’-এর গুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ. এস. এম. মাসুম-উদ-দৌলা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. মাসুদ হাসান এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জয় চন্দ্র বর্মন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, অপুলেন্ট ই-কমার্সের প্রায় ১৩টি ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্য ঔষধ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল, যার অধিকাংশেরই কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পণ্যগুলোর গায়ে মূল্য উল্লেখ ছিল না। এছাড়া মসলা জাতীয় পণ্য হিসেবে বিক্রিত হলুদের গুড়ায় চক পাউডারের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসবসহ একাধিক অনিয়মের কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় জরিমানা আরোপ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সত্যেন্দ্রনাথ রায় দীর্ঘদিন ধরে ‘অপুলেন্ট ই-কমার্স ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্যকে ঔষধ হিসেবে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তার একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে, যারা এসব পণ্যকে সব রোগের কার্যকর ওষুধ হিসেবে প্রচার করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ. এস. এম. মাসুম-উদ-দৌলা বলেন, এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্যকে ঔষধ হিসেবে প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। তাৎক্ষণিকভাবে পণ্যগুলোর বৈধতার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ততদিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা পণ্যগুলো সিভিল সার্জনের প্রতিনিধির হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। পণ্যের মান যাচাইয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।




















