জাতীয় জরিপে লিগ্যাল এইড সচেতনতায় দেশের সেরা চারে ঠাকুরগাঁও
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় জরিপে লিগ্যাল এইড সচেতনতায় দেশের সেরা চারে ঠাকুরগাঁও
সরকারি আইনগত সহায়তা সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ের জরিপে দেশের সেরা চার জেলার একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঠাকুরগাঁও। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর) পরিচালিত ‘সচেতনতা কর্মসূচি’ বিষয়ক অনলাইন জরিপে ঠাকুরগাঁও ১৬ নম্বর অর্জন করে চতুর্থ স্থান লাভ করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এ জরিপে ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচারণা কার্যক্রম, জনগণের সম্পৃক্ততা এবং সেবা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করা হয়।
জরিপে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে কক্সবাজার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুনামগঞ্জ এবং তৃতীয় স্থানে সিরাজগঞ্জ।
জানা গেছে, সরকারি লিগ্যাল এইড সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি দপ্তর, হাট-বাজার ও গ্রাম পর্যায়ে নিয়মিত সভা-সেমিনার, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা, লিফলেট বিতরণ ও গণপ্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় দিবস ও বিশেষ কর্মসূচিতেও বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে।
সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। বর্তমানে এখান থেকে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কও অটুট থাকছে।
কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অভিযোগ গ্রহণ, মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তির হার আগের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৭১৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের আইনগত সহায়তা গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে আদালতে ২২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ৭০৩ জন বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ পেয়েছেন এবং ১৯১টি বিচারাধীন মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ১০টি সরেজমিন পরিদর্শনও করা হয়েছে।
শুধু ২০২৬ সালের জুন মাসেই ১১৪টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪টি আবেদন মীমাংসার জন্য গ্রহণ করে ৮৪টি বিরোধ সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। একই মাসে ৯৭৭ জন বিভিন্ন ধরনের আইনগত সহায়তা গ্রহণ করেন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ১০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা আদায় হয়।
আইনগত সহায়তা ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দিতে জেলার পাঁচ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইনি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে নিয়মিত আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ মজনু মিয়া বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য গর্বের এবং একই সঙ্গে দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা চাই, অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন। ভবিষ্যতেও সরকারি আইনগত সহায়তা সেবা আরও জনমুখী ও কার্যকর করতে কাজ করে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষের মধ্যে লিগ্যাল এইড সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, যাতে ঠাকুরগাঁও আগামী দিনে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারে।”



















